৬ জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৮ ‘মাদক ব্যবসায়ী’ নিহত

733

ঢাকা সংবাদদাতা: সরকারের মাদকবিরোধী অভিযানের সময় তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গতকাল শুক্রবার রাতেও দেশের ছয় জেলায় আটজন নিহত হয়েছেন বলে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এর মধ্যে কুমিল্লার দুজন, দিনাজপুরে দুজন এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি, পাবনা, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ ও চাঁদপুরের কচুয়ায় একজন করে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মোট আটজন নিহত হয়েছেন।

এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে লাগাতার ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনায় সারা দেশে ৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী। ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনার সময় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়েছে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও আহত হয়েছেন।

দিনাজপুর থেকে ফারুক হোসেন জানিয়েছেন, গতকাল রাতে সদর উপজেলা ও বীরগঞ্জ উপজেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই ‘মাদক ব্যবসায়ী’ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে র‍্যাব।

নিহতরা হলেন বীরগঞ্জের পলাশবাড়ী ইউনিয়নের নন্দাইগাঁও গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে সাবদারুল ইসলাম (৪৭) এবং সদর উপজেলার মহাব্বতপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে আবদুস সালাম (৩৬)।

র‌্যাব-১৩ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাকিব দাবি করেছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব সদস্যরা বীরগঞ্জের মরিচা ইউনিয়নের বাসুদেবপুরে অভিযান চালায়। এ সময় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সাবদারুল নিহত হন। তাঁর সহযোগী ৪/৫ জন মাদক ব্যবসায়ী পালিয়ে যান।’

ঘটনাস্থল থেকে মাদকদ্রব্য, বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। আর নিজেদের দুই সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন র‍্যাব কমান্ডার। তিনি আরও দাবি করেন, এ ছাড়া সদর উপজেলার রামসাগর গ্রামে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন আব্দুস সালাম।

কুমিল্লা থেকে মো. জালাল উদ্দিন জানিয়েছেন, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বাগড়া রামচন্দপুর সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- উপজেলার আশাবাড়ি এলাকার আবদুল মালেকের ছেলে বাবুল হোসেন এবং একই উপজেলার উত্তর তেতাভূমি এলাকার আফাজ উদ্দিনের ছেলে আলমাস মিয়া।

পুলিশের দাবি, বাবুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদকসহ ১৬টি মামলা রয়েছে। আর আলমাসের বিরুদ্ধে রয়েছে আটটি মামলা।

‘বন্দুকযুদ্ধ’ সম্পর্কে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) ভাষ্য হচ্ছে, গতকাল দিবাগত গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাগড়া রামচন্দপুর সড়কে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পুলিশও পাল্টা গুলি করলে দুই মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হন।

‘তাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

ওসির দাবি, এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, ৪০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। আর পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন।

জয়পুরহাট থেকে শাহজাহান সিরাজ মিঠু জানিয়েছেন, পাঁচবিবি উপজেলার সীমান্তবর্তী ভীমপুর গ্রামে মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে কথিত বন্দুকযুদ্ধে রিন্টু (৪১) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে র‍্যাব।

গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। রিন্টু পাঁচবিবি উপজেলার উত্তর গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচবিবি থানায় একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে।

র‌্যাব-৫ জয়পুরহাট ক্যাম্প কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম হোসেন দাবি করেন, মাদক কেনাবেচার খবর পেয়ে র‍্যাব ভীমপুর গ্রামের কে টি ইটভাটা এলাকায় অভিযান চালায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি করে। র‍্যাবও পাল্টা গুলি করে।

‘এতে রিন্টু গুলিবিদ্ধ হয় এবং র‌্যাব সদস্য সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল কাদের ও নায়েক আলী রণি আহত হন। তিনজনকে পাঁচবিবির মহীপুরস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রিন্টুকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুই র‌্যাব সদস্যকে সেখানে ভর্তি করা হয়।’

র‍্যাব কর্মকর্তার দাবি, ঘটনাস্থল থেকে একটি একনলা বন্দুক, গুলি ও এক বস্তা ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ থেকে আইয়ুব আলী জানিয়েছেন, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শাহজাহান নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে আঠারবাড়ীর তেলোয়ারি মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শাহজাহানের নামে আটটি মামলা রয়েছে বলে জানান ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি বদরুল আলম এবং জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওসি মো. আশিকুর রহমান।

পুলিশের ভাষ্য, গত রাতে আঠারবাড়ীর তেলোয়ারি মোড়ে মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক ভাগাভাগি করছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের ওপর গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি করলে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় পুলিশের দুই সদস্য আহত হন।

ঘটনাস্থল থেকে ২০০ গ্রাম হেরোইন, পাঁচটি গুলির খোসা, একটি রামদা ও কিরিচ উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করে পুলিশ।

ময়মনসিংহে গত পাঁচ মাসে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ জনে। চলতি মে মাসে কোতোয়ালী মডেল থানা এলাকায় ঘটেছে ছয়টি ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা। এতে নিহত হয়েছেন সাত ব্যক্তি। এর আগে এপ্রিল মাসে তিনটি এবং জানুয়ারি মাসে একটি ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনায় নিহত হয়েছেন আরও চার ব্যক্তি।

চাঁদপুর থেকে হাবিবুর রহমান হাবিব জানিয়েছেন, কচুয়া উপজেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনায় বাবলু মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ডিবি পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাত ৩টার দিকে উপজেলার আশ্রাফপুর ইউনিয়নের বনরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাবলুর নামে পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে।

কচুয়া থানার ওসি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান দাবি করেন, গত রাতে পুলিশ বাবলুর বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করেন বাবলু। পুলিশও পাল্টা গুলি করলে বাবলু গুরুতর আহত হন। তাঁকে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে ১১০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।