ভিডিও কনফারেন্সে খালেদা জিয়ার হাজিরা চায় দুদক

474

ঢাকা সংবাদদাতা: জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কারাবান্দি খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরার ব্যবস্থা করতে প্রস্তাব জানিয়েছে দুদক।

বৃহস্পতিবার ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল এ কথা বলেন। তবে খালেদা জিয়ার আইনজীবী আবদুর রেজাক খান এ সময় দুদক আইনজীবীর বক্তব্যের বিরোধিতা করেন।

এদিন জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও কারা কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করতে না পারায় বিচারক মো. আখতারুজ্জামান শুনানি পিছিয়ে দেন।

পরে শুনানির জন্য ২২ এপ্রিল নতুন তারিখ নির্ধারণ করে এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ ওই সময় পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ মার্চ এ মামলায় খালেদা জিয়াকে পরবর্তী শুনানির দিন ২৮ ও ২৯ মার্চ হাজিরের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক। তবে ওই সময়ে কারাকর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে হাজির করতে পারেনি। এ কারণে আজ শুনানির নতুন দিন নির্ধারণ করা হয়।

আজ বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতকে বলেন, আমি জেনেছি- খালেদা জিয়া অসুস্থ। তিনি বাতজনিত সমস্যায় ভুগছেন। মেডিকেল বোর্ড উনাকে চিকিৎসা দিয়েছে, কিন্তু উনি এ চিকিৎসা না নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসা নেবেন বলে জানিয়েছেন। সেটি প্রক্রিয়াধীন।

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হাজির করে আদালতের কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে। সাক্ষ্য আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী সেই সুযোগ রয়েছে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী আবদুর রেজাক খান এ সময় কাজলের বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, এই আদালত সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী চলে। আদালত কীভাবে চলবে সে জন্য আইন মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিমকোর্টের পরামর্শ প্রয়োজন।

আবদুর রেজাক খান বলেন, এমন সাবমিশন গ্রহণ হতে পারে না। ভিডিও কনফারেন্স… এটি সেটি… এত বাড়াবাড়ি করার কি আছে!

তখন দুদকের আইনজীবী বলেন, উনি গুরুতর অসুস্থ না। আমার কাছে তথ্য আছে, মেডিকেল বোর্ড তাকে ওষুধ দিয়েছে, তিনি বাতজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তিনি ওষুধ খাচ্ছেন না।

এরপর আবদুর রেজাক খান খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ এক মাস বাড়ানোর আবেদন করলে বিচারক মামলার নতুন দিন নির্ধারণ করে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত জামিনের আদেশ দেন।