বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে মেরে হাসপাতালে পাঠালেন বিভাগের চেয়ারম্যান

701

ঢাকা সংবাদদাতা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মেজবাহ-উল-ইসলাম গত ১৩ মার্চ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার বিভাগের এক সহযোগী অধ্যাপককে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করেছেন। আহত শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ারুল ইসলাম চিকিৎসার জন্য প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে গেলে সেখান থেকে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরণ করা হয়। তিনি সেখানে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।

এ ঘটনার পর বুধবার (১৪ মার্চ) সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষক ও তার সকল সহকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টর বরাবর ড. মুহাম্মদ মেজবাহ-উল-ইসলামের বিচার দাবি করে এক লিখিত অভিযোগ দেন। সে সময় শিক্ষকগণ এর যথাযথ বিহিত না হওয়া পর্যন্ত বিভাগের সকল ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান সে সময় শিক্ষকদেরকে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।

শিক্ষকদের অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, গত ১১ মার্চ রোববার তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষকদের একাডেমিক মিটিং ছিল। তার আগের দিন ১০ মার্চ শনিবার অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ারুল ইসলাম তার শারীরিক অসুস্থ্যতার কথা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মেজবাহ-উল-ইসলামকে ফোন করে জানান। একই কারণে পরের দিন শিক্ষকদের একাডেমিক মিটিংয়ে উপস্থিত হতে পারেন নি তিনি।

এরপরও মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিভাগের ইভিনিং ক্লাস নেয়ার সময়ে পিয়ন পাঠিয়ে ক্লাস বন্ধ করে ড. মো. আনোয়ারুলকে দ্রুত দেখা করতে বলেন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেজবাহ। ড. আনোয়ার দেখা করতে গেলে কর্কশভাবে গত রোববার একাডেমিক কমিটির মিটিংয়ে না আসার কৈফিয়ত জানতে চান অধ্যাপক মেজবাহ।

ড. আনোয়ার সে সময় নিজের অসুস্থ্যতার ব্যাপারে ফোন করে জানানোর কথা স্মরণ করিয়ে দেন বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে। সেই সাথে তিনি মিটিংয়ে উপস্থিত হতে না পারায় ছুটি ফরম জমা দিবেন বলে জানালেও অধ্যাপক মেজবাহ অধ্যাপক আনোয়ারুলকে অন্যান্য শিক্ষকদের সামনে গালিগালাজ করেন ও শার্টের কলার ধরে মারধর করেন। এ সময় সহকর্মীরা বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে আটকানোর চেষ্টা করেন।

পরে মেজবাহ ফের আনোয়ারুলের ওপর চড়াও হন এবং তাকে লাথি ও কিল ঘুষি মারেন। মারধরের পরে বিভাগের অন্য শিক্ষকরা এসে তাকে উদ্ধার করেন।

বিভাগের এক সিনিয়ার শিক্ষক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বিভাগের অন্য শিক্ষকের সঙ্গেও আগে ঘটিয়েছেন মেজবাহ। তবে এবার আনোয়ারুল ইসলামকে মারধর করে আহত করার ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অঘটনকে ছাড়িয়ে গেছে। এর সুবিচার না পাওয়া পর্যন্ত বিভাগের সকল ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সকল শিক্ষকরা বিরত থাকবেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ মেজবাহ-উল-ইসলাম বলেন, ‘মিটিংয়ে অনুপস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছিল। এসময় তিনি এক্সাইটেড (উত্তেজিত) ও ইমোশনাল হয়ে যান। এসময় আমিও একটু ইমোশনাল হয়ে তার সঙ্গে…।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আমরা তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষদেরর পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।’