মার্কিন নির্বাচন প্রশ্নযুক্ত : আ‘লীগ সাংসদ

653

ঢাকা সংবাদদাতা: বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে মার্কিন দূতের মন্তব্যকে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বর্হিভূত বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য তাহজিব আলম সিদ্দিকী। ‘ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সব দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন দেখতে চায়’ সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার সঙ্গে সাক্ষাতের পর ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকার্টের এ মন্তব্যের জের ধরে তাহজীব আলম সোমবার সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে মার্কিন নির্বাচনকে ত্রুটিযুক্ত উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের মানুষও ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে একটি ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন দেখতে চায়।

তাহজীব আলম বলেন, সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে রিপালিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প (বর্তমানে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট) বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে ত্রুটিযুক্ত। সেখানে অসংখ্য ভুয়া ভোটার আছে যার মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটরা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। আবার ওই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন বলেছিলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এমন কিছু সূক্ষ্ম কাঠামোগত বৈষম্য আছে যার মাধ্যমে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের ভোটদান প্রক্রিয়া থেকে বিরত রাখা হয়। এতে জনগণের সত্যিকারের মতামত প্রতিফলিত হয় না। বাংলাদেশের মানুষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থার উত্তরণ দেখতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ ভবিষ্যতে একটি ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন দেখতে চায়। আমরা চাইবো, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এখানে বসে অর্থ ধ্বংস না করে আপনাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে এগুলো অবহিত করবেন। প্রকৃতপক্ষে কোনও স্বাধীন দেশের বিষয়ে কোনও দেশের রাষ্ট্রদূতের এত ঘটা করে মন্তব্য করার নজির আছে বলে জানা নেই।

নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আর্কষণ করে তিনি বলেন, সাংবিধানিক পদে যারা আছেন তাদের সঙ্গে অন্য দেশের নাগরিক কীভাবে অনায়াসে দেখা করেন? আর দেখা করে বেরিয়ে এলে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমগুলো আত্মসম্মান জলাঞ্জলি দিয়ে কিভাবে একজন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের জন্য চাতক পাখির মতো কেন তাকিয়ে থাকে বোধগম্য নয়। এসব ঘটনা জাতি হিসেবে আমাদের কতটা ছোট করে।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রস্তাবিত ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেটে বৈদেশিক অনুদান মাত্র ৫ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। কিন্তু আমাদের দায়িত্বশীল লোকদের আচরণ দেখলে মনে হয় বাজেটের সিংহভাগ যেন বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভর। আমরা কি কোনোদিনই শিখবো না? আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশিদের বাইরে রাখতে, ঔপনিবেশিক যাঁতাকল থেকে আমাদের কোনোদিনই কি উত্তরণ ঘটবে না এ প্রশ্নও রাখেন তিনি।