ওয়ানবাংলানিউজ: এসিডকে ‘উচ্চমাত্রার বিপজ্জনক অস্ত্র’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাজ্য। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি এসিড হামলার পর এ সিদ্ধান্ত নিলো দেশটি। যুক্তরাজ্যের দ্য সেনটেন্সিং কাউন্সিল বৃহস্পতিবার (১ মার্চ) নতুন গাইডলাইনে এসিডকে ‘উচ্চমাত্রার বিপজ্জনক অস্ত্র’ হিসেবে চিহ্নিত করে। এর ফলে এসিড ও এ ধরনের রাসায়নিক প্রকাশ্যে বহনের দায়ে যে কাউকে দেশটির আদালত কঠোরতর শাস্তি দিতে পারবেন।
নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক কেউ প্রকাশ্যে দ্বিতীয়বার এসিড জাতীয় দ্রব্য বহনের দায়ে অভিযুক্ত হলে তাকে কমপক্ষে ৬ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। ১৮ বছরের কম বয়সী কেউ অভিযুক্ত হলে চার মাসের আটকাদেশ ও প্রশিক্ষণের নির্দেশ দেওয়া যাবে। ছুরি রাখা এবং এসিড ও অস্ত্র দিয়ে হামলার হুমকি দেওয়ার অপরাধে বর্তমানে এ ধরনের শাস্তি প্রচলিত আছে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে আগামী ১ জুন থেকে এ গাইডলাইন কার্যকর হবে।
বাংলাদেশি অধ্যুষিত পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি এসিড হামলার ঘটনা ঘটে। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড পুলিশের তথ্যমতে, লন্ডনে এসিড হামলার দিক দিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে টাওয়ার হ্যামলেটস। গাইডলাইনটি প্রকাশের পর একে স্বাগত জানিয়েছেন ওই এলাকার এমপি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশনারা আলী।
লেবার দলীয় এই এমপি বলেন, ‘আজ যে গাইডলাইন ঘোষণা করা হলো তার মাধ্যমে ন্যাক্কারজনক ওই কাণ্ডটি যারা করে তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে যথাযথভাবে মোকাবিলার সুযোগটি নিশ্চিত হলো। যারা এসিড ও এ জাতীয় রাসায়নিক বহন করে তারাও এর ফল সম্পর্কে সতর্ক থাকবে।’
২০১২ সালের পর থেকে ইংল্যান্ডে এসিড ও এ জাতীয় রাসায়নিক দিয়ে হামলার ঘটনা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ছয় মাসে ৪০০টির বেশি এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে। শুধু লন্ডনেই ২০১৭ সালের প্রথম ১০ মাসে ৪২৬টি এসিড হামলা হয়। ২০১৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ২৬০।















