যত দ্রুত সম্ভব welfare bill কমাতে চান বার্নহ্যাম, তবে নির্বাচনের আগে নিশ্চিত নয়

11

ওয়ানবাংলানিউজ ডেস্ক: যুক্তরাজ্যে সরকারের welfare bill বা benefits খরচ যত দ্রুত সম্ভব কমাতে চান প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তবে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের আগেই এই খরচ কমানো সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলেননি।

বুধবারের বাজেটে welfare খাতে ব্যয় কমানোর পরিকল্পনার বিস্তারিত না থাকায় বিরোধীরা সমালোচনা করেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে welfare খাতে সরকারের ব্যয় ৩৫৩ বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছাবে। ২০৩১-৩২ অর্থবছরে তা বেড়ে ৪৩১ বিলিয়ন পাউন্ড হতে পারে।

পরবর্তী নির্বাচনের আগেই এই ব্যয় কমানো হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বার্নহ্যাম বলেন, “আমরা যত দ্রুত সম্ভব welfare bill কমাতে চাই। এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।”

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্বিচারে benefits কমানো হলে মানুষ সংকটে পড়তে পারেন এবং শেষ পর্যন্ত সরকারের অন্য খাতে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে। তাই তাঁর লক্ষ্য হলো মানুষকে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল কর্মসংস্থানে যুক্ত করা।

নির্বাচনের আগে ব্যয় কমানোর নিশ্চয়তা নেই

এর আগে চ্যান্সেলর জন হিলি বিবিসি রেডিও ৪-কে বলেছিলেন, নির্বাচনের আগে benefits খরচ কমানো হবে। তবে ট্রেজারির একাধিক সূত্র এই বক্তব্যকে পরবর্তী নির্বাচনের আগেই ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি হিসেবে ব্যাখ্যা করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে।

ডাউনিং স্ট্রিটও জানিয়েছে, সরকার welfare ব্যয় কমানোর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বা বাধ্যতামূলক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করছে না।

পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৯ সালের আগস্টের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে হবে।

নভেম্বরেই আসতে পারে নতুন পরিকল্পনা

সরকারের welfare সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত জানতে নভেম্বর মাসে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

এর মধ্যে একটি প্রতিবেদন হবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের benefits নিয়ে। অন্যটি শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত নন—এমন তরুণদের নিয়ে। দ্বিতীয় প্রতিবেদনটি তৈরি করছেন সাবেক মন্ত্রী অ্যালান মিলবার্ন।

এর আগে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কিছু benefits পাওয়ার যোগ্যতা সীমিত করার পরিকল্পনা নিয়ে লেবার পার্টির একাধিক এমপির বিরোধিতার মুখে পড়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। ২০২৫ সালের জুনে সেই পরিকল্পনা থেকে সরকারকে পিছিয়ে আসতে হয়েছিল।

বার্নহ্যাম বলেছেন, তরুণদের কর্মসংস্থানে যুক্ত করার বিষয়ে মিলবার্নের প্রতিবেদন সরকারের পরবর্তী বড় অগ্রাধিকার। তিনি benefits-নির্ভরতা কমিয়ে মানুষকে কাজে ফেরানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

welfare ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ

সাবেক ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যান্ডি হ্যালডেন বলেছেন, সরকার benefits খরচ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পরিকল্পনা দিতে পারলে আর্থিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

অন্যদিকে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক বলেছেন, যুক্তরাজ্য অতিরিক্ত ব্যয়, ঋণ ও করের চাপে রয়েছে এবং নিয়ন্ত্রণহীন welfare ব্যবস্থার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।

সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, welfare খাতে চলতি বছরের ব্যয় গত বছরের তুলনায় ১৯ বিলিয়ন পাউন্ড বেড়ে ৩৫৩ বিলিয়ন পাউন্ড হবে।

২০৩১-৩২ অর্থবছরে সম্ভাব্য ৪৩১ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ের মধ্যে—

  • ২০৯.৮ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হবে পেনশনভোগীদের জন্য, যার মধ্যে State Pension ও শীতকালীন জ্বালানি সহায়তা রয়েছে।

  • ১১০.৭ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হবে Universal Credit এবং এর আগের সমতুল্য সুবিধাগুলোতে।

  • ৬৯.৬ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হবে Personal Independence Payment (PIP)-সহ প্রতিবন্ধীদের বিভিন্ন benefits-এ।

এদিকে, ২০৩০ সাল থেকে State Pension-এর Triple Lock ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সরকার। আগামী কয়েক মাসে welfare ব্যবস্থায় আরও পরিবর্তন ও নতুন প্রস্তাব সামনে আসতে পারে।