রিয়াদ বিমানবন্দরে আবার হামলা, টার্মিনালে আগুন

37

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবার হামলা হয়েছে। রোববার বিকেলে বিমানবন্দরের একটি যাত্রী টার্মিনালে ‘একটি অজ্ঞাত প্রক্ষিপ্ত অস্ত্র’ আঘাত হানে। এতে সেখানে আগুন ধরে যায়।

আগের দিন শনিবার একই বিমানবন্দরে বড় ধরনের হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হন। আহত হন ৩০৯ জন। সেই হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই রোববার আবার বিমানবন্দরটিতে হামলা হলো।

সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জিএসিএ) পরে নিশ্চিত করে, রোববারের হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে কতজন আহত হয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, প্রক্ষিপ্ত অস্ত্রটি বিমানবন্দরের টার্মিনাল–৪-এ আঘাত হানে। আগুন নিয়ন্ত্রণে জরুরি দল পাঠানো হয়। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে।

আল–আরাবিয়া জানায়, প্রক্ষিপ্ত অস্ত্রের আঘাতের কয়েক মিনিট পর বিমানবন্দরের আশপাশে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।

রোববারের হামলায় মানুষ আহত হয়েছেন উল্লেখ করে সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) জানিয়েছে, বিমানবন্দরের স্থাপনা নিরাপদ আছে কি না, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির হিসাবও করা হচ্ছে।

শনিবারের হামলায় নিহত বেড়ে ১৩

রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবারের হামলার বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকাল শনিবার বেলা আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে বিমানবন্দরের টার্মিনাল–৩-এর ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়ে। ওই সময় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা সেখানে অপেক্ষা করছিলেন।

নিহত বাংলাদেশিরা হলেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের মো. শাহেদ আহম্মেদ এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। একই হামলায় আরও চার বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়েছেন।

সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ প্রথমে শনিবারের হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছিল।

আজ আল–আরাবিয়া জানায়, শনিবারের হামলায় আহত এক ভারতীয় নাগরিক পরে মারা গেছেন। সৌদি আরবে ভারতীয় দূতাবাস তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। এতে শনিবারের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে।

‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধাপরাধ’

সৌদি গেজেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি শনিবারের হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও প্রচলিত আন্তর্জাতিক বিধির দৃষ্টিতে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আল-মালকি বলেন, এটি নীতি, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী একটি জঘন্য কাজ। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে এই হামলার ‘দৃঢ় জবাব’ দেবে জোটের যৌথ বাহিনী।

সপ্তাহজুড়ে বিমানবন্দরে হামলা

আল–আরাবিয়া জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে সৌদি আরবের বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হুতিদের হামলা বেড়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় তিনজন নিহত ও ৩৬ জন আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছিল জিএসিএ।

এরপর শনিবারের হামলায় আরও ১৩ জন নিহত হন। রোববার আবার কিং খালেদ বিমানবন্দরের টার্মিনাল–৪-এ হামলা হয়।

এই হামলাগুলো এমন সময় হচ্ছে, যখন ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী হুতিদের দখলে থাকা এলাকা পুনরুদ্ধারে নতুন সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও সেই সরকারকে সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।

নিজেদের অবস্থান লক্ষ্য করে সৌদি হামলার জবাবে মক্কা ও মদিনা ছাড়া দেশটির যেকোনো আকাশসীমায় হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে হুতিরা। ফলে অনেক উড়োজাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা সৌদিতে উড়োজাহাজ পরিচালনা স্থগিত, ফ্লাইট বাতিল বা অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশের নিন্দা

রিয়াদ বিমানবন্দরে শনিবারের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রোববার সাংবাদিকদের বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ইতিমধ্যে ১৪ বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করব যে এই বিপর্যয় বন্ধ হবে, এই আক্রমণ বন্ধ হবে। এ ধরনের মৃত্যু আসলে মেনে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর।’