সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যের মার্সিসাইডের সেন্ট হেলেন্সে এক নার্সের মারাত্মক ভুলে লাইফ সাপোর্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জয় ওসুনদেকো নামের ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রী মা\রা গেছে। ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এই কিশোরীর ভেন্টিলেটর ভুলবশত প্রায় ছয় মিনিট বন্ধ রাখা হয়েছিল। ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত শারীরিক প্রতিবন্ধী জয়কে বাঁচানোর পর লিভারপুলের অ্যাল্ডার হে চিলড্রেনস হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে সেই ঘটনার পর আর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেনি জয় এবং চার মাস পর স্ট্রোক করে সে মা\রা যায়। ঘটনার দীর্ঘ চার বছর পর কোনো বিচার না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার পরিবার।
যুক্তরাজ্যের সেন্ট হেলেন্সে নিজ বাড়িতেই সার্বক্ষণিক সেবা দেওয়া হচ্ছিল গুরুতর অসুস্থ জয় ওসুনদেকোকে। ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সকালে তার সেবার দায়িত্ব নেন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীরা। কিছুক্ষণ পরই ঘরে গিয়ে মেয়েকে নিথর অবস্থায় দেখতে পান তার বাবা মায়ো ওসুনদেকো। দ্রুত নিচে নেমে এসে তিনি নিজ হাতে ভেন্টিলেটরের ব্যাগ দিয়ে কৃত্রিম উপায়ে অক্সিজেন সরবরাহ করেন। দীর্ঘ এক মিনিট চেষ্টার পর মেয়েটি আবার শ্বাস নেওয়া শুরু করে।
পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, সেবার দায়িত্বে থাকা ওই নার্স ভেন্টিলেটরের বোতাম চেপে যন্ত্রটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। যদিও সেই নার্স দাবি করেছিলেন যন্ত্রটি কয়েক সেকেন্ডের জন্য বন্ধ ছিল, তবে ভিডিও বিশ্লেষণে ধরা পড়ে এটি প্রায় ছয় মিনিট অচল অবস্থায় রাখা হয়েছিল। ঘটনার পর জয়কে টানা নয় দিন অ্যাল্ডার হে চিলড্রেনস হাসপাতালে কাটাতে হয়। এরপর থেকে তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে এবং সে হাসিমুখ চিরতরে হারিয়ে ফেলে।
পরবর্তীতে ২০২২ সালের ১৩ জুন স্ট্রোকে ব্রেন স্টেম অকেজো হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে জয়। নার্স সরবরাহকারী সংস্থা অপটিমা হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল কেয়ার লিমিটেড সেবায় গাফিলতির কথা স্বীকার করলেও এই ভুলের কারণে কিশোরীর ক্ষতি বা মৃত্যুর বিষয়টি অস্বীকার করে। তবে আদালতের বাইরেই পরিবারের সাথে তারা একটি ক্ষতিপূরণ চুক্তিতে পৌঁছায়।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের তদন্তের পর সংশ্লিষ্ট নার্সের বিরুদ্ধে মামলার বিচার শুরু হলেও ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কৌঁসুলিরা বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেন। কিশোরীর মরদেহ দাহ করায় প্রমাণের ঘাটতি এবং দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে নতুন করে তদন্তের আবেদনও খারিজ করেন স্থানীয় করোনার। জয়ের মা বিসি ওসুনদেকো ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, পুরো বিচার ব্যবস্থা তাদের সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ করেছে এবং একজন নার্স কীভাবে এত বড় ভুল করতে পারেন সেটির কোনো জবাব আজ পর্যন্ত তারা পাননি।
#aknews #onebanglanews #যুক্তরাজ্যসংবাদ #আন্তর্জাতিকখবর















