সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্য থেকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো আশ্রয়প্রার্থীদের শরীরে গুরুতর আ*ঘাত ও নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়ার কথা জানিয়েছে ফরাসি স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা। বিতর্কিত ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ চুক্তির আওতায় ফ্রান্সে পৌঁছানো বহু তরুণের দেহে হাড়ভাঙা ও কালশিটের মতো জখম শনাক্ত হয়েছে। প্যারিসের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা প্রায় ৯০ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে এসব শারীরিক ও মানসিক ক্ষতের প্রমাণ মেলে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকার সময় তারা এমন নির্মম আচরণের শিকার হয়েছেন। ফ্রান্সের স্বাস্থ্য সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছে।
প্যারিসের আঞ্চলিক স্বাস্থ্য সংস্থার দায়িত্বে থাকা সেবা সংস্থা সামুসোসিয়াল দ্য প্যারিস (এসএসপি) ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি থেকে ৭ জুনের মধ্যে ফেরত আসা ৯০ জন যুবকের শারীরিক পরীক্ষা করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরিট্রিয়া, সুদান ও আফগানিস্তানের মতো সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে আসা ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী এসব তরুণ আশ্রয়ের খোঁজে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে শুরু হওয়া বিতর্কিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনকে জোরপূর্বক ফ্রান্সে ফেরত পাঠিয়েছে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ফরাসি চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ফেরত আসা ব্যক্তিদের দেহে হাতকড়ার আঘাত, শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাট বাঁধা জখম এবং পেটসহ বিভিন্ন স্থানে মারধরের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ব্রিটিশ হেফাজতে দীর্ঘ সময় অবমাননাকর পরিবেশে আটকে রাখার ফলেই তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের চরম অবনতি হয়েছে। এমনকি এক যুবক এতটাই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন যে তিনি আশ্রয়কেন্দ্রের পথ চিনতে পারছিলেন না, যার ফলে তাকে জরুরি মানসিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠাতে হয়।
ফরাসি জাতীয় পরিষদে জমা দেওয়া এই প্রতিবেদনে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারসের (এমএসএফ) কর্মসূচি সমন্বয়ক নিহাল ওসমান বলেন, এই এক বিনিময় চুক্তিটি মূলত মানুষের মানসিক সত্তা ধ্বংস করার একটি যন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়। এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বন্দিশিবিরের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান মিটির কাছে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
#যুক্তরাজ্য #ফ্রান্স #আশ্রয়প্রার্থী #aknews #onebanglanews















