সাইফ হাসান: লন্ডনের বিখ্যাত টেমস নদীসহ মোট ১৩টি জায়গায় এবার সরকারিভাবে সাঁতার কাটার অনুমতি মিলতে পারে। দীর্ঘ আন্দোলনের পর নদীগুলোকে গোসলের উপযোগী হিসেবে প্রাথমিকভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে নদীগুলোর পানির গুণমান এখন থেকে নিয়মিত পরীক্ষা করা হবে। পরিবেশবাদীরা এই উদ্যোগকে নদীর পানি পরিষ্কার রাখার বড় একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ পরিবেশে সাঁতার কাটার জন্য দীর্ঘদিন ধরে এই স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের হ্যাম এলাকায় টেমস নদীর একটি অংশকে সাঁতারের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। টেডিংটন ব্লুউটিটস নামের একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মার্লিন লরেন্স এই স্বীকৃতির জন্য আবেদন করেছিলেন। তিনি জানান যে হাজার হাজার মানুষ সারা বছর এই নদীতে সাঁতার কাটেন এবং এই স্বীকৃতি নদীকে দূষণমুক্ত রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে।
টেমস ছাড়াও তালিকায় কর্নওয়ালের ফাওয়ে নদী, চেস্টারের ডি নদী এবং ইয়র্কশায়ারের সোয়েল নদীর নাম রয়েছে। এই স্থানগুলোতে এখন থেকে পরিবেশ সংস্থা পানির গুণমান পরীক্ষা করবে যাতে মানুষের কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি না থাকে। এর আগে পয়ঃনিষ্কাশন ও রাসায়নিক বর্জ্যের কারণে অনেক এলাকার পানি দূষিত হয়ে পড়েছিল।
এই নতুন উদ্যোগের ফলে টেমস ওয়াটার কোম্পানি কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তারা নদীর এই অংশের কাছেই একটি নতুন পানি পুনর্ব্যবহার প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা করছে। তবে সরকারের নতুন এই নির্দেশনার ফলে বর্জ্য নিষ্কাশন ও পানির বিশুদ্ধতা রক্ষায় কোম্পানিগুলোকে আরও কঠোর নিয়ম মানতে হবে।
পানি ও বন্যা বিষয়ক মন্ত্রী এমা হার্ডি বলেন যে নদী ও সৈকতগুলো সাধারণ মানুষের প্রাণের জায়গা। মানুষ যাতে সুস্থভাবে প্রকৃতির মাঝে সময় কাটাতে পারে সেজন্য সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এই প্রস্তাবের ওপর জনসাধারণের মতামত জানতে এখন ছয় সপ্তাহের একটি সময় দেওয়া হয়েছে।
#সাঁতার #লন্ডন #টেমসনদী #পরিবেশ #aknews #onebanglanews















