সাইফ হাসান: লন্ডনের এক মা সবাইকে প্লাজমা দানে উৎসাহিত করতে সামনে এসেছেন। তার ছোট্ট মেয়ের বিরল এক রোগ ধরা পড়ার পর প্লাজমা দিয়ে তৈরি ওষুধেই সে সুস্থ হয়েছে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা পাওয়ায় বড় কোনো ক্ষতি হয়নি শিশুটির। তাই অন্য শিশুদের বাঁচাতে তিনি এখন এই বিশেষ আহ্বান জানাচ্ছেন।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রেবেকার মেয়ে উইনিফ্রেড হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। শুরুতে সাধারণ জ্বর মনে হলেও পরে তার শরীরে অদ্ভুত ফুসকুড়ি দেখা দেয়। সাত বছর বয়সী উইনিফ্রেডের অবস্থা দেখে চিকিৎসকরা প্রথমে সাধারণ অসুস্থতা ভেবেছিলেন, কিন্তু পরে তার কাওয়াসাকি রোগ শনাক্ত হয়।
লন্ডনের রয়্যাল ফ্রি হাসপাতালে নেওয়ার পর জানা যায়, এই রোগটি হার্টের রক্তনালীতে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং সঠিক চিকিৎসা না হলে হার্টের ক্ষতি করতে পারে। তবে দ্রুত রোগ ধরা পড়ায় তাকে দাতার প্লাজমা থেকে তৈরি ইমিউনোগ্লোবুলিন দিয়ে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। রেবেকা জানান, তিনি এই রোগের নাম আগে কেবল একটি টিভি শোতে শুনেছিলেন, কিন্তু নিজের সন্তানের হবে তা ভাবেননি।
চিকিৎসার পর উইনিফ্রেড খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে এবং মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই স্কুলে ফিরে যায়। এখন তার বয়স নয় বছর এবং সে পুরোপুরি সুস্থ জীবনযাপন করছে। মেয়ের জীবন রক্ষা পাওয়ার পর রেবেকা নিজেও টুইকেনহামের একটি কেন্দ্রে গিয়ে প্লাজমা দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এনএইচএস ব্লাড অ্যান্ড ট্রান্সপ্লান্ট জানিয়েছে, শিশুদের জীবনরক্ষাকারী ওষুধ তৈরিতে প্লাজমা দাতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে কাওয়াসাকি রোগে শিশুদের হার্টের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা হতে পারে। তাই রেবেকা চান, তার মেয়ের মতো অন্য পরিবারের শিশুরাও যেন প্রয়োজনের সময় সঠিক চিকিৎসা পায়।
#লন্ডন #স্বাস্থ্যসেবা #প্লাজমা #aknews #onebanglanews















