সাইফ হাসান: লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকায় চীনের বিশাল দূতাবাস নির্মাণের সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার আইনি লড়াইয়ে নামছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরকারের অনুমোদনের পরপরই রয়াল মিন্ট কোর্টের বাসিন্দারা তহবিল সংগ্রহ করে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা এই মেগা দূতাবাস তৈরি হলে গোপনীয়তা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এলাকাটি গোয়েন্দা নজরদারির কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। নিরাপত্তা ও উচ্ছেদের ভয়ে ভীত বাসিন্দারা যেকোনো মূল্যে এই প্রকল্প ঠেকাতে বদ্ধপরিকর।
ব্রিটিশ সরকার গত মঙ্গলবার টাওয়ার অফ লন্ডনের কাছে চীনের নতুন দূতাবাস তৈরির অনুমতি দিয়েছে, যা ইউরোপের সবচেয়ে বড় চীনা দূতাবাস হতে যাচ্ছে। ২০১৮ সালে ২৫৫ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে কেনা এই রয়াল মিন্ট সাইটটিতে চীন তাদের সব কূটনৈতিক কার্যক্রম এক জায়গায় আনতে চায়। তবে স্থানীয় টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল আগেই নিরাপত্তার কারণে এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিল, যা এখন সরকার অনুমোদন দিল।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন রয়াল মিন্ট কোর্টের প্রায় ২০০ বাসিন্দা, যারা নিজেদের বাড়িঘর ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। আইনি লড়াই চালানোর জন্য তারা মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ১ লাখ ৪৫ হাজার পাউন্ড তহবিল সংগ্রহ করেছেন। বাসিন্দাদের সংগঠনের নেতা মার্ক নাইগেট জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষ ও চীনা সরকারের দ্বারা নির্যাতিতরা তাদের এই লড়াইয়ে সমর্থন দিচ্ছেন।
আন্দোলনকারীরা প্রখ্যাত আইনজীবী লর্ড চার্লস ব্যানার কেসি-কে নিয়োগ দিয়েছেন এবং সরকারি সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জুডিশিয়াল রিভিউ বা বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার আবেদন করবেন। তাদের অভিযোগ, বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ না করেই এবং আগে থেকেই মনস্থির করে সরকার এই অনুমতি দিয়েছে। লুক ডি পুলফোর্ড বলেছেন, এত দ্রুত তহবিল সংগ্রহই প্রমাণ করে মানুষ এই মেগা দূতাবাস কতটা অপছন্দ করছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই ভবনটি গোয়েন্দা নজরদারি বা গুপ্তচরবৃত্তির কাজে ব্যবহার হতে পারে। তবে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-৫ এবং জিসিএইচকিউ জানিয়েছে, সব ধরণের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব না হলেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার শর্ত দেওয়া হয়েছে।
#লন্ডন #চীন #দূতাবাস #টাওয়ার_হ্যামলেটস #aknews #onebanglanews















