সাইফ হাসান: ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হাজার হাজার ব্রিটিশ পরিবারের শিশু ভাতা বা চাইল্ড বেনিফিট বন্ধ করে দিয়েছে রাজস্ব বিভাগ এইচএমআরসি। তারা মনে করেছিল এতে মানুষের বড় কোনো ক্ষতি হবে না এবং এই ঝুঁকিটা সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই বিদেশে স্থায়ী হননি বরং দেশেই ছিলেন। কোনো নোটিশ ছাড়াই হুট করে বেনিফিট আটকে দেওয়ায় চরম অর্থকষ্ট ও ভোগান্তিতে পড়েছে অসংখ্য পরিবার।
জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে প্রায় ২৪ হাজার অ্যাকাউন্টের ভাতা স্থগিত করা হয়েছিল। হোম অফিসের অসম্পূর্ণ ট্রাভেল ডেটার ওপর ভিত্তি করে এই অভিযান চালানো হয়, যেখানে দেখা যায় অন্তত ৬৩ শতাংশ পরিবার আসলে যুক্তরাজ্যেই বসবাস করছিলেন। এইচএমআরসি স্বীকার করেছে যে তাদের কাছে ফিরে আসার সঠিক তথ্য ছিল না, তবুও তারা জেনেশুনেই এই ঝুঁকি নিয়েছিলেন।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে এমন এক নারী ছিলেন যিনি ফ্রান্সে তার স্বামীর লা*শ আনতে গিয়েছিলেন, কিন্তু তার ফেরার রেকর্ড না থাকায় বেনিফিট বন্ধ করে দেওয়া হয়। আরেকজন মা তার সন্তানের অসুস্থতার কারণে ফ্লাইট বাতিল করলেও তাকে বিদেশে অবস্থানকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এমনকি সেপসিসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি এক মায়ের ভাতার টাকাও আটকে দেওয়া হয়েছিল ভুল তথ্যের কারণে।
অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা যায়, পাইলট প্রকল্পেই প্রায় ৪৬ শতাংশ তথ্যে ভুল পাওয়া গিয়েছিল। এরপরও কর্মকর্তারা পে-রোল বা বেতনের রেকর্ড যাচাই না করেই এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যান। তাদের ধারণা ছিল এতে মানুষের খুব একটা ক্ষতি হবে না এবং আপিল করে সব ঠিক করা যাবে, যদিও হাজারো পরিবার এতে মানসিক ও আর্থিকভাবে ভেঙে পড়েছিল।
এই কেলেঙ্কারির পর এইচএমআরসি এখন কিছুটা নমনীয় হয়েছে এবং ভাতা বন্ধের আগেই গ্রাহকদের অবস্থান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মঙ্গলবার ট্রেজারি সিলেক্ট কমিটির সামনে কর্মকর্তাদের এই বিষয়ে জবাবদিহি করার কথা রয়েছে। হাজার হাজার কেস এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে এবং বৈধ দাবিদারের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
#HMRC #ChildBenefit #UKPolitics #aknews #onebanglanews















