সাইফ হাসান: বর্তমান বিশ্বে তরুণদের মধ্যে বাউয়েল ক্যান্সারের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে যা বিজ্ঞানীদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা এই রহস্যের জট খুলতে একশ বছরের পুরনো সংরক্ষিত ক্যান্সারের নমুনাগুলো নতুন করে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেন্ট মার্কস হাসপাতালের বেসমেন্টে রাখা হাজার হাজার নমুনা এখন আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিশেষ এক ধরণের ব্যাকটেরিয়া বা ডিএনএ পরিবর্তনের কারণে এমনটা হচ্ছে কিনা তা নিয়ে গবেষণা চলছে যা ভবিষ্যতে চিকিৎসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
তরুণদের মধ্যে মরণব্যাধি বাউয়েল ক্যান্সার বেড়ে যাওয়ার কারণ খুঁজতে লন্ডনের সেন্ট মার্কস হাসপাতালের আর্কাইভ এখন বিজ্ঞানীদের প্রধান ভরসা। গত কয়েক দশকে ২৪ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে এই রোগের হার প্রায় ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই রহস্যময় বৃদ্ধির কারণ উদঘাটন করতে হাসপাতালের শত বছরের পুরনো সংরক্ষিত টিস্যুগুলো ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হচ্ছে।
হলি নামের ২৭ বছর বয়সী এক তরুণী মাত্র ২৩ বছর বয়সে এই কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। শুরুতে সাধারণ পেটের সমস্যা মনে করা হলেও পরে জানা যায় তিনি বাউয়েল ক্যান্সারের শেষ পর্যায়ে আছেন। দীর্ঘ সময় চিকিৎসা এবং কেমোথেরাপির পর বর্তমানে তিনি সুস্থ থাকলেও তাকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
সেন্ট মার্কস হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কেভিন মোনাহান জানিয়েছেন যে এই আর্কাইভে থাকা হাজার হাজার নমুনা সারা বিশ্বের মধ্যে একটি অনন্য সম্পদ। আধুনিক ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তারা বোঝার চেষ্টা করছেন আগের তুলনায় বর্তমান সময়ের তরুণদের শরীরে কী ধরণের পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে খাবারের অভ্যাস বা পরিবেশগত কোনো কারণ এর পেছনে দায়ী কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইনস্টিটিউট অফ ক্যান্সার রিসার্চের অধ্যাপক ট্রেভর গ্রাহাম মনে করছেন বর্তমান সময়ের তরুণদের অন্ত্রে এক বিশেষ ধরণের ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে যা অতীতে ছিল না। এই ব্যাকটেরিয়া থেকে নির্গত বিষাক্ত পদার্থ ডিএনএ-র ক্ষতি করে ক্যান্সার তৈরি করতে পারে। যদি এই তত্ত্ব সত্যি হয় তবে ভবিষ্যতে এই রোগ প্রতিরোধ করা অনেক সহজ হবে বলে আশা করছেন গবেষকরা।
#bowelcancer #healthnews #medicalscience #aknews #onebanglanews















