সাইফ হাসান: নতুন বছরে স্কটল্যান্ডের স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের অচলাবস্থা এড়াতে বড়দিনের ছুটির মধ্যেও রেসিডেন্ট ডাক্তারদের সাথে বেতন নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। সম্প্রতি বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চার দিনের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন চিকিৎসকরা যা সফল হলে এটিই হবে স্কটল্যান্ডের এনএইচএস ইতিহাসের প্রথম জাতীয় ধর্মঘট। শীতের এই ভরা মৌসুমে রোগীদের চরম দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে উভয় পক্ষই একটি সমঝোতায় আসার চেষ্টা করছে।
স্কটল্যান্ডের স্বাস্থ্য সচিব নিল গ্রে জানিয়েছেন যে আগামী জানুয়ারি মাসে নির্ধারিত এই ধর্মঘট ঠেকাতে তিনি সব ধরনের আপস করতে প্রস্তুত। গত শুক্রবার এক ভোটাভুটিতে রেসিডেন্ট ডাক্তারদের ৯২ শতাংশই কর্মবিরতির পক্ষে মত দিয়েছেন। সরকার পক্ষ থেকে আগামী দুই বছরের জন্য নির্দিষ্ট হারে বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিএমএ স্কটল্যান্ড তা প্রত্যাখান করেছে।
বিএমএ স্কটল্যান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সরকারের বর্তমান প্রস্তাবটি পুরো যুক্তরাজ্যের মধ্যে সর্বনিম্ন এবং এটি পূর্বের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ডাক্তারদের দাবি অনুযায়ী ২০০৮ সালের তুলনায় তাদের প্রকৃত বেতন অনেক কমে গেছে যা জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বর্তমানে একজন নতুন ডাক্তারের বেতন ঘণ্টায় মাত্র ১৭.৪০ পাউন্ড যা বাড়ানোর দাবি তুলেছেন তারা।
আগামী ১৩ জানুয়ারি সকাল থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলার কথা রয়েছে। যদি এই আলোচনা ব্যর্থ হয় তবে হাজার হাজার অপারেশন এবং চিকিৎসা সেবা স্থগিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব নিল গ্রে বলেন যে ধর্মঘটের প্রভাব পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয় তবে তারা আলোচনার মাধ্যমে একটি সম্মানজনক সমাধানে পৌঁছাতে চান।
বিএমএ কমিটির পক্ষ থেকে এই আলোচনাকে গঠনমূলক বলে অভিহিত করা হয়েছে তবে তারা দ্রুত এবং কার্যকর অগ্রগতির ওপর জোর দিয়েছেন। রেসিডেন্ট ডাক্তাররা স্কটল্যান্ডের মোট চিকিৎসা শক্তির প্রায় অর্ধেক হওয়ায় তাদের অনুপস্থিতি স্বাস্থ্যখাতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
#স্কটল্যান্ড #ডাক্তারধর্মঘট #স্বাস্থ্যসেবা #বিএমএ #আন্তর্জাতিকনিউজ















