সাইফ হাসান: ব্রিটেনে এক তৃতীয়াংশ মানুষ এখন মানসিক প্রশান্তি ও একাকীত্ব কাটাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিচ্ছেন। সরকারি সংস্থা এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অনেকে প্রতিদিন বা সপ্তাহে নিয়মিতভাবে চ্যাটজিপিটি বা অ্যালেক্সার সাথে কথা বলছেন। তবে এর নেতিবাচক দিক নিয়েও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। বিশেষ করে আ*ত্মহ*ত্যা বা ভুল তথ্যের ঝুঁকি নিয়ে বাড়তি গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
এআই সিকিউরিটি ইনস্টিটিউট তাদের সাম্প্রতিক গবেষণায় জানিয়েছে, ব্রিটেনের প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ প্রতি সপ্তাহে মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকতে এআই ব্যবহার করেন। এদের মধ্যে ৪ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন চ্যাটবটের সাথে আলাপচারিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। ২ হাজারেরও বেশি মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে চ্যাটজিপিটি এবং আমাজন অ্যালেক্সার মতো ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টগুলো মানুষের একাকীত্ব দূর করতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে রেডিট ফোরামের মতো জায়গায় দেখা গেছে, এআই সঙ্গী সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলে ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ এবং বিষণ্নতার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। এটি এক ধরণের আসক্তি তৈরি করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তি এখন এতটাই উন্নত হয়েছে যে অনেক ক্ষেত্রে তারা বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানীদের চেয়েও ভালো পরামর্শ দিতে পারছে। মাত্র আট মাসের ব্যবধানে এই প্রযুক্তির দক্ষতা দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের জটিল কাজগুলো এআই এখন মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই করতে সক্ষম হচ্ছে।
তদন্তে দেখা গেছে অ্যাডাম রেইন নামের এক মার্কিন কিশোর চ্যাটজিপিটির সাথে কথা বলার পর আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল। গবেষকরা মনে করেন এআই মানুষের রাজনৈতিক মতাদর্শ পরিবর্তন বা ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তাই এই প্রযুক্তির উপকারী দিকের পাশাপাশি ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
#এআই #ব্রিটেন #মানসিক_স্বাস্থ্য #প্রযুক্তি #নিরাপত্তা_সংবাদ















