সাইফ হাসান: বর্তমান দশকের শেষ নাগাদ যুক্তরাজ্যে নিট অভিবাসনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে তিন লাখে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সরকারি এক উপদেষ্টা। অভিবাসন বিষয়ক পরামর্শক কমিটির প্রধান অধ্যাপক ব্রায়ান বেল জানিয়েছেন যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিদেশি কর্মীদের সংখ্যা পুনরায় বাড়তে থাকায় এই উল্লম্ফন দেখা দেবে। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে অভিবাসন কমানোর প্রতিশ্রুতি থাকলেও মধ্যমেয়াদে এই সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল। একইসঙ্গে পারিবারিক ভিসায় আসা ব্যক্তিদের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বড় ধরনের ব্যয়ের আশঙ্কার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই পূর্বাভাস ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের অভিবাসন বিষয়ক পরামর্শক কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ব্রায়ান বেল বুধবার জানিয়েছেন যে বর্তমানে নিট অভিবাসন ২ লাখ ৪ হাজার থাকলেও শিগগিরই তা বাড়তে শুরু করবে। বাজেট দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর বা ওবিআর-এর করা পূর্বানুমানের সঙ্গে একমত পোষণ করে তিনি বলেন যে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এটি তিন লাখে গিয়ে ঠেকতে পারে। ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত এই সংখ্যা রেকর্ড ৯ লাখ ৪৪ হাজারে পৌঁছেছিল যা পরবর্তী সময়ে অনেকটাই হ্রাস পায়।
সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে যারা পারিবারিক ভিসায় নিজেদের সঙ্গীদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে আসছেন তাদের পেছনে দীর্ঘমেয়াদে ব্রিটিশ অর্থনীতির বড় অংকের অর্থ ব্যয় হবে। হিসাব অনুযায়ী ২০২২-২৩ সালে আগত প্রায় ৫১ হাজার সঙ্গী বা পার্টনারের পেছনে সরকারের ৫.৬ বিলিয়ন পাউন্ড খরচ হতে পারে। এদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি মানুষই বেকার থাকেন এবং প্রত্যেকের পেছনে জীবনভর গড় নিট ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার পাউন্ড ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে গৃহকর্মী, ন্যানি ও গাড়িচালকদের মতো কর্মীদের শোষণের বিষয়েও সরকারকে সতর্ক করা হয়েছে। বিদেশি গৃহকর্মী ভিসায় যারা যুক্তরাজ্যে আসছেন তাদের ওপর নিয়োগকর্তাদের নির্যাতন ও শোষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কমিটি। যদিও সব নিয়োগকর্তা এমন আচরণ করেন না তবে বর্তমান ব্যবস্থায় এই কর্মীদের তদারকি করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে দক্ষ কর্মীদের বিষয়ে ইতিবাচক তথ্য দিয়েছে এই কমিটি। হিসাব অনুযায়ী ২০২২-২৩ সালে আসা দক্ষ কর্মীরা তাদের জীবনকালে ব্রিটিশ অর্থনীতিতে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন পাউন্ডের নিট অবদান রাখবেন। সরকারের জনসেবা ব্যবহারের ব্যয় বাদ দেওয়ার পরও এই দক্ষ জনশক্তি যুক্তরাজ্যের জনস্বার্থ ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
#যুক্তরাজ্যসংবাদ #অভিবাসন #ব্রিটিশরাজনীতি #আন্তর্জাতিকনিউজ #লন্ডনআপডেট















