সাইফ হাসান: ইংল্যান্ডে পানির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, কিন্তু পানি ব্যবহারের হিসাব রাখার ব্যবস্থা পুরনো ও ত্রুটিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো অন্ধকারে রয়েছে। কৃষি ও শিল্প খাতে পানির ব্যবহার বেড়েছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তা ঠিকমতো পর্যবেক্ষণ করা যায় না। উত্তর-পশ্চিম ও ইয়র্কশায়ারে ইতিমধ্যে খরা ঘোষণা করা হয়েছে।
ইংল্যান্ডের পানি ব্যবহারের তথ্য রাখার ব্যবস্থা “একেবারে ভিন্ন যুগের জন্য তৈরি” বলে মন্তব্য করেছেন সালফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নদী বিজ্ঞানের অধ্যাপক নীল এনটুইসল। তিনি বলেন, “গত বছর এই সময়ে আমার এলাকার জলাধারগুলো ৮৬ থেকে ৯১ শতাংশ পূর্ণ ছিল, এখন অর্ধেক খালি।” তিনি জানান, জনসংখ্যা কম থাকার সময়ে এই ব্যবস্থা কাজ করলেও এখন তা অপ্রতুল।
২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কৃষিতে পানির ব্যবহার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৬ বিলিয়ন ঘনমিটারে পৌঁছেছে। শক্তি খাতে ২০১৩ সালে ৪.১ বিলিয়ন ঘনমিটার ব্যবহার হলেও ২০২৩ সালে তা বেড়ে ৭.৩ বিলিয়ন হয়েছে। এনভায়রনমেন্ট এজেন্সির এক কর্মকর্তা বলেন, “কৃষিতে অনেক লাইসেন্সের তদারকি হয় না। কেউ যদি বলে তারা সারা বছর এক লিটার পানি ব্যবহার করেছে, আমরা তা যাচাই করতে পারি না।”
বর্তমানে ইংল্যান্ডের অনেক এলাকা পানির সংকটে ভুগছে। উত্তর-পশ্চিম ও ইয়র্কশায়ারে খরা ঘোষণা করা হয়েছে, আর ওটলির লিন্ডলি উড জলাধার শুকিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতি ১৫ মিনিটে পানির ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব, কিন্তু কৃষকদের জন্য এই ব্যয় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এক শিল্প বিশেষজ্ঞ বলেন, “একটি মনিটর স্থাপনে ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ পাউন্ড খরচ হয়, যা অনেকের জন্য কঠিন।”
পানির লাইসেন্স ব্যবস্থায় আরও সমস্যা রয়েছে। কিছু পুরনো লাইসেন্সে এখনকার তুলনায় অনেক বেশি পানি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া আছে, আবার কিছু লাইসেন্সের মেয়াদ বা সীমা নেই। গত পাঁচ বছরে প্রতি ২৫টি রিপোর্টের একটিতে অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি পানি ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে, কিন্তু এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় কম। নদী প্রচারক ফিয়ারগাল শার্কি বলেন, “এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি তাদের কাজ ঠিকমতো করছে না। আমাদের সম্পূর্ণ ব্যবস্থার সংস্কার দরকার।”
সরকার সম্প্রতি পানি সম্পদের সমস্যা সমাধানের জন্য পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে লাইসেন্স সংস্কার ও নতুন জলাধার নির্মাণ রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সন্দিহান যে এটি পানির ব্যবহার কমাতে পারবে। ওয়াটার রিসোর্সেস ইস্টের চেয়ার ড্যানিয়েল জনস বলেন, “বড় ব্যবসায়ীদের পানির দাম বাড়ানো উচিত, যাতে তারা কম ব্যবহারে উৎসাহিত হয়।” তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির পানি সংগ্রহের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার।
ন্যাশনাল ফার্মার্স ইউনিয়নের মার্ক বেটসন বলেন, “কৃষকদের জন্য স্থিতিশীল পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। জলাধার নির্মাণ গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু যেখানে পানি নেই, সেখানে তা সম্ভব নয়।” এদিকে, ব্যবসায়ীরা নিয়ন্ত্রণহীন বোরহোল খনন করছে, যার হিসাব এনভায়রনমেন্ট এজেন্সির কাছে নেই। এই সংকট মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















