এইচএসবিসি ক্রমাগত সাইবার হামলার মুখে, সাইবার নিরাপত্তায় বিপুল বিনিয়োগ!

31

সাইফ হাসান: এইচএসবিসি ইউকে-এর প্রধান নির্বাহী ইয়ান স্টুয়ার্ট জানিয়েছেন, ব্যাংকটি সবসময় অনলাইন অপরাধীদের হামলার মুখে রয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা এখন তাদের সবচেয়ে বড় খরচ, যা শত কোটি পাউন্ডের। মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার ও কো-অপের মতো সাম্প্রতিক হামলার পর ব্যাংকগুলোর আইটি সিস্টেম নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। স্টুয়ার্ট হাউস অফ কমন্স ট্রেজারি কমিটির কাছে বলেন, সাইবার নিরাপত্তা তাদের শীর্ষ অগ্রাধিকার।

মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সার ইস্টার উইকেন্ডে সাইবার হামলার শিকার হয়, যা তাদের অনলাইন কার্যক্রম ব্যাহত করে এবং দোকানের তাক খালি করে। স্টুয়ার্ট বলেন, “আমরা সবসময় হামলার মুখে। তাই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি জানান, এইচএসবিসি প্রতি সেকেন্ডে ১,০০০ পেমেন্ট প্রক্রিয়া করে এবং প্রতি সপ্তাহে ৮,০০০ আইটি পরিবর্তন করে। তবে কোনো ব্যাংক সবসময় অনলাইন সেবা নিশ্চিত করতে পারে না। “প্রশ্ন হলো, কত দ্রুত পুনরুদ্ধার করা যায়।”

ব্রিটেনের বড় ব্যাংক ও বিল্ডিং সোসাইটিগুলো ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক মাসেরও বেশি সময় আইটি ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়েছে। বার্কলেজে জানুয়ারি শেষে একটি ত্রুটির কারণে ৫৬% অনলাইন পেমেন্ট ব্যাহত হয়, যা বেতনের সময়ে গ্রাহকদের সমস্যায় ফেলে। বার্কলেজের প্রধান নির্বাহী ভিম মারু বলেন, “ত্রুটির মূল কারণ ছিল তৃতীয় পক্ষের সফটওয়্যার। আমরা এটি ঠিক করেছি এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নতি করছি।” তিনি গ্রাহকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

স্টুয়ার্ট বলেন, “ব্যাংকের সিস্টেম ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন নিরবচ্ছিন্নভাবে চালানোর চাপ বেড়েছে, কারণ শাখা বন্ধ করে গ্রাহকদের অনলাইন ব্যাংকিংয়ে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।” সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়ছে, এবং গুগল জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের খুচরা বিক্রেতাদের লক্ষ্য করে হামলাকারীরা এখন মার্কিন দোকানগুলোতেও আক্রমণ করছে। ব্যাংকগুলোর এই বিপুল বিনিয়োগ সত্ত্বেও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কমছে না। এই হামলা ব্যাংক ও খুচরা শিল্পের জন্য একটি ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ।

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian