সাইফ হাসান: গণতন্ত্রের জন্য একটি মুক্ত ও নিরপেক্ষ আলোচনার পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রাজনীতিবিদদের পক্ষপাতমূলক এবং অতিরিক্ত চাটুকারিতাপূর্ণ সাক্ষাৎকার এই পরিবেশকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে সতর্ক করেছেন বিবিসি’র জনপ্রিয় উপস্থাপক নিক রবিনসন। তিনি বলছেন, এমন সাক্ষাৎকার জাতীয় আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় ‘সাধারণ মঞ্চ’ ধ্বংস করছে।
নিক রবিনসন, যিনি বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘টুডে’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক এবং পূর্বে এর রাজনৈতিক সম্পাদক ছিলেন, বলেন, “পক্ষপাতূলক সংবাদের সমর্থক এবং নরম, চাটুকারিতাপূর্ণ সাক্ষাৎকারের পৃষ্ঠপোষকরা গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। তারা কোনো প্রশ্নের মুখোমুখি না হয়ে ইউটিউব বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একতরফা বক্তৃতা দিতে চায়।” তিনি সতর্ক করে বলেন, ব্রিটেন যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিভক্ত মিডিয়া ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে পারে, যেখানে মানুষ পক্ষপাতমূলক গণ্ডির মধ্যে আটকে যায়।
তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের জন্য একটি সাধারণ আলোচনার মঞ্চ প্রয়োজন। মানুষ রেডিও বা টেলিভিশনে চিৎকার করতে পারে, বলতে পারে ‘কেন এটা জিজ্ঞেস করলেন না?’ বা ‘আমার পছন্দের েতার সঙ্গে এত কঠোর হলেন কেন?’ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যারা আমাদের জীবন নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে।”
নিক রবিনসন তার ‘পলিটিক্যাল থিঙ্কিং’ পডকাস্টের মাধ্যমে রাজনীতিবিদদের সঙ্গে দীর্ঘ ও কথোপকথনমূলক সাক্ষাৎকার করেন। এই পডকাস্ট আগামী সপ্তাহ থেকে বিবিসি টু-তে শুক্রবার দুপুরে নিয়মিত সম্প্রচারিত হবে। তিনি বলেন, “এখন রাজনীতিবিদরা কঠিন সাক্ষাৎকার এড়িয়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম বেছে নিতে পারেন। আমাদের এই নতুন মিডিয়া পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হবে।”
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ২০১৯ সালেরठির্বাচনের সময় ব্রিটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বিখ্যাত সাংবাদিক অ্যান্ড্রু নিলের সাক্ষাৎকার এড়িয়ে যান। এমনকি জেরেমি প্যাক্সম্যানের মতো কঠোর সাক্ষাৎকারকারীদেরও কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের সাক্ষাৎকার নিতে হয়েছে, কারণ বড় নেতারা এড়িয়ে গেছেন।
রবিনসন আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জো রোগানের পডকাস্টে তিন ঘণ্টার সাক্ষাৎকার ইউটিউবে ৫৮ মিলিয়ন দর্শক পেয়েছে। এমন প্ল্যাটফর্মে রাজনীতিবিদরা প্রশ্ন এড়িয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারেন। তিনি বলেন, “আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন রাজনীতিবিদরা শধু তাদের পছন্দের পক্ষপাতমূলক মাধ্যম বেছে না নেন।”
তিনি তার ‘টুডে’ অনুষ্ঠানের সহ-উপস্থাপক এমা বার্নেটের সঙ্গে কোনো মনোমালিন্যের গুজবও অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি এবং এখন থেকেও করব। আমরা একে অপরকে ভালোবাসি!”
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















