ইনস্টাগ্রামে টিনএজারদের লাইভ বন্ধ করলো মেটা

235

ওয়ানবাংলানিউজ:বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা এবার ইনস্টাগ্রামে ১৬ বছরের নিচের টিনএজারদের জন্য লাইভ ফিচার বন্ধ করে দিয়েছে। মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল ২০২৫) এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেওয়া হয়, জানায় গার্ডিয়ানের প্রযুক্তি সম্পাদক ড্যান মিলমো।

মেটার নতুন এই নীতিমালায় বলা হয়েছে, ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীরা এখন থেকে ইনস্টাগ্রামে ‘লাইভ’ ফিচার ব্যবহার করতে পারবে না, যদি না তাদের অভিভাবকদের অনুমতি থাকে। এছাড়া ইনস্টাগ্রামের ইনবক্সে অশ্লীল ছবি ঝাপসা করার অপশন বন্ধ করতে অভিভাবকদের অনুমতির প্রয়োজন হবে।

এই পরিবর্তনের পাশাপাশি ইনস্টাগ্রামের টিনএজার অ্যাকাউন্ট সিস্টেম এখন থেকে ফেসবুক এবং মেসেঞ্জারেও চালু হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় অভিভাবকরা শিশুদের স্ক্রিন টাইম নির্ধারণ করতে পারবেন, নির্দিষ্ট সময়ে অ্যাপ ব্যবহারে বাধা দিতে পারবেন এবং কার সঙ্গে তারা মেসেজ করছে, তাও দেখতে পারবেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডায় এই ফিচার প্রথম চালু করা হচ্ছে। ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে এই সিস্টেম চালু থাকলেও তারা চাইলে তা পরিবর্তন করতে পারবে।

মেটা জানায়, বিশ্বব্যাপী কোটি ৪০ লাখ কিশোর-কিশোরী ইনস্টাগ্রামের টিন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে এবং ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের ৯০ শতাংশই ডিফল্ট সেফটি সেটিংস চালু রেখেছে।

যুক্তরাজ্যের শিশু সুরক্ষা সংস্থা এনএসপিসিসি (NSPCC) এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জানায়, “এই পরিবর্তনগুলো সত্যিকার অর্থে কার্যকর করতে হলে মেটাকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে যেন ক্ষতিকর কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলোতে ছড়িয়ে না পড়ে।” সংস্থাটির অনলাইন শিশু সুরক্ষা নীতির অ্যাসোসিয়েট প্রধান ম্যাথিউ সোয়েমিমো এই মন্তব্য করেন।

এই পদক্ষেপের পেছনে যুক্তরাজ্যের নতুন অনলাইন সেফটি অ্যাক্টठার্যকর হওয়াকেও একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্চ মাস থেকে এই আইন কার্যকর হওয়ার পর ফেসবুক, গুগল, রেডিট ও অনলি-ফ্যানসের মতো ১ লাখেরও বেশি ডিজিটাল সার্ভিসকে অবৈধ কনটেন্ট যেমন শিশু নিপীড়ন, সন্ত্রাসবাদ বা প্রতারণামূলক কনটেন্ট রোধে বাধ্য করা হয়েছে।

এই আইন কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যা বা আত্ম-আঘাত সংক্রান্ত কনটেন্ট থেকেও রক্ষা করার নির্দেশ দেয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় এই আইন শিথিল হতে পারে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে শিশু সুরক্ষা সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং একে “ভয়ানক আত্মসমর্ণ” বলে অভিহিত করে।

এই সেফটি সেটিংস চালুর সময় মেটার তৎকালীন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রেসিডেন্ট নিক ক্লেগ বলেছিলেন, “এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হলো—অভিভাবকদের হাতে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়া।” একইসঙ্গে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “বেশিরভাগ অভিভাবকরা এখনও এসব নিরাপত্তা ফিচার ব্যবহার করেন না।”

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian
প্রতিবেদনটি করেছেন: সাইফ হাসান | ওয়ানবাংলানিউজ