নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে লন্ডনে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বিক্ষোভ কর্মসূচী

109

ওয়ানবাংলানিউজ: গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতি শনিবার সেন্ট্রাল লন্ডনে লক্ষাধিক মানুষ বিক্ষোভ করে আছে।

এসব বিক্ষোভ সমাবেশ মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল। এপর্যন্ত শান্তি বিনষ্টের অভিযোগে ১৬০ জনকে গ্রেফতার করলেও লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিস বিক্ষোভ এর আয়োজকদের ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেছে।

আগামী ১১ নভেম্বর, শনিবার ব্রিটেন সহ কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলো পালন করবে আরমিসটিস ডে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আত্মাহুতি দেয়া সৈনিকদের স্মরণে এই দিনটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ব্যাপক আয়োজনে পালিত হয়। এ উপলক্ষে সেন্ট্রাল লন্ডনে বিপুল মানুষের সমাবেশ হবে। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় একই দিনে ফিলিস্তিনের সমর্থনে সেন্ট্রাল লন্ডনে আরও একটি বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিকে উস্কানিমূলক এবং যাঁতির প্রতি অসম্মানজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। হোম সেক্রেটারি সম্প্রতি আরও করা বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি এসব বিক্ষোভ মিছিলকে ‘হেইট মার্চ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

সোমবার পুলিসের সিনিয়র কর্মকর্তারা প্যালেস্টাইন এর সমর্থনে বিক্ষোভের আয়োজকদের সাথে এক বৈঠক করে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বিক্ষোভ থেকে কিছু লোক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু বিক্ষোভ সমাবেশ বাতিল করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন কেম্পেইনাররা। এরপর আয়োজকদের উদ্দেশে একটি বিবৃতি দিয়ে আবার বিক্ষোভ কর্মসূচী বাতিল করার অনুরোধ করেছে মেট্রোপলিটন পুলিস।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে লক্ষাধিক মানুষ আগামী শনিবারের বিক্ষোভে অংশ নিতে হাইড পার্ক কর্নারে সমবেত হবেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। হোয়াইট হলের সামনে অবস্থিত বিশ্বযুদ্ধের সমাধি সৌধ সেনোটাফে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ২ মিনিটের নীরবতা পালন করা হবে। তার এক ঘণ্টা পর দেড় মাইলের চেয়ে বেশী দূরত্বে শুরু হবে প্যালেস্টাইনের পক্ষে বিক্ষোভ। জনশৃঙ্খলা বিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ বলছেন, শেষ মুহূর্তে এসে বিক্ষব কর্মসূচী বাতিল করলে বিশৃঙ্খলাকে আরও বেশী উস্কে দেয়া হবে।

মেট্রোপলিটন পুলিস আশা করছে, তাদের আহবানে সাড়া দিয়ে আগামী শনিবারের বিক্ষোভ কর্মসূচী বাতিল করা হবে। কিন্তু নিরুপায় হয়ে পুলিসের পক্ষ থেকে সরকারকে এই সমাবেশ নিষিদ্ধ করার পরামর্শ দেয়া হলে সরকার তাই করতে প্রস্তুত।