খেলাধুলা ডেস্ক: কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় ম্যাচে টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে সেমিতে উঠে যায় মেসির আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচ ঘিরে এখনো চলছে নানা বিতর্ক। বিতর্কের জন্ম দেন স্প্যানিশ রেফারি ম্যাতেও লাহোজ। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি হলুদ কার্ড দেখা গিয়েছিল সেই ম্যাচে।
ম্যাচ শেষে ক্ষুব্ধ, বিরক্ত এবং একইসঙ্গে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন মেসি। স্প্যানিশ রেফারিকে একহাত নিয়েছিলেন। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে মেসি বলেন, রেফারি সম্পর্কে আমি কিছু বলবো না। আমার মনে হয় ফিফার ভেবে দেখা প্রয়োজন, এমন ম্যাচে এই ধরনের রেফারিকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত কিনা। এমন রেফারিকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়, যে কাজটার যোগ্য নয়।
আর্জেন্টিনা-নেদারল্যান্ডস ম্যাচে স্প্যানিশ রেফারি ম্যাতেও হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন ১৮টি। এর মধ্যে দুই দলের খেলোয়াড় তো আছেনই, কোচিং স্টাফরাও বাদ যাননি। আর্জেন্টিনা দলের ১০টি হলুদ কার্ডের মধ্যে দুটি দেখানো হয়েছে কোচ লিওনেল স্কালোনি আর তার সহকারীকে। এখানেই শেষ নয়, গোটা ম্যাচে মোট ৪৮ বার ফাউলের বাঁশি বাজিয়েছেন তিনি।
হলুদ কার্ড দেখা আটজনের মধ্যে ছিলেন মেসিও। আর প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখার জন্য তো সেমিফাইনালেই খেলতে পারবেন না মার্কোস আকুনিয়া ও গঞ্জালো মনট্রিয়েল। অন্যদিকে ডাচদের ৮টি কার্ড দেখিয়েছেন এই রেফারি। এরসঙ্গে ডেনজেল ডামফ্রায়েস-কে দুবার হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন লহোজ।
নাটকীয় ম্যাচ আর্জেন্টিনা জিতে যাওয়ার পর মাঠের কোনায় দাঁড়িয়ে উদযাপন করছিলেন। আর তারই মধ্যে রেফারি দৌড়ে গিয়ে কিনা বিজীয় দলের প্লেয়ারকে হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন! শেষ বাঁশির পর বিশ্বকাপের মঞ্চে হলুদ কার্ড আর হয়েছে কিনা জানা নেই। তবে লুসাইল স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই ম্যাচে ১৮টি কার্ড নিশ্চয়ই কুখ্যাত রেকর্ড হয়ে থাকল।
ম্যাচটির এমন রেফারিং নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিয়েছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি হলুদ কার্ড দেখানো লাহোজকে কাতার বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচগুলো পরিচালনা করা থেকে অব্যাহতি দিল ফিফা।
ম্যাচ শেষে মেসি রয়েসয়ে বললেও লাহোজকে ধুয়ে দেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তিনি বলেন, নেদারল্যান্ডসের জন্য ম্যাতেও নিজের সবটা দিয়ে দিয়েছিল। কোনও কারণ ছাড়াই ১০ মিনিট সংযুক্তি সময় দেওয়া হল। বক্সের বাইরে দু’তিন বার ফ্রিকিক দিল। ও চাইছিল নেদারল্যান্ডস যাতে গোল করে। ওরা তো ১২ জনে খেলছিল। আশা করছি ম্যাতেওকে আর দেখতে হবে না। জঘন্য রেফারি।
মার্টিনেজ অভিযোগ করেছেন, অকারণে সবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন ম্যাতেও। তিনি বলেছেন, ও বিশ্বকাপের সব থেকে খারাপ রেফারি। সেই সঙ্গে খুব উদ্ধত। ওকে কিছু বলতে গেলে খুব খারাপ ভাবে কথা বলে। আমার মনে হয় স্পেন বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ায় ম্যাতেও চেয়েছিল, আমরাও বেরিয়ে যাই।
তাদের এই সমালোচনার পরেই নড়েচড়ে বসে ফিফা। এই ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার ফুটবলার ফেডারেশনের পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয় ফিফার কাছে রেফারির বিরুদ্ধে। শনিবার ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি এটি নিয়ে বৈঠক করে সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচগুলো থেকে অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে ম্যাতেও লাহোজকে। স্প্যানিশ এই রেফারি কাতার বিশ্বকাপে আর কোনো ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন না।
হঠাৎ-ই এমন রেফারিং করেছেন লাহোজ, তেমন নয়। মাঠে সব সময়ই অস্থির থাকেন তিনি, হুটহাট বের করে ফেলেন হলুদ কার্ড। স্প্যানিশ এই রেফারির যে কার্ড দেখানোয় বিশেষ পারদর্শী, লা লিগার দর্শকরা তা ভালো করেই জানেন। এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৩৩৪ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন লাহোজ। লা লিগা, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ইউরোপা লিগ, বিশ্বকাপ, ইউরোর মতো টুর্নামেন্টে নিয়মিতই ডাক পড়ে তার। ৩৩৪ ম্যাচে ১ হাজার ৫৪২ বার হলুদ কার্ড বের করেছেন লাহোজ, যা ম্যাচ প্রতি ৪.৬২টি! গড়ে প্রতি ম্যাচে ২৪.৬৬ বার ফাউলের বাঁশি বাজিয়েছেন তিনি, সব মিলিয়ে ৬৭ বার লাল কার্ড দেখিয়েছেন লাহোজ।
উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ কার্ডের রেকর্ড ছিলো ২০০২ বিশ্বকাপে জার্মানি-ক্যামেরুন ম্যাচে। সেই ম্যাচে ১২টি হলুদ ও ২টি লাল কার্ডসহ মোট ১৪টি কার্ড দেখিয়েছিলেন রেফারি। এর আগে ২০০৬ সালে পর্তুগাল-নেদারল্যান্ডসের ম্যাচে ১৬টি কার্ড দেখিয়েছিলেন রুশ রেফারি ভ্যালেন্টাইন ইভানোভ।















