সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: প্রবীন রাজনীতিবীদ দিরাই উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা বিএনিপর সাবেক তিনবারের সভাপতি ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আব্দুস শহীদ চৌধুরী জন্ম মাটি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তাড়ল গ্রামে বাবা মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন। শনিবার বিকাল ৩ঘটিকায় দিরাই ও বিকাল ৫ঘটিকায় নিজ গ্রাম তাড়লে জানাযা শেষে তাড়ল কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
গত ২৭ অক্টোবর শুক্রবার লন্ডনের কিংসকলেজ হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ে রেখে গেছেন।
শহীদ চৌধুরী সত্তরের দশকে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ভিপি ছিলেন। তিনি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের মহকুমা সভাপতি ছিলেন। তিনি সুনামগঞ্জ বিএনপির প্রতিষ্টতা লগ্ন থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতা ছিলেন।
আব্দুস শহীদ চৌধুরী স্মৃতি চারণ করে সুনামগঞ্জ ১ আসনের সাবেক এমপি নজির হোসেন শহীদ চৌধুরী তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেন, আব্দুস শহীদ চৌধুরী ৬৯,৭০ সালে আমার প্রিয় সহকর্মী, তৎকলীন ছাত্র ইউনিয়নের মহকুমা সভাপতি, সুনামগঞ্জ কলেজের ভিপি ছিলেন। কমিউনিষ্ট পার্টির একটি গোপন গ্রুপ ছাত্র ইউনিয়ন পরিচালনার জন্য কাজ করতো।
শহীদ চৌধুরী ছিলেন ঐ গ্রুপের আহ্বয়ক। উনার গোপন নাম ছিল শাহাদত। হুমায়ূন কবীর চৌধুরী ও শহীদ মুক্তিযুদ্ধা গিয়াস উদ্দিন ছিল এই গ্রুপের সদস্য। সবাই ছিলেন পার্থী সদস্য। পিএম, সিপি, জিএম এই তিন ক্যাটাগরিতে পার্টি রিক্রুটমেন্ট চলতো।
আমি তখন সুনামগঞ্জের কমিউনিষ্ট পার্টির দায়িত্বে। কমিউনিষ্ট পর্টির এই ছাত্র গোপন গ্রুপটি ছাত্রইউনিয়ন সংগঠিত করতো, ৬৯ সালের গন-অভ্যুত্থান সংগঠনে কাজ করতো এবং ছাত্রইউনিয়নে স্বশস্ত্র ট্রেনিং দায়িত্ব নিয়োজিত ছিল। পরবর্তী সময়ে বালাট শরনার্থী শিবিরে কাজ করেন শহীদ চৌধুরী এবং মুক্তিযুদ্ধা রিক্রুটমেন্ট এর দায়িত্বে নিয়োজিত হন। ন্যাপ সিপিবি ছাত্রইউনিয়ন গেরিলাদল সংগঠনে কাজ করেন। আসলে শহীদ চৌধুরী আমার অনেক আগেই শহীদ জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। লন্ডন যাওয়ার আগে শহীদ চোধুরী আমার সাথে দেখা করেন এবং আমার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বইয়ের জন্য তার তথ্যনোট রেখে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলাম। তা রেখে যান, স্মৃতিগুলি মধুর এবং বেদনাময়।
শনিবার সকাল ১০ ঘটিকায় শহীদ চৌধুরীর মরদেহ লন্ডন থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী বিমান বন্দরে পৌঁছলে পরিবারে সদস্য বৃন্দ .সিলেট জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক বদরুজ্জান সেলিম, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির নেত্রীবৃন্দ সহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী মরহুমের মরদেহ গ্রহন করে সডক পথে দিরাই নিয়ে যান,বিকেল ৩ টায় দিরাই পৌর শহরের বিএডিসি মাঠে ২য় ও বিকেল ৫ টায় শহীদ চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি উপজেলার তাড়ল গ্রামের মাঠে ৩য় জানাযা শেষে বাবা মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়।
জানাযায় দিরাই,সুনামগঞ্জ ও সিলেটের অসংখ্য বিএনপি নেতাকর্মী ছাডা দিরাই উপজেলা আওয়ামীলীগ, জমিয়তে ইসলাম, জাতীয়পাটি, জাসদ, বাসদ, সহ সর্বস্তের জনসাধারন যেগদান করেন। উপস্থিত ছিলেন সাবেক এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী,সহ সভাপতি ওয়াকিবুর রহমান গিলমান,আব্দুল লতিফ জেপি,এডভোকেট মাসুক আলম.আবুল মনসুর শওকত,জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম,যুগ্ম সম্পাদক মোনাজ্জের হোসেন সুজন,সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জান কামরুল,সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মইন উদ্দিন সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আহাদ খান জামাল,
সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের আহবায়ক আনছার উদ্দিন, সিলেট জেলা ছাএদল সভাপতি সাইদ আহমদ, দিরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ আব্দুস কদ্দুস, উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদার, পৌর মেয়র মোশাররফ মিয়া, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আছাব উদ্দিন সরদার, সাবেক সভাপতি আলতাব উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশীদ চৌধুরী,উপজেলা জমিয়তের সভাপতি মাওলানা নিজাম উদ্দিন,জাসদ সাধারন সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ কয়েক সহস্রাধিক মানুষ জানাযায় উপস্তিত ছিলেন।















