যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চীনের দ্বারস্থ ইউক্রেন

242

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ার সাথে যুদ্ধের অবসানে সহায়তা চেয়ে চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের সাথে সরাসরি কথা বলতে চেয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বৃহস্পতিবার একথা জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট (SCMP)। এসসিএমপির সাথে একটি সাক্ষাৎকারে, ইউক্রেনীয় নেতা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে রাশিয়ার উপর তার বিশাল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করার জন্য নাকি চীনকে অনুরোধ করেছিলেন। জেলেনস্কিকে উদ্ধৃত করে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট- এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে -”চীন খুবই শক্তিশালী রাষ্ট্র। সেই সঙ্গে তার অর্থনীতিও বেশ শক্তিশালী… সুতরাং চীন রাজনৈতিকভাবে, অর্থনৈতিকভাবে রাশিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। এছাড়াও চীন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য।” পাশাপাশি জেলেনস্কি বুধবার প্রাক্তন জার্মান চ্যান্সেলর গেরহার্ড শ্রোডারের আচরণকে “ঘৃণ্য” হিসাবে চিহ্নিত করেছেন, যিনি বলেছিলেন যে রাশিয়া যুদ্ধের একটি “আলোচনামূলক সমাধান” চায়। শ্রোডার, রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের বন্ধু। তিনি গত সপ্তাহে ক্রেমলিন নেতার সাথে দেখা করার পর জানান ধীরে ধীরে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে । ক্ষুব্ধ জেলেনস্কি গভীর রাতে একটি ভিডিও ভাষণে বলেছিলেন-” এটি সত্যি ঘৃণ্য ঘটনা, যখন ইউরোপীয় মূল্যবোধ ভুলে এর প্রধান রাষ্ট্রগুলির প্রাক্তন নেতারা রাশিয়ার পক্ষে কাজ করে। ”ফেব্রুয়ারির ২৪ তারিখ ইউক্রেনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু এখনও কিয়েভ দখল করতে পারেনি তারা। লড়াইয়ে কয়েক হাজার সেনা ও বিপুল অস্ত্র খুইয়ে গত এপ্রিলে সামরিক অভিযানের প্রথম পর্বে ইতি টানার কথা ঘোষণা করে রাশিয়া। পাশাপাশি, ডনবাস অঞ্চলে অভিযান তীব্র করে তোলে পুতিনের বাহিনী। আমেরিকার অস্ত্রে বলীয়ান হয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করছে ইউক্রেন। তবুও ইউক্রেনে যুদ্ধ থামাতে ‘শক্তিশালী’ চীনের দ্বারস্থ হয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। অতীতে বারবার পশ্চিম ইউরোপ ও আমেরিকার কাছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠিন পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন জেলেনস্কি। শুধু তাই নয়, তিনি স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন, যুদ্ধ থামাতে সেই অর্থে আগ্রহী নয় ইউরোপ ও আমেরিকা। এহেন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার উপর চীনা প্রভাব কাজে লাগিয়ে আলোচনায় আসতে চাইছেন জেলেনস্কি।
সূত্র : জাকার্তা পোস্ট