হামলা করে, গোলা ছুড়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দখল নিল রুশ সেনারা

119

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কয়েক ঘণ্টার তীব্র লড়াই আর গোলাবর্ষেণের পর ইউক্রেনের জেপোরোজিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দখল করে নিয়েছে রাশিয়ার সেনাবাহিনী।
শুক্রবার ভোরের দিকে ইউক্রেইনের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের এনারহোদার শহরে রাশিয়ার গোলার আঘাতে ইউরোপের সবচেয়ে বড় এ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ট্রেইনিং বিল্ডিংয়ে আগুন ধরে যায়।

কয়েক ঘণ্টা পর ইউক্রেইন কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং তেজিস্ক্রিয়ার মাত্রা বাড়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। পরে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রুশ বাহিনীর দখলে চলে যাওয়ার খবর আসে।

জেপোরোজিয়ায় আগুন লাগার খবরে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, কারণ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্ষতিগ্রস্ত হলে এবং তেজিস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়লে তা বিশাল এলাকাজুড়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করতে পারত।

বিবিসি জানিয়েছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশেপাশে রাশিয়ার এ ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধের আহবান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, এমন ঘটনা কেবল ইউক্রেইন বা ইউরোপ নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই উদ্বেগজনক। আর কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এ ঘটনাকে বলেছেন ‘ভয়ঙ্কর’।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের উপ-প্রধানমন্ত্রী ডমিনিক রাব। তার ভাষায়, জেপোরোজিয়ায় যা হয়েছে, তা ‘গুরুতর’ একটি ঘটনা।

ছয় ইউনিটের ওই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন শুরু হয়েছিল ১৯৮৪ সালে। ইউরোপে এরচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আর নেই।

দেশটির পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এনারগোটমের তথ্য অনুযায়ী, ওই কেন্দ্রে ৫ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, যা ইউক্রেইনের মোট উৎপাদনের প্রায় এক পঞ্চমাংশ এবং দেশটিতের উৎপাদিত মোট পারমাণবিক বিদ্যুতের প্রায় ৪৭ শতাংশের সমান।