ওয়ানবাংলানিউজ: হোম অফিস স্বীকার করে নিয়েছে, নানা রকম পদক্ষেপ নেয়া সত্ত্বেও ছোটো নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ব্রিটেনে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রবেশ শিগগিরই ঠেকানো যাবেনা। শীত মৌসুমের তীব্র ঠাণ্ডায়ও গত কয়েক মাস ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়েছে হাজার হাজার মানুষ। তাই কেন্টে অবস্থিত সাবেক সেনা ঘাঁটি মেন্সটনে এসাইলাম সীকারদের জন্য একটি প্রসেসিং সেন্টার স্থাপন করেছে সরকার। ইংল্যান্ডের উপকূলে পৌঁছার পর এসব এসাইলাম সীকারদের ডোভার বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। ডোভার বন্দর থেকে তাদেরকে এখন কোচে তুলে নিয়ে যাওয়া হবে এই প্রসেসিং সেন্টারে। এখানে তাঁরা ৫দিন অবস্থান করবেন। এসময় এসাইলাম সীকারদের সকল তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হবে।
ডোভার ওয়েস্টার্ন ডকের জেটির কাছেই টাগ হ্যাভেনে অবস্থিত এই প্রসেসিং সেন্টারে কয়জন মানুষের থাকার জায়গা আছে, তা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে হোম অফিস। তবে ফ্রিডম অফ ইনফরমেশন আইনের আওতায় তথ্য চেয়ে বিবিসি জেনেছে, গত ক্রিসমাসের ঠিক আগে তিন শ মানুষকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা রেখেছিল কর্তৃপক্ষ। তবে শেষ পর্যন্ত এই খাবারের প্রয়োজন হয়নি। প্রসেসিং সেন্টারটি এখন ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।
১৫ বছর বয়সে কোনো অভিভাবক ছাড়া ব্রিটেনে এভাবে প্রবেশ করেছিলেন শেনো আদিল। এখন কেনটারবারি এলাকায় তিনি নিজেই সেলন ব্যবসা পরিচালনা করেন। এসাইলাম সীকারদের কষ্ট এবং দুর্দশা কেমন হয়, তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আছে আদিলের।
আদিল যখন শিশু বয়সে ইংল্যান্ডে আসেন, তখন তাঁর লালনপালনের দায়িত্ব নেন ডেভিড ফলি। গত কয়েক বছরে ৩০ এর বেশী এসাইলাম সীকারকে তিনি এভাবে আশ্রয় দেন।
এ বছরের জানুয়ারি মাসে ৪৬টি নৌকায় ১৩শ ৪১জন ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে ইংল্যান্ডে পৌঁছায়। গত বছরের জানুয়ারি মাসে ১৪টি নৌকায় এসেছিল ২২৪ জন। অর্থাৎ, গত জানুয়ারির চেয়ে এবারের জানুয়ারি মাসে ছয় গুন অভিবাসনপ্রত্যাশী ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে প্রবেশ করেছে ব্রিটেনে।
বিপদজনকভাবে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেয়া নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার এখন সেনা মোতায়েন করেছে। ডোভারে এখন তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। ব্রিটিশ সরকার বলছে, সাগরে নিরাপত্তাহীননভাবে মানুষের মৃত্যু ঠেকাতে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।















