অ্যান্ড্রু টেইটের চাঞ্চল্যকর মন্তব্য আদালতে ফাঁস!

40

ওয়ানবাংলানিউজ: বিশ্বজুড়ে বিতর্কিত ফিগার অ্যান্ড্রু টেইট এবার মুখোমুখি হচ্ছেন ভয়াবহ অভিযোগের। এক নারীকে তিনি বলেছিলেন, “তোমায় ধর্ষণ করবো কি না তা ভাবছি।”—এই দাবিটি উঠে এসেছে হাই কোর্টে দাখিল করা মামলার নথিপত্রে। মামলায় আরো দাবি করা হয়েছে, ওই নারীর উপর টেইট শারীরিকভাবে চড়াও হন, তাকে শ্বাসরোধ করেন এবং ধর্ষণ করেন। এমনকি একজন নারীকে তিনি বলেছিলেন, “তুমি আমার, আমি তোমায় মেরে ফেলবো।”
চারজন নারীর করা মামলায় উঠেছে ধর্ষণ, নিরযাতন ও মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ। ঘটনাগুলো ঘটেছে ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে। দুইজন তার ওয়েবক্যাম ব্যবসায় কর্মরত ছিলেন, বাকিরা ছিলেন তার প্রেমিকা। তিনজন নারী ২০১৯ সালে হ্যার্টফোর্ডশায়ার পুলিশকে জানান এসব ঘটনা, কিন্তু ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস অভিযোগ গঠন না করার সিদ্ধান্ত নেয়।
২০১৩ সালের এক ঘটনায় এক নারী জানান, তিনি অ্যান্ড্রু টেইটকে জানিয়েছিলেন তিনি শারীরিক সম্পর্কে ধীরে এগোতে চান। কিন্তু এক কিকবক্সিং ট্রেনিং সেশনের পর, টেইট তাকে তার ফ্ল্যাটে ধর্ষণ করেন।
নারীটির ভাষ্যে, “আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না তিনি এম কথা বলছেন। জিজ্ঞেস করেছিলাম—তুমি কি মজা করছো?” তিনি বলেন, টেইটের মুখ রাগে গরম হয়ে ওঠে। এরপর তিনি এক হাতে তার গলা চেপে ধরেন, অন্য হাতে অন্তর্বাস সরানোর চেষ্টা করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, “আমি তখন বলছিলাম, ‘না অ্যান্ড্রু, তুমি বলেছিলে তুমি এটা করবে না।’ তিনি তখন বলেন, ‘চুপ কর।’ আমি চুপ হয়ে গেলে, তিনি বলেন, ‘গুড গার্ল।’ আমি ভেবেছিলাম, চুপ থাকলে হয়তো গলা একটু ছেড়ে দেবেন।”
আরেক নারী বলেন, টেইট তাকে বন্দুক দিয়ে ভয় দেখিয়েছিলেন এবং পরে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের সময় তিনি ফিসফিস করে বলছিলেন, “গুড গার্ল।”
টেইট এসব অভিযোগক “ভুয়া ও সাজানো নাটক” বলে দাবি করেছেন। তার মতে, সম্পর্কগুলো ছিল পারস্পরিক সম্মতিতে। তার আইনজীবীরা বলছেন, যেহেতু ঘটনাগুলো তিন বছরের বেশি পুরনো, তাই এগুলোর উপর আইনগত সময়সীমা পার হয়ে গেছে।
আদালতে শুনানি হবে ১৫ এপ্রিল। বর্তমানে অ্যান্ড্রু টেইট ও তার ভাই দুবাইয়ে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian

প্রতিবেদনটি করেছেন: সাইফ হাসান | ওয়ানবাংলানিউজ