র‍্যাংকিংয়ের ছয়ে উঠার মিশনে মাশরাফির দল

754

খেলাধুলা ডেস্ক: কির্ম্বালিকে পৃথিবীর হীরের খনি বলা হয়। পৃথিবীতে যত হীরে আছে, তার ৯০ শতাংশই এখান থেকে উত্তোলিত হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় হীরের খনিও এই শহরে অবস্থিত। হীরের কথা এলো এই কারণে যে, বর্তমানে এখানেই অবস্থান করছে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটা এখানেই হবে। টেস্ট সিরিজের দুঃস্বপ্ন ঝেড়ে এরই মধ্যে ভেন্যুতে চলে এসেছেন দুই দলের ক্রিকেটাররা। সিরিজের প্রথম ম্যাচটা যে কোনো দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ম্যাচটা আরো গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, দুই দলেরই হীরের টুকরোরা এই ম্যাচে খেলবেন। এই ম্যাচ দিয়ে বিশ্রাম শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। আর অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা এই ম্যাচে পাচ্ছে তাদের সেরা রত্ন এবি ডি ভিলিয়ার্সকে। এ ছাড়া অবসর ভেঙে ফিরে এসেছেন জেপি ডুমিনি। আর এই হীরের শহরেই সফরের প্রথম জয় চায় টাইগাররা।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের প্রথম পর্বটা মোটেও ভালো কাটেনি বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচে ৩৩৩ রানে হারের প্রথম দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারে টাইগাররা। হতাশার টেস্ট সিরিজ শেষে ওয়ানডেতে লড়াইয়ে ফিরতে চায় বাংলাদেশ। মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসানের মতো তারকারা ওয়ানডে দলে ফিরেছেন। এ ছাড়া নাসির হোসেনের মতো অলরাউন্ডারও রয়েছেন ওয়ানডে স্কোয়াডে। এই কারণে ওয়ানডে সিরিজটা নিয়ে বেশ আশাবাদী টাইগার ভক্তরা। সম্প্রতি সময়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে পরিসংখ্যানটাও বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানটাও টাইগারদের পক্ষে কথা বলছে। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সর্বশেষ দুই লড়াইয়েই জয়ী দলটির নাম কিন্তু বাংলাদেশ!

সিরিজটা অন্য কারণেও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সিরিজ জিতলে র‍্যাংকিংয়ের ছয়ে উঠে যাবে মাশরাফির দল। সাকিব আল হাসান তো বলেই দিয়েছেন, সিরিজ জয়ের জন্যই মাঠে নামবেন তাঁরা।

দারুণ টেস্ট সিরিজের পর এখন বেশ ফুরফুরে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ঘরের মাঠে বাংলাদেশকে হারাতে খুব বেশি কষ্ট হওয়ার কথা নয় ফাফ দু প্লেসিদের। এ ছাড়া দলে ফিরেছেন এবি ডি ভিলিয়ার্সের মতো বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান। এ ছাড়া অবসর ভেঙে ফিরে এসেছেন জেপি ডুমিনি। ফর্মে থাকা টিম্বা বাভুমাকে ওয়ানডে স্কোয়াডে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া হাশিম আমলা, ফারহান বেহারদিন, কুইন্টন ডি ককের মতো পরীক্ষিত ক্রিকেটাররা তো রয়েছেনই। বোলিং বিভাগে ডেল স্টেইন, মরনে মরকেল, ভারনন ফিল্যান্ডারদের মতো বোলারদের না পেলেও চিন্তা করার কথা নয় দু প্লেসির। কাগিসো রাবাদা, এইডেন ফেলুকায়ো, ইমরান তাহির, ডেন পিটারসেন, ওয়েইন পারনেলদের মতো বোলাররা টেস্ট সিরিজে টাইগারদের বেশ ভুগিয়েছেন। ইমরান তাহির ও ফাফ দু প্লেসি এরই মধ্যে হুমকি দিয়ে রেখেছেন সফরবারীদের। সিরিজ জয়ের বিষয়ে খুব একটা সন্দেহ নেই তাঁদের।

সব মিলিয়ে ইতিহাস কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষেই কথা বলছে। এ পর্যন্ত ১৭ ম্যাচ মোকাবিলায় প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ১৪ ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশ। দুই দলের বর্তমান ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন হাশিম আমলা। টাইগারদের বিপক্ষে ৯ ম্যাচে ৩০২ রান করেছেন এই ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন তামিম ইকবাল। ১০ ম্যাচে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের সংগ্রহ ২৫৪ রান। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে সবচেয়ে ভালো পরিসংখ্যান সৌম্য সরকারের। তিন ম্যাচে ১০২ গড়ে ২০৫ রান করেছেন তিনি। ব্যাট হাতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের পরিসংখ্যান ততটা ভালো নয়। বল হাতেও অতীতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সুবিধা করতে পারেননি সাকিবরা। গত বাংলাদেশ সফরে দক্ষিণ আফ্রিকাকে সিরিজ হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই সিরিজের পারফরম্যান্সই ঘুরেফিরে আসছে বাংলাদেশের রেকর্ডবুকে।

সিরিজের আগে অবশ্য কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে ওয়ানডের সাম্প্রতিক ইতিহাস, সাকিব-তামিম-মাশরাফিদের জ্বলে ওঠা আর কিছুটা কন্ডিশনের সহায়তা পেলে প্রতিপক্ষের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানো খুব কঠিন হওয়ার কথা নয়।

বাংলাদেশ সম্ভাব্য একাদশ : সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, সাব্বির রহমান, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, নাসির হোসেন, লিটন দাস, মাশরাফি বিন মুর্তজা, তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান।

দক্ষিণ আফ্রিকার সম্ভাব্য একাদশ : কুইন্টন ডি কক, হাশিম আমলা, এবি ডি ভিলিয়ার্স, ফাফ দু প্লেসি, জেপি ডুমিনি, ডেভিড মিলার, ফারহান বেহারদিন, ইমরান তাহির, ওয়েইন পারনেল, কাগিসো রাবাদা ও ডেন পিটারসেন।