১০ দেশের জন্য খুলে যাচ্ছে থাইল্যান্ডের দরজা

125

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: করোনার ঝুঁকি খুব কম এমন কমপক্ষে ১০টি দেশের ভ্রমণকারীদের জন্য ১লা নভেম্বর থেকে খুলে যাচ্ছে থাইল্যান্ডের দরজা। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর যেসব পর্যবেক্ষক পূর্ণ ডোজ করোনার টিকা নিয়েছেন, তারা করোনা সংক্রান্ত কোয়ারেন্টিন ছাড়াই সেখানে যেতে পারবেন। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে বৃটেন, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জার্মানি প্রভৃতি। তবে তাতে বাংলাদেশের নাম আছে কিনা তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

থাইল্যান্ডের সাবেক সেনাপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ওচা স্বীকার করেছেন, কিছুটা ঝুঁকি মাথায় নিয়েই তাদেরকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। কারণ, পর্যটনের জন্য বিখ্যাত থাইল্যান্ড। সারা বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ প্রতি বছর এই দেশটি সফরে যান।

ফলে থাইল্যান্ডের অর্থনীতির বড় অংশের যোগান দেয় পর্যটন। কিন্তু প্রায় দু’বছরের কাছাকাছি করোনা মহামারির ফলে বিধিনিষেধ, পর্যটনে নিষেধাজ্ঞা, কোয়ারেন্টিন- ইত্যাদি কারণে সেখানকার অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে পড়েছে। এখন সরকার এ সিদ্ধান্ত নেয়ার মাধ্যমে সেই ধসে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করছে।

এখনও থাইল্যান্ডে জুলাই থেকে প্রতিদিন করোনায় নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষ। থাইল্যান্ডের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৭ কোটি। এর মধ্যে শতকরা প্রায় ৩২ ভাগকে পূর্ণ ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। অর্ধেক জনসংখ্যাকে দেয়া হয়েছে এক ডোজ টিকা। প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ওচা বলেছেন, তারা আগামী ডিসেম্বর থেকে বিনোদনের বিভিন্ন ভেন্যু খুলে দেবেন। অ্যালকোহল বিক্রির অনুমোদন দেবেন। ওই সময়ে আরো দেশের জন্য থাইল্যান্ডকে উন্মুক্ত করে দেয়ার পরিকল্পনা আছে কর্তৃপক্ষের। সোমবার স্থানীয় টেলিভিশনে দেয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব ঘোষণা দেন।

কম ঝুঁকিপূর্ণ এমন ১০টি দেশের পর্যটকদের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যখন তারা থাইল্যান্ডে আসবেন, তাদেরকে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষায় নেগেটিভ সনদ দেখাতে হবে। পৌঁছার পর আর একবার পরীক্ষা করাতে হবে। তবে এ পরীক্ষার খরচ পর্যটক নিজে করবেন নাকি সরকার বহন করবে সে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি বলেন, যদি দ্বিতীয় পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ দেখা যায়, তাহলে ওইসব দেশের ভিজিটররা সাধারণ থাই নাগরিকদের মতো অবাধে ভ্রমণ করতে পারবেন।

বালুকাময় সমুদ্র সৈকতের জন্য বিশ্বের কাছে জনপ্রিয় থাইল্যান্ড। সেখানে রাতের যে জীবনধারা তাও বিপুল সংখ্যক পর্যটককে আকৃষ্ট করে। নানা রকম উপকরণ মেলে সেখানে। ধারণা করা হচ্ছে, শুধু ২০২০ সালে দেশটি পর্যটন খাতে প্রায় ৫০০০ কোটি ডলার লোকসান হয়েছে। দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটাই সেখানকার অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা। এ বছরের প্রথম আট মাসে সেখানে গিয়েছেন কমপক্ষে ৭০ হাজার পর্যটক। কিন্তু ২০১৯ সালের প্রথম আট মাসে এই সংখ্যা ছিল ৪ কোটি। উল্লেখ্য, করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে থাইল্যান্ডে কমপক্ষে ১৭ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন কমপক্ষে ১৮ হাজার।