ব্রিটেনে নতুন ১৫ লাখ গৃহস্থালি জ্বালানি-দারিদ্রে ভুগবে

306

ওয়ানবাংলানিউজ ডেস্ক: আগামী বছরগুলোতে কয়েক বিলিয়ন গৃহস্থালির জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি পাবে। জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকেরা এই পূর্বাভাস দিচ্ছেন। বিশ্বব্যাপী গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবেলা করতে হবে গৃহস্থালি এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের। শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, জ্বালানির এই বাড়তি খরচের বোঝা ক্রেতাদের কাঁধে তুলে দেয়া ছাড়া তাদের কোনো উপায় নেই। বাসা-বাড়ির গ্রাহকদের সুরক্ষা দিতে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যের ওপর যে সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেয়া আছে, সেই সীমাও অগাস্ট-সেপ্টেম্বরের দিকে আরও উপরে তোলা হবে। চ্যারিটি সংস্থাগুলো বলছে, জ্বালানির এই মূল্য বৃদ্ধির কারণে ব্রিটেনে নতুন করে ১৫ লাখ গৃহস্থালি জ্বালানি-দারিদ্রে ভোগবে।

রাশিয়া থেকে পাইপলাইনে ব্রিটেনে আসছে গ্যাস। রাশিয়ায় দাম বেড়েছে গ্যাসের। ফলে এর প্রভাব পড়বে ব্রিটেনের সকল গ্রাহকের ওপর। ব্রাডফোরডের পেনশনার সুজান পাওয়েলের মাসিক জ্বালানি বিল ৮৫ পাউন্ড থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১২৫ পাউন্ডে।
এই বিল বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যের প্রভাব পড়ার আগেই। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়ার পর এপ্রিল মাস থেকে জ্বালানির মূল্যের সর্বোচ্চ সীমা এখন যা আছে, তাঁর চেয়ে ৩০ শতাংশ বাড়ানো হবে। চ্যারিটি সংস্থাগুলো সতর্ক করে দিয়ে বলছে, এই মূল্য বৃদ্ধির ফলে ব্রিটেনে নতুন ১৫ লাখ পরিবার জ্বালানি-দারিদ্রে ভুগবে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম কেবল রেকর্ড হারে বৃদ্ধি পায়নি, বেড়েছে অবিশ্বাস্য মাত্রায়। যেমনঃ চলতি বছরের প্রথম ভাগে জ্বালানির মূল্যের সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ বৃদ্ধির কারণে প্রতীতি ঘরের গড় বিল ছিল ১২শ ৭৭ পাউন্ড। এভাবে মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী এপ্রিল মাসে এই বিল ১২শ ৭৭ থেকে বেড়ে ১৭শ থেকে ১৮শ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে।

আগামী এপ্রিলের শুরু থেকে ট্যাক্স যেমন বাড়বে, জ্বালানির বিলও একই সময়ে বাড়বে। ব্রিটেনের বিজনেস সেক্রেটারি জ্বালানির এই ক্রমাগত মূল্য বৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দেখছেন অন্যখানে। তিনি বলছেন, রাশিয়ার মতো উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশ-বান্ধব পদ্ধতিতে উৎপাদিত দেশীয় জ্বালানির ওপর আমাদের নির্ভরতা বাড়াতে হবে।

জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের জন্য বছরের পর বছর ব্রিটিশরা একটি ওয়েবসাইট ব্যবহার করে আসছেন। কিন্তু এই মুহূর্তে এই ওয়েবসাইট নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।

গ্যাসকে রাশিয়া ব্যবহার করছে কূটনীতির কৌশলে। দেশটির গ্যাস সরবরাকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান পুরনো এবং ভালো গ্রাহক দেশগুলোকে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর অন্যদের বলেছে, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে আসতে।

দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য গ্যাসের মজুদ বাড়ানো যেতে পারে। বাসা-বাড়ির ইন্সুলেশন করা যেতে পারে। কিন্তু এসব করেও আগামী কয়েক মাসে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি থেকান সম্ভব নয়।