নিজের মৃত্যুর দৃশ্য ফেসবুকে লাইভ করতে চান এক ফরাসি নাগরিক

497

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিজের মৃত্যুর দৃশ্য লাইভ করতে চান অ্যালা কক নামের এক ফরাসী নাগরিক । ঐ ব্যক্তি জটিল এক শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন৷ যার কোনো চিকিৎসা নেই৷ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে শান্তিতে মারা যেতে চান তিনি৷ স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি না দেয়ায় ফ্রান্সে দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত ঐ ব্যক্তি গত শনিবার রাত থেকে তার মৃত্যুদৃশ্য ফেসবুকে লাইভ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন৷

তবে তার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে দেয়নি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ৷ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর কাছে সেই অনুমতি চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন অ্যালা কক৷ কিন্তু ফিরতি চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ জানিয়েছেন, ফরাসী আইন অনুযায়ী কাউকে এই অনুমতি দেয়ার সুযোগ নেই৷

ফেসবুক পেজে সেই চিঠি তুলে দিয়েছেন অ্যালা কক৷ চিঠিতে প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ তাকে লিখেছেন, ‘‘যেহেতু আমি আইনের উর্দ্ধে নই, সেহেতু আপনার অনুরোধটি রাখতে পারছি না৷’’এই চিঠি পাওয়ার পর শুক্রবার রাত থেকে খাদ্য, পানীয় ও ঔষধ সেবন বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ৫৭ বছর বয়সি অ্যালা কক৷ তার ধারণা, এতে এক সপ্তাহেরও কম সময় বাঁচবেন তিনি৷

আর গত শনিবার থেকে নিজের সেই মৃত্যু দৃশ্য ‘ফেসবুকে লাইভস্ট্রিম’ করবেন৷ এর মধ্য দিয়ে শুধু নিজের না, তার মতো পরিস্থিতিতে থাকা সবারই সেচ্ছামৃত্যুর ইচ্ছাপূরণ কেন জরুরি সেটিও তিনি তুলে ধরতে চান৷ তিনি যে কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তা সবাই যাতে উপলব্ধি করতে পারেন এবং ভবিষ্যতে এই আইন পরিবর্তন হয় সেটি তার উদ্দেশ্য৷পরিকল্পনা অনুযায়ী কক ফেসবুকে লাইভ শুরুও করেছিলেন৷

কিন্তু কিছুক্ষণ পরই তাকে ব্লক করে দেয়া হয়৷এর আগে শনিবার বার্তা সংস্থাকে এএফপিকে ফেসবুকের একজন মুখপাত্র বলেছেন, জটিল এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য অ্যালা কক যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটির প্রতি তাদের শ্রদ্ধা আছে৷ কিন্তু অ্যাকাউন্ট থেকে যাতে লাইভ ব্রডকাস্ট না করা যায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে৷ এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের অফিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে যারা রয়েছেন, তাদের (স্বেচ্ছামৃত্যুর) অধিকারের জন্য ককের প্রতিশ্রুতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল মাক্রোঁ৷ রোগীদের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে স্বেচ্ছামৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে ফ্রান্সে৷

ভিনসেন্ট ল্যাম্বার্ট নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুকে ঘিরে এ নিয়ে সবচেয়ে আলোচনা হয়েছে৷ ২০০৮ সালে তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে কোমা পরিস্থিতিতে চলে যান৷ গত বছরের জুলাইতে ডাক্তররা লাইফ সাপোর্ট খুলে নেয়ার পর মারা যান তিনি৷ তাকে বাঁচিয়ে রাখা হবে কিনা এ নিয়ে পরিবার থেকে শুরু করে গোটা দেশই বিভক্ত হয়ে পড়ে৷ ল্যাম্বার্টের বাবা-মা চেয়েছিলেন তিনি বেঁচে থাকুন৷ অন্যদিকে স্ত্রী এবং ভ্রাতুষ্পুত্ররা ছিলেন মৃত্যুবরণের সুযোগ দেয়ার পক্ষে৷ লাইফ সাপোর্ট খুলে নেয়ার পর বিষয়টি আদালতেও গড়িয়েছে৷

তবে আইন অনুযায়ী যথাযথ সিদ্ধান্ত নেয়ায় এবং তদন্তকারীদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলা থেকে খালাস পান চিকিৎসকরা৷ এদিকে ফেসবুক ভার্জকে ইমেইলের মাধ্যমে জানিয়েছে, ‘অ্যালা ককের প্রতি আমাদের সমবেদনা। কিন্তু আমরা এভাবে আত্মহত্যার লাইভ সম্প্রচার করতে পারি না। তাই তার ভিডিও ব্লক করা হয়েছে।’

ফ্রান্সের গণমাধ্যম জানিয়েছে, ফেসবুক ভিডিও ব্লক করলেও অন্য উপায়ে নিজের মৃত্যুর লাইভ করতে চান অ্যালা কক। এ জন্য তিনি নতুন উপায় খুঁজছেন।

অ্যালা ককের আশা, তার মৃত্যুর পর ফ্রান্স সরকার অন্যদেরও গণতান্ত্রিক অধিকারে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণের অনুমতি দেবে!