ঢাকা সংবাদদাতা: বাংলাদেশের একজন সফল নারী নাম নাসরিন আউয়াল মিন্টু। তিনি একজন সফল সংগঠক। সফল শীর্ষস্থানীয় উদ্যোক্তা। কাজ করছেন নতুন উদ্যোক্তাদের নিয়ে। আর তাই নারী উদ্যোক্তাদের সমস্যার সমাধান, তাদের পণ্যের প্রসার, দক্ষতা বাড়ানোসহ নানা ইতিবাচক ভাবনা থেকে গড়ে তোলেন উইমেনস এন্টারপ্রেনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ওয়েব)। হন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ভবিষৎতে প্রবাসী নারীদের উদ্যোক্তা তৈরি করতে ও ট্রেনিং কর্মসূচির পরিকল্পা রয়েছে তার। সম্প্রতিক সময়ে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা।
প্রতিনিধি: করোনা পরবর্তীতে উদ্যোক্তা নারীদের কোন বিষয়টিতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত?
নাসরিন আউয়াল: করোনাকালে নারী উদ্যোক্তাদের সমস্যা এবং তা কাটিয়ে উঠানোর বিষয়টিও গভীরভাবে তাড়া করছে আমাকে। তাই এই ক্ষতি পুষিয়ে কীভাবে স্বচ্ছতা ফেরানো যায়, তা নিয়ে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছি। করোনা মহামারীকালে বিশ্বের প্রায় সব ব্যবসা চলছে অনলাইনভিত্তিক। দেশের অনেক ব্যবসাও এখন অনলাইনে হচ্ছে। নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে বড় ব্যসায়ীরাও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। কিন্তু প্রান্তিক ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তারা এখনো ই-কমার্স থেকে অনেক দূরে। ফলে তাদের অনেকেই ছিটকে পড়েছেন ব্যবসা থেকে। তবে এসব নারী উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করতে পারলে ঠিকই তারা টিকে থাকতে পারবেন।’
প্রতিনিধি: যুক্তরাজ্যের নারীরা তো তথ্য প্রযুক্তিতে এগিয়ে, সেক্ষেত্রে তাদের উদ্যোক্তা তৈরিতে কোন ধরনের পরিকল্পা আছে কি?
নাসরিন আউয়াল: এখানে অনেক নারী উদ্যোক্তা রয়েছো। যারা কিনা এখানেই ব্যবসা করছেন। তবে এই উদ্যোক্তারা কিভাবে দেশের সাথে সংযোগ হয়ে ব্যবসা করতে পারে সেই লক্ষ্যে এখনই কাজ করার সময়। প্রবাসী নারীরা কমিউনিকেশনে এগিয়ে। তারা কাজেও স্মার্ট। তাই প্রবাসী কোন নারী যদি দেশের সাথে মিলে ব্যবসা করতে চায় তাহলে অবশ্যই দেশের নারী সংগঠনগুলো তার পাশে থাকবে।
প্রতিনিধি: অনেক নারীরা দেশ থেকে পন্য এনে এখানে বিক্রি করে কিন্তু এই সব পন্য আনুষ্ঠানিক ভাবে পাঠাতে নারী সংগঠনগুলো কোন কাজ করছে?
নাসরিন আউয়াল: দেশ থেকে অনেক নারীই নিজ উদ্যোগে কিছু পন্য নিয়ে ওখানে অনলাইনে বিক্রি করছে। তবে তা একদমই ইনফরমাল। তবে এই সব পন্য যদি ফরমার্লি পাঠানো যায় তাহলে বিদেশে বাংলাদেশের পন্য বিশেষ করে-জামদানি শাড়ি, টাঙ্গাইল শাড়ি, নকশি কাথা, হোম ডেকোরেশনের পন্য বিক্রির সুযোগ বেশি করে তৈরি হবে। তাই আমরা সরকারের কাছে এই বিষয়ে প্রস্তাব দেবো। যাতে করে প্রবাসের নারীরা সহজেই বাংলাদেশের পন্য হাতে পেতে পারে। একই সাথে নারী উদ্যোক্তাদের জন্যও একটি আয়ের প্লাটফর্ম তৈরি হয়।
প্রতিনিধি: আপনার উদ্যোক্তা তৈরি হওয়ার গল্পটি কেমন ছিলো?
নাসরিন আউয়াল: স্বনামধন্য খ্যাতিমান ব্যবসায়ী ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টুর সহধর্মীনি আমি। গবেষণাধর্মী ব্যবসায়ের নেশা থেকে যিনি গড়ে তুলেছেন একের পর এক প্রতিষ্ঠান, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। কিন্তু স্বামীর পরিচয়ে নয়, নিজের পায়েই এগিয়ে যেতে চেয়েছি আমি। সে লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে বাড়ির সামনে গুলশান অ্যাভিনিউয়ে স্ট্রবেরি স্ট্রিট নামে একটি কসমেটিকের দোকান খোলেন। এর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আমাকে। কিছুদিন পর জনসন অ্যান্ড জনসনের পরিবেশক হই।
প্রতিনিধি: কখন মনে করেছেন উদ্যোক্তা নারীদের জন্য সংগঠন করবেন?
নাসরিন আউয়াল: দেশের নারীর সমস্যাগুলোই তাকে বেশি ভাবায়। আর সেই ভাবনা থেকে ২০০০ সালে ওয়েবের জন্ম, নারী উদ্যোক্তাদের পণ্যের প্রসার ঘটানোই যার উদ্দেশ্য। যেন সবাই প্রতিভার মূল্য পান, তেমনি কষ্টেরও স্বীকৃতি মেলে। সেই সঙ্গে যেন পান পণ্যের ন্যায্য দাম পায় এই লক্ষ্যে কাজ করছে আমার সংগঠনটি।
প্রতিনিধি: বর্তমানে দেশে নারীরা কোন বিষয়গুলোতে পিছিয়ে রয়েছে? আর সে লক্ষ্যে কোন ধরনের উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে?
নাসরিন আউয়াল: দেশের সব ধরনের নারীরা এখনও প্রযুক্তির সাথে পরিচয় ঘটে নি। তাই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে নারীদের তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করার মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি আত্ম-কর্মসংস্থানের জন্য কারিগরি, বৃত্তিমূলক ও আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ, উৎপাদনশীল উপকরণ এবং ক্ষুদ্রঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। আবার সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যাতে তারা কাজ করতে পারে নিশ্চিত করতে হবে সেই দিকটিও। নারীদের ড্রাইভিং শেখানোর মাধ্যমে উবার, পাঠাওসহ বিভিন্ন সেক্টরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পাশাপাশি সরকারের উদ্যোগে কুটিরশিল্পেও সম্পৃক্ত রাখা যেতে পারে প্রশিক্ষণ পাওয়া নারীদের। তাদের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ নগদ প্রণোদনার পাশাপাশি দেশ-বিদেশের মেলায় অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। রপ্তানি মেলাগুলোয় নিশ্চিত করতে হবে ১০ শতাংশ স্থায়ী স্টলের কোটা। সেই সঙ্গে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চালু করতে হবে ওয়ান স্টপ সেবা।’
প্রতিনিধি: যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হ্যান্ডিক্রাফটের অনেক চাহিদা রয়েছে। এইসব পন্য এখানেই তৈরি করার কোন উদ্যোগ নেবেন কিনা?
নাসরিন আউয়াল: আমি মনে করি প্রবাসের নারীরা যদি দেশের পন্য তৈরি করে প্রবাসেই বিক্রি করতে পারে তাহলে দেশের পন্যের প্রসার ও নতুন নারী উদ্যোক্তা পাবো আমরা। তাই বিদেশে যদি কোন ধরনের ট্রেনিং বা কর্মশালার আায়োজন করা যায় তাহলে হয়তো আমরা নতুন করে আরও কিছু নারী উদ্যোক্তা পাবো।















