মো: কাওছার : যুক্তরাজ্যে নাগরিক পরামর্শ সংগঠনগুলির মধ্যে অন্যতম হলো সিটিজেন এ্যডভাইস সেন্টার। অর্থ, আইনী প্রক্রিয়া, গোপনীয়তা তথ্যসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করে থাকে এ সংস্থাটি।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ২১ লাখ ছাড়িয়েছে। এছাড়া সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭০ লাখ ৩০ হাজার ৬জন। আর এ মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫ লাখ ৫২ হাজার। বর্তমানে মৃতের সংখায় ব্রাজিলের পরেই আছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪৪ হাজার ১৬০ জন। এছাড়াও মারা গেছেন ৬৭ হাজার ৯৬৪ জন।
আর এর প্রবল থাবা পড়ছে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতেও। দিন দিন বাড়ছে চাকরীহারাদের সংখ্যা। বেকার হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। বেনিফিটের সন্ধানে মানুষ ঘুরছে এডভাইস সেন্টারে। সিটিজেন অ্যাডভাইস বলছে যে প্রতি দু মিনিটে একবার পরামর্শ চেয়ে কল পাচ্ছেন তারা।
বেনিফিট পরামর্শের জন্য ওয়েবসাইটে বেনিফিট পৃষ্ঠাগুলিতে রেকর্ড পরিমান ভিজিট দেখা যায় যা ২৩শে মার্চ থেকে ৪.৪ মিলিয়ন ভিউয়ার রয়েছে। এ সংস্থাটি বলছে এটি একটি কর্মসংস্থান সংকটের ইঙ্গিত দেয়।

সিটিজেন অ্যাডভাইস সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যে অনেক কর্মসংস্থানের ব্যাবস্থা আছে তা জনগনকে নিশ্চিত করতে হবে।
সিটিজেন অ্যাডভাইসের চিফ এক্সিকিউটিভ যেম গিলিয়ান পাই বলেছেন যে, কর্মসংস্থানের সংকট এখন লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য শীর্ষ উদ্বেগ। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য চাকরি ও প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত বলেও তিনি মনে করেন।
যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাস মহামারী এবং সরকার কর্তৃক আরোপিত লকডাউন ব্যবস্থার ফলে অনেক ব্রিটিশ সংস্থা তাদের কর্মক্ষেত্রে হৃাস পেয়েছে এবং অনেকগুলি ছোট ব্যবসায়ীগন আশংকা করছে যে তারা যদি খুব শীঘ্রই তাদের ব্যবসা পুনরায় খুলতে না পারে তাহলে তারা টিকে থাকতে পারবেনা।
ডেইলি মিরর এবং ডেইলি এক্সপ্রেসের মালিক রিচ ঘোষণা করেছেন যে জুনের প্রান্তিকে ৩০% আয় কমে যাওয়ার কারণে তারা ১২% কর্মী বা ৫৫০ জনের চাকরি কাটবে।
ট্রেড ইউনিয়ন জানিয়েছে, মিডল্যান্ডস এবং উত্তর পশ্চিমের জাগুয়ার ল্যাান্ড রোভার উতপাদন কেন্দ্র সরবরাহকারী প্রায় ২,২০০০ জন কর্মচারীর চাকরিও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
গত সপ্তাহে জন লুইস, টপশপের মালিক আর্কিডিয়া, হ্যারোডস এবং টিএম লেউইনের মতো একাধিক হাই স্ট্রিটের খুচরা বিক্রেতারা ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ১২০০০ এরও বেশি চাকরি হারিয়েছেন।
ডব্লিউ স্মিত, বেনসন ফর বেডস, রাইটস পাইস, টেবিলওয়্যার প্রস্তুতকারী স্টিলাইট ইন্টারন্যাশনাল, লিভারপুলের অ্যাডেলফি হোটেল এবং নরভিচ থিয়েটার রয়্যালও কর্মীদের হৃাস করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।
বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজে ১২ হাজার, যুক্তরাজ্যে এয়ারবাস ১৭ হাজার, আর ইপিজেট ১৩ শত ক্রু এবং ৭২৭ জন বিমানের চালকের চাকরি হারাচ্চেছ।
যুক্তরাজ্যের পর্যটন শিল্পকে ব্যাপক ধবংস থেকে রক্ষা করতে সরকারকে জরুরি সহায়তা দেওয়া আহবান জানিয়েছে টুরিজম ইন্ড্রাস্টিজ।
যদিও ৪ জুলাই পাব, বার, ক্যাফ এবং রেস্তোঁরাগুলি পুনরায় খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, এরই মধ্যে প্রিট এ ম্যানজারের ১ হাজার, ক্যাফে রুজের ক্যাসুয়াল ডাইনিং গ্রুপ ১৯০০ জন এবং আপার ক্রাস্টের এস এস পি গ্রুপের ৫০০০টিরও বেশি চাকুরী হারিয়েছে।















