করোনা: বাংলাদেশী অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসে প্রায় ৪৫০ জনের মৃত্যু: এশিয়ানদের মৃত্যু ঝুঁকি প্রায় ৪গুন বেশি

8592
ফাইল ছবি

জাকির হোসেন কয়েছ: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশী টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলেই প্রায় ৪৫০জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এদের মধ্যে প্রায় ৩০ ভাগের বেশি হচ্ছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত। এই হিসেবে প্রায় ১৫০জন বাংলাদেশী শুধু টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলেই মৃত্যুবরণ করেছে বলে জানিয়েছেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের একটি সূত্র।

এদিকে করোনা ভাইরাসে এথনিক কমিউনিটির মানুষজন কেন বেশী আক্রান্ত হচ্ছেন তা খতিয়ে দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে বিশেষ চিঠি দিয়েছেন টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র জন বিগস।

এর বাইরে মেয়রের নির্দেশে কুইনম্যারী ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ দল এবং স্থানীয় জিপিদের সম্মনয়ে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলও বিশেষ একটি গবেষনা শুরু করেছে। তাদের প্রাথমিক বিশ্লেষনে দেখা গেছে যে, বারায় বসবাসরত বাসিন্দাদের মধ্যে শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় দক্ষিণ এশীয় বাসিন্দাদের মধ্যে করোনা ভাইরাসে সংক্রমনের হার প্রায় দ্বিগুন (১.৯ গুন বেশী)। অথ্র্ াপ্রতি ৩০ জন আক্রান্তের মধ্যে প্রায় ২০ জনই দক্ষিন এশিয়।

অন্যদিকে দ্য অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্সের ( জাতীয় পরিসংখ্যান অফিস) জানিয়েছে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সাদা মানুষের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের মৃত্যুর ঝুকি প্রায় ৪গুন বেশি।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নতুন বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে বয়সের সাথে সামঞ্জস্য করার পরে, ককেশীয় মানুষের তুলনায় কালো মহিলারা ৪.৩ এবং কৃষ্ণ পুরুষদের দ্বারা ৪.২ শতাংশ বেশি মারা যায়। অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘুদেরও তীব্র ঝুঁকি রয়েছে।

বাংলাদেশী এবং পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত পুরুষদের এই রোগে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা ৩.৬ গুণ বেশি এবং মহিলাদের মধ্যে ৩.৪ গুণ বেশি পাওয়া গেছে।

ভারতীয় জাতিগত লোকদের মধ্যে, মহিলাদের মারা যাওয়ার সম্ভাবনা ২.৭ গুণ বেশি এবং পুরুষরা ২.৪। চাইনিজ নৃগোষ্ঠীর পক্ষে, পুরুষদের জন্য উচ্চতর ঝুঁকি ছিল মহিলাদের জন্য ১.৯ এবং ১.২।

করোনাভাইরাস থেকে মারা যাওয়ার ঘটনাও যুক্তরাজ্যের সর্বাধিক বঞ্চিত অংশে দ্বিগুণ বেশি পাওয়া গেছে, যেখানে সংখ্যালঘু সংখ্যালঘু ব্যাকগ্রাউন্ডের লোকেরা সাধারণত স্বল্প বঞ্চিতদের তুলনায় বাস করেন।