লকডাউনের মধ্যেই আশুলিয়ায় শ্রমিকদের বিশাল বিক্ষোভ

362

ঢাকা সংবাদদাতা: সাভারের আশুলিয়ায় বকেয়া বেতনের দাবীতে দুটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। বুধবার সকালে আশুলিয়ার শিমুলতলা এলাকার ওয়ার্ল্ড ওয়ান ডেনিম লিমিটেড ও ডিইপিজেড এলাকার এ ওয়ান বিডি সুয়েটার কারখানার শ্রমিকরা দাবি আদায়ে এ বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেন। শিল্প পুলিশ ও বিক্ষোদ্ধ শ্রমিকরা জানায়, আশুলিয়ার শিমুলতলা এলাকার ওয়ার্ল্ড ওয়ান ডেনিম লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা কয়েকদিন ধরেই বকেয়া বেতনের দাবীতে বন্ধ থাকা কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে আসছিলো। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে বুধবার সকাল ১০ টার দিকে বকেয়া বেতনের দাবীতে আব্দুল্লাপুর-বাইপাইল সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে সড়ক থেকে সড়িয়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। অন্যদিকে চার মাসের বকেয়া বেতনের দাবীতে ডিইপিজেড এর এ-ওয়ান কারখানার শ্রমিকরা প্রথমে বেপজা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। পরে তারা সেখানে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে নবিনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলটি ইপিজেড এর সামনে থেকে শুরু হয়ে বাইপাইল দিয়ে ঘুরে পুনরায় একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

এসময় বেপজা কর্তৃপক্ষ দ্রæত শ্রমিকদের বকেয়া বতেন পরিশোধের আশ্বাস দিলে তারা চলে যায়। বিক্ষোদ্ধ শ্রমিকরা জানায়, গত ৪ মাস ধরে ঢাকা রপ্তানী প্রক্রিয়াকরন এলাকার (ডিইপিজেড) পুরাতন জোনের এ ওয়ান বিডি সুয়েটার কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ না করে গড়িমষি করছে। দফায় দফায় বেপজা কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে শ্রমিকরা বিক্ষোভ থেকে সরে আসলেও কোন সমাধান হচ্ছেনা। তাই বাধ্য হয়ে মহামারী করোনারকে উপেক্ষা করে বকেয়া বেতনের দাবীতে শ্রমিকরা ইপিজেডের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয় এবং নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বাংলাদেশ বস্ত্র ও পোশাক শিল্প শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সরোয়ার হোসেন বলেন, একদিকে করোনা অন্যদিকে চার মাস যাবৎ কোন বেতন না পাওয়ায় শ্রমিকরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। এই সংকটময় মুহুর্তে তিনি জরুরী ভিত্তিতে শ্রমিকদের বকেয়া পাওনাদি পরিশোধের দাবী জানান। এ ব্যপারে ডিইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আব্দুস সোবহান বলেন, আমরা ইতিমধ্যে মালিকপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি। তবে মালিকপক্ষ অর্থ সংকটে শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছে না, এবং এমন কি কারখানাটিও চালু করতে পারছে না। এ কারনে যতো দ্রুত সম্ভব শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধ করার চেষ্টা চলছে। ঈদের আগেই এ বিষয়ে একটি সমাধানের কথাও জানান এই কর্মকর্তা। ঢাকা শিল্প পুলিশ-১ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জানে আলম খান বলেন, শিমুলতলা এলাকার কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য চেষ্টা রয়েছে। এছাড়াও ডিইপিজেড এলাকায় যে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।