ছাত্রলীগের এক জেলায় ৪ কমিটি

747

ঢাকা সংবাদদাতা: নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে ভেলকিবাজি। সকালে একটা দুপুরে একটা আর রাতে আরেকটা কমিটি দেখা যাচ্ছে। ফেসবুকে চার চারটি কমিটি দেখা যাচ্ছে। এনিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্ঠি হয়েছে। তাদের নিজ নিজ সমর্থকরা অবশ্য অভিনন্দন জানাচ্ছেন, এমনকি আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরনের মত ঘটনাও ঘটেছে। তবে কারো কাছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারন সম্পাদক স্বাক্ষরিত কমিটির কোন কপি নেই।

দলীয় সূত্রে জানাগেছে, ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। শহরের সুলতান মঞ্চে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি এইচ.এম. বদিউজ্জামান সোহাগ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। তোফায়েল মাহমুদ তুফানকে সভাপতি এবং শেখ আশরাফুজ্জামান মুকুলকে সাধারন সম্পাদক করে কমিটি ঘোষনা করা হয়। বর্তমান কমিটির মেয়াদ প্রায় সাড়ে ৩ বছর চলছে। এ কমিটি নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি ছাড়া অন্য কোন উপজেলা বা পৌর কমিটি গঠন করতে পারেনি রাজনৈতিক জটিলতার কারনে।

এদিকে নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন ১৯ এপ্রিল হওয়ার কথা থাকলেও অদৃশ্য কারণে তা হয়নি। এরপর থেকে জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ সভাপতি সম্পাদক পদ পেতে ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে ধর্না দিচ্ছেন প্রার্থীরা। গত চারদিনে জেলা ছাত্রলীগের চারটি কমিটি ফেসবুকে ঘুরছে। এর মধ্যে রয়েছে বর্তমান কমিটির সাধারন সম্পাদক শেখ আশরাফুজ্জামান মুকুলকে সভাপতি এবং সহ-সভাপতি নিলয় রায় বাঁধনকে সাধারন সম্পাদক করা হয়েছে।

অপরদিকে বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি শেখ হাবিবুল্লাহ হোসেন বিপ্লবকে সভাপতি এবং সহ-সভাপতি সজিব বিশ্বাসকে সাধারন সম্পাদক করে অপর কমিটিকে অভিনন্দন জানানো হচ্ছে। এছাড়া শামীম খন্দকারকে সভাপতি এবং নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক পলাশ হাসান জয়কে সাধারন সম্পাদক করে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি দেখা যাচ্ছে। বিএম মাহাবুবুর রহমানকে সভাপতি এবং মানিককে সাধারন সম্পাদক করে সর্বশেষ কমিটি দেখা যাচ্ছে। এ প্রতিবেদকের কাছে এ চারটি কমিটিকে অভিনন্দন জানানো কপি সংরক্ষিত রয়েছে।

ফেসবুকে এরকম একাধিক কমিটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা।

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামরুজ্জামান কামাল লিখেছেন, ছাত্রলীগ নিয়ে কিছু লেখার ইচ্ছা ছিল না কারণ যে দিন ছাত্রলীগ ছেড়েছি সেই দিন ঠিক করেছি ছাত্রলীগকে সহযোগিতা করতে পারলে করবো, না হলে চুপ থাকবো। কিন্তু বর্তমান সময়ে নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে যেটা হলো তা দুঃখজনক। আমরা বর্তমানে তিনটি কমিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখছি যার কোনটির মধ্যেই কেন্দ্রীয় সভাপতি/সাঃ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত কপি নাই। তাহলে ছাত্রলীগের যে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে এর দায় কে নেবে ? আপনাদের কাছে অনুরোধ প্রিয় প্রতিষ্ঠানকে মানুষের হাসি তামাশায় পরিণত করবেন না। আমাদের আস্থা রাখতে হবে জেলা আওয়ামীলীগ ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি। তারা যে কমিটি প্রকাশ করবে তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন থাকতে হবে ও সহযোগিতা করতে হবে। আমরা নেতার প্রতি আস্থায় বিশ্বাসী।

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বর্তমান জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক জিএস পলাশা লিখেছেন, জেলা ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে এ কোন সার্কাস চলছে। পরবর্তীতে তিনি আবার লেখেন, জেলা ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে যা দেখছি আর শুনছি কি আর বলব! ভাল থাকুক প্রিয় সংগঠন ছাত্রলীগ, আর কিছু বলার নেই।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক শেখ আশরাফুজ্জামান মুকুলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তোফায়েল মাহমুদ তুফান বলেন, জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি-সম্পাদক আমাদের সাথে কোন কথা বলেননি। আমার জানামতে কোন কমিটি গঠন হয়নি।