যুক্তরাজ্যে ব্লুটাং ভাইরাসের প্রকোপ আরও বাড়ার আশঙ্কা

68

সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যে গবাদিপশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়া ব্লুটাং ভাইরাসের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির প্রধান পশু চিকিৎসক। টিকার সংকট থাকলেও খামারিদের দ্রুত টিকাদান চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারি তথ্যে দেখা গেছে ডেভন ও কর্নওয়াল অঞ্চলে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি। তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে সংক্রমিত মাছির মাধ্যমে এই রোগটি আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

যুক্তরাজ্যে গবাদিপশুর ব্লুটাং ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক রূপ নিচ্ছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৩৯৫টি খামারে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ডেভনেই ২২৮টি এবং কর্নওয়ালে ৮৪টি খামারে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইউরোপ থেকে জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন আমদানি করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধান ভেটেরিনারি অফিসার ড. ক্রিস্টিন মিডলমিস জানিয়েছেন, বছরের পঞ্চম তাপপ্রবাহের পর সংক্রমিত মাছির বিস্তার বাড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তিনি খামারিদের উদ্দেশ্যে বলেন, ইউরোপে টিকাদানের হার যুক্তরাজ্যের চেয়ে বেশি হলেও এখনো সময় আছে। খামারিদের দ্রুত টিকার অর্ডার দিয়ে পশুদের সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

আক্রান্ত ভেড়ার মুখে ঘা, ঠোঁট ফুলে যাওয়া এবং মারাত্মক দুর্বলতা দেখা দেয়, যা অনেক ক্ষেত্রে পশুর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। অন্যদিকে আক্রান্ত গরুর শরীরেও দুর্বলতা, মুখের চারপাশে লালচে ভাব এবং খাবার বন্ধ করে দেওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংক্রমণ মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় চিকিৎসকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ওকহ্যাম্পটনের বার্ষিক কৃষি প্রদর্শনীতে গরু, ভেড়া ও ছাগল প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সহায়তায় কর্নওয়ালের এক এমপি জরুরি তহবিল গঠনের দাবি জানিয়েছেন। মিডলমিস আরও উল্লেখ করেছেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই ভাইরাসটি দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী সমস্যা হয়ে উঠতে পারে, তাই সুরক্ষায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি বজায় রাখতে হবে।

#ব্লুটাং_ভাইরাস #যুক্তরাজ্য #গবাদিপশু #aknews #onebanglanews