সাইফ হাসান: পূর্ব লন্ডনে গাড়ির ভেতরে প্রেমিকের হাতে নিহত হন কেনেডি ওয়েস্টকার-সাবারোচে। প্রেমিক গোগোয়া লুইস টেপ তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে মৃতদেহ গাড়িতে নিয়েই ঘুরতে থাকেন তিনি। পরদিন সকালে ভাইকে গিয়ে স্বীকার করেন হত্যার কথা। আদালত মানসিক স্বাস্থ্য আইনে তাকে হাসপাতাল আটকাদেশ দিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল রাতে হ্যাকনির হুইস্টন রোডে। ২৫ বছর বয়সী কেনেডির মৃতদেহ পাওয়া যায় একটি ভক্সহল গাড়ি থেকে। ময়নাতদন্তে জানা যায়, শ্বাসরোধের কারণে তিনি মারা যান, তবে শরীরে আঘাতের চিহ্নও ছিল যা আত্মরক্ষার চেষ্টা প্রমাণ করে।
২৮ বছর বয়সী টেপ আদালতে স্বীকার করেছেন যে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় খুন করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা সেবন করতেন এবং স্কিজোফ্রেনিয়ায় ভুগছিলেন বলে আদালত শুনেছে। হত্যার পর তিনি প্রেমিকার সিট পরিবর্তন করে সিটবেল্ট বেঁধে গাড়ি চালিয়ে বেড়ান। এমনকি মৃতার ফোন ব্যবহার করে তার বন্ধুকে মেসেজও পাঠান।
পরের দিন ভোরে ভাইকে জাগিয়ে তিনি বলেন, “আমি কেনেডিকে মেরে ফেলেছি, ভাই।” পুলিশ গ্রেপ্তার করার পরও তিনি জানান, “আমার মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছিল, গত দুই-তিন বছর ধরে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছি।”
বিচারক ফ্রেয়া নিউবেরি বলেন, কেনেডি ছিলেন উজ্জ্বল ও সুন্দরী তরুণী, বয়স মাত্র ২৫। তার ছোট্ট মেয়ে এখন মাকে হারিয়েছে, আর বাবাই মায়ের হত্যাকারী—এই ভার সে সারাজীবন বহন করবে। নিহতের মা লিন্ডা ওয়েস্টকার বলেন, “আমার মেয়েকে নিষ্ঠুরভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে এমন একজনের কাছ থেকে, যাকে সে বিশ্বাস করত।”
টেপ ও কেনেডির পরিচয় হয়েছিল প্রায় দশ বছর আগে কলেজে। তবে ২০২৩ সাল থেকে টেপের মানসিক অবস্থা অবনতি হতে থাকে। তিনি হঠাৎ সন্দেহপ্রবণ ও ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে ওঠেন। চিকিৎসকরা তাকে গাঁজা থেকে বিরত থাকতে বললেও তিনি তা মানেননি। শেষ পর্যন্ত মানসিক অসুস্থতা এবং সহিংসতার কারণে আদালত তাকে হাসপাতাল আটকাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রেরণ করেছে।















