ওয়ানবাংলানিউজ ডেস্ক: মেয়াদোত্তীর্ণ নির্বাহী কমিটি ও মেয়াদোত্তীর্ণ সদস্যদের মধ্যে থেকে ডেলিগেট ভোটার সিলেক্ট করে বার্মিংহামে গ্রেটার সিলেট ডেভোলাপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল ইউকে’র বিজিএম ও নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৩। একতরফা বিজিএম ও নির্বাচন সম্পন্নের পর স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই নির্বাচন ও এর ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন । উল্লেখ্য, জিএসসির দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘন, মেম্বারশিপ ফি ও ফান্ড রাইজিংকৃত অর্থের হিসেবে গরমিল এবং স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে লিখিত পত্রসহ তিনটি সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়েছে। এর পরেও শুধুমাত্র পদ-পদবি টিকিয়ে রাখতে নির্বাচনের পূর্বে বিশেষ সাধারণ সভা ডেকে মেয়াদোত্তীর্ণ নির্বাহী কমিটি ও মেয়াদোত্তীর্ণ সদস্যদের মেয়াদ বৃদ্ধি করে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য বিভিন্ন রিজিওন ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির কিছু সদস্যদের দাবি অগ্রাহ্য করে বর্তমান কমিটির দায়িত্বশলীরা একতরফা এই নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে ।
১। সেন্ট্রাল কমিটির নির্বাচনের জন্য শুধুমাত্র সময়মতো মেম্বারশিপ ফি জমা দেয়া সদস্যদের মধ্যে থেকেই সংবিধানসম্মত উপায়ে ডেলিগেট সিলেক্ট করা জরুরি। কিন্তু সংগঠনে মেম্বারশিপ অনুমোদন, কয়েকটি রিজিওনে ভূয়া মেম্বার থেকে ভূয়া ভোটার (ডেলিগেট) সিলেক্ট করে ভোটার তালিকা প্রণয়ন, একেকসময় একেক কথা বলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট ও নিয়মবহির্ভূত আচরণ, সর্বোপরি বর্তমান কমিটির যারা প্রার্থী তারাই নির্বাচনের নিয়ন্ত্রক বিধায় এবং নমিনেশন ফি ব্যাংকে সময়মতো জমা না দিয়ে নিজেরাই তথাকথিত ‘এডমিনিস্ট্রেটিভ সিদ্ধান্ত’ নিয়ে নিজেদের অবৈধ নমিনেশন বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন পরিচালনা করায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জন করে তাদের ভাষায় ‘নর্থ কোরিয়া মডেলের’ এই প্রহসনের নির্বাচনের ফলাফল বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
২। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাংবাদিক সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়া স্বত্ত্বেও আজ্ঞাবহ ও বিতর্কিত নির্বাচন কমিশনের ভোটাভুটির আয়োজন ছিল সম্পূর্ণ তামাশা। তারা বলেন, এটা যে একটি প্রহসন ও তামাশার নির্বাচন ছিল তা আমরা আগে থেকেই বলে আসছিলাম। এমনকি সাংবাদিক সম্মেলনে পর্যন্ত দাবি করা হয়েছিল যে, বিতর্কিত ও আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে তামাশা ও প্রহসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে মরিয়া ছিলেন তারা। অনেকগুলো কারণের মধ্যে তথাকথিত ফলাফল (রেজাল্ট) শীটই তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খুসরু খানের প্রচার করা এবং নির্বাচন কমিশনারদের দস্তখতকৃত নির্বাচনী ফলাফল শীটে দেখা যায় যে, নির্বাচন বর্জনকারী পক্ষের এজেন্ট হয়ে রোজ প্যানেলের কোর্ডিনেটর ও প্রার্থী তৌফিক আলী মিনার নিজের নাম লিখে স্বাক্ষরও করেছেন। সাপ্তাহিক পত্রিকার পক্ষ থেকে সোমবার খুসরু খাঁনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বর্জনকারী পক্ষের এজেন্ট হয়ে ফলাফল শীটে তৌফিক আলী মিনারের স্বাক্ষরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বলে পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। তবে এটা কিভাবে সম্ভব আর কতোটকুইবা গ্রহণযোগ্য এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারেন নি বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে যে একটি প্রহসনের নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে তাতে আর কোনো সন্দেহ থাকলো না। এছাড়া নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দায়িত্বশীলদের অযাচিত হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণের কারণে সর্বোপরি নমিনেশন ফি জমা না দিয়ে নিজেদের প্রার্থিতা টিকিয়ে রাখা এবং নমিনেশন প্রত্যাহারের তারিখ বার বার পরিবর্তন করা এবং ভোটার লিস্ট সকল প্রার্থীদের না দেয়ার কারণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ আব্দুর রাকিবের পদত্যাগের পর ব্যারিস্টার আবুল কালামের বিতর্কিত নিয়োগ নির্বাচনকে করেছে সম্পূর্ণ প্রশ্নবিদ্ধ। এছাড়া নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ব্যারিস্টার আবুল কালাম চেয়ারম্যান প্রার্থী ব্যারিস্টার আতাউর রহমানের সাবেক ব্যবসায়িক পার্টনার ও ঘনিষ্টজন হওয়ায় ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’র বিষয়টি নিয়ে মিডিয়া ও কমিউনিটিতে চলমান বিতর্ক আরো তুঙ্গে উঠেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, তৌফিক আলী মিনার সাহেবের ব্রাঞ্চ বেডফোর্ডের মেম্বারশিপ ঘোষণা করা হয়েছিল ডেডলাইনের পরে, ফি এসেছে এক বছরের অধিক কাল পরে, তাও আবার অর্ধেকের চেয়ে কম। এরপরেও তিনি মেম্বার ও নির্বাচনে একক মার্কা রোজ প্যানেলের প্রার্থী, কারণ তিনি ক্ষমতাসীনদের পক্ষের লোক ! বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ইলেকশন কমিশনারদের সামনে বর্জনকারীদের এজেন্ট হয়ে স্বাক্ষর করে তার ষোলোকলা পূর্ণ করে খেয়েছেন ধরা, সাথে সাথে উন্মোচন করলেন, নির্বাচন কমিশনারদের পুরো চেহারা। কারণ নির্বাচনে ত্রুটিযুক্ত সদস্য থেকে যে ডেলিগেট সিলেক্ট করা হয়েছে তার সংখ্যা ছিল ৭৪২ জন। এর মধ্যে সাধারণ সভার কোরাম পূর্ণ হওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল ২৪৭ জন। নির্বাচনে টেনে-টুনে কোরাম দেখানো হলেও ২৯ জানুয়ারির নর্থ কোরিয়ান মডেলের নির্বাচনে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সাথে একাত্মতা পোষণ করে জিএসসির সাধারণ সদস্য এবং সত্যিকার ডেলিগেটবৃন্দ নির্বাচন বর্জন করেছেন। নির্বাচন কমিশনাররা যদি প্রতিদ্বন্দ্বী একজন প্রার্থীকে চিনতে না পারেন, তাহলে তারা ভোটার ডেলিগেটদের কিভাবে চিনবেন ? এটা এক বিরাট প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে ? তাহলে কোরাম পূর্ণ হওয়ার বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ প্রার্থীদের না চিনলে সত্যকারের ডেলিগেটের মাধ্যমে যে নির্বাচন ও বিএজিএম সম্পন্ন হয় নাই তার সুস্পষ্ট প্রমান পাওয়া যায়। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সংগঠনের প্যাট্রন ও সাবেক নেতৃবৃন্দ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দসহ বিলেতের পুরো কমিউনিটি এই নির্বাচনকে নাকচ করেছে। তাই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এই প্রহসন ও তামাশার নির্বাচনও এর ফলাফল ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন ।
৩। চ্যারিটি ট্রাস্টি ও কার্যকরী কমিটির সদস্য এবং বিভিন্ন রিজিওনের সদস্যদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংগঠনের সম্মানিত প্যাট্রনদের অনুসন্ধানে সাউথ ইস্ট রিজিওনের প্রায় ৯০০ সদস্যের ফি বাবদ প্রায় নয় হাজার পাউন্ড মেম্বারশিপ ফি ডেডলাইনের পরে জমা হওয়া স্বত্তেও এদের মধ্যে থেকে প্রার্থী ও ডেলিগেট সিলেক্ট করে নির্বাচন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে । বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, শুধুমাত্র ৩০ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে (মেম্বারশিপ ডেডলাইনের তারিখ) জিএসসি অফিসে ফি বাবদ জমাকৃত প্রায় £১৬০৮০ পাউন্ডের মধ্যে সেন্ট্রাল একাউন্টে মাত্র £৯,০৬০ পাউন্ড জমা দেয়া হয়েছে। বাকি সাত হাজার পাউন্ডের চেক সাউথ ইস্ট অথবা সেন্ট্রাল ব্যাংক একাউন্টে সময়মতো জমা দেয়া হয় নাই। এমনকি কিছু চেক কোনো একাউন্টেই জমা দেয়া হয় নাই। এর মধ্যে সেন্ট্রালের দায়িত্বপ্রাপ্তরাও রয়েছেন। অচিরেই উনাদের নামসহ বিস্তারিত জানানো হবে এবং চ্যারিটি কমিশনের পূর্ণাঙ্গ তদন্তে তা বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করা হয়েছে ।
নর্থ ইস্ট রিজিওনের পাঁচশত মেম্বারের ফরম (যদিও প্রথমে বলা হয়েছিল ৪৬৫ জন) নজিরবিহীনভাবে সংশ্লিষ্ট রিজিওনে জমা না দিয়ে সেন্ট্রাল অফিসে জমা হয়েছে বলে মেম্বারশিপ ডেডলাইনের একদিন পরে বর্তমান দায়িত্বশলীরা নর্থ ইস্টের তৎকালীন দায়িত্বশীলদের জানিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, সেন্ট্রাল অফিসে কথিত জমাকৃত ফরম সংশ্লিষ্ট রিজিওনে দুই বছরেও পাঠানো হয় নাই। সেন্ট্রাল চেয়ার বিলেতের জনপ্রিয় টিভি শো ‘রিয়ালিটি উইথ মাহি’ অনুষ্ঠানে স্বীকার করেছেন যে, কোবিডের কারণে মেম্বারশিপ ফরম লন্ডন থেকে নিউকাসল যেতে দুই বছর সময় লেগেছে। মজার ব্যাপার হলো, মেম্বারশিপ ডেডলাইনের সময় ছিল ৩০ নভেম্বর ২০১৯ আর রিজিওনে জমাকৃত ফরম এর কপি ও ফি’র অংশ সেন্ট্রালে দেয়া এবং সেন্ট্রালে জমাকৃত ফরম এর কপি ও ফি’র অংশ রিজিওনকে দেয়ার ডেডলাইন ছিল ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। কোবিড রেস্ট্রিকশনই আসলো ২০২০ সালের মার্চের শেষে। এছাড়া কোবিডের সময় পোস্ট কি বন্ধ ছিল তা সবার জানা? নর্থ ইস্টের অপরপক্ষ অভিযোগ করেছেন যে, ”নর্থ ইস্টে নিজস্ব বলয়ের প্রার্থীকে জিতিয়ে আনার জন্য সেন্ট্রালের দায়িত্বশলীদের সহযোগিতায় দুই বছর ব্যাপী মেম্বার সংগ্রহ করে এর পরেই কেবল রিজিওনকে কপি দেয়া হয়েছে। করোনা মহামারীতে যখন সবাই নিজেদের শোধরানোর জন্য মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করেছেন আর উনারা নির্বাচনে জেতার জন্য মেম্বারশিপ ফরমের কারসাজিতে ব্যস্ত ছিলেন। এইসব মেম্বার দিয়েই সেন্ট্রাল চেয়ার ও উনাদের পৃষ্ঠপোষক সাবেক একজন চেয়ারের নেতৃত্বে নর্থ রিজিওনের নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে । ডেলিগেট সিলেকশনের দিকে থাকালেই এর বাস্তবতা চোখে ধরা পরে। তিনটি ব্রাঞ্চের দায়িত্বশীলদের পর্যন্ত ডেলিগেট তথা ভোটার তালিকায় রাখা হয় নাই”।
একইভাবে সাউথ ওয়েলস এর মেম্বারশিপ ফি’র একটা অংশ যা প্রায় চারশত মেম্বারের ফি’র সমান, ডেডলাইনের তিনমাস পরে জমা দেয়া হয়েছে। মেম্বারশিপ ডেডলাইনের দিন সেন্ট্রাল ট্রেজারার সালেহ আহমদ সাহেব চেক নিয়ে আসলেও তা সেন্ট্রাল একাউন্টে জমা দেন নাই। নিজেদের বলয় ভারী করতে তিনমাসের ব্যবধানে তা সংগ্রহ করে জমা দেয়া হয়েছে । ঐ রিজিওনে মাত্র কয়েকটি ভোটের ব্যবধানে নির্বাচনে প্রার্থীরা জয়ী বা পরাজিত হয়েছেন । তাহলে ভূয়া মেম্বারদের ভোটে যারা নির্বাচিত হলেন এবং এদের মধ্যে থেকে যাদেরকে ডেলিগেট (সেন্ট্রাল কমিটি নির্বাচনে ভোটার) করা হয়েছে তাদের লেজিটিমিসি থাকে কি করে ?
ঠিক একইভাবে সাউথ ওয়েস্ট এর কয়েকশত মেম্বারের ফরম সেন্ট্রাল ট্রেজারারের মাধ্যমে সেন্ট্রাল অফিসে জমা হয়েছে বলে জানানো হয়। ঐ রিজিওনের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এতদূর থেকে লন্ডনে এসে ফরম জমা দেয়ার কারণ কি ? প্যাট্রনদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সেন্ট্রাল ব্যাংক একাউন্টের তথ্য মতে ঐ রিজিওনেরও সকল ফি সময়মতো জমা হয় নাই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭(১) লঙ্ঘন করে ত্রুটিযুক্ত নমিনেশন ফর্ম (বর্তমান কমিটির চেয়ার, সেক্রেটারি ও ট্রেজারারের নাম সম্বলিত) দিয়ে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করে বর্তমান দায়িত্বশীলদের বাড়তি সুযোগ দিয়েছেন।
নিজেদের পক্ষের লোকদের নমিনেশনের চেক ক্লিয়ার না হওয়াতে বর্তমান কমিটির সেক্রেটারি যিনি আবারো সেক্রেটারি প্রার্থী তথাকথিত এডমিনিস্ট্রেটিভ ক্ষমতাবলে চেক ক্লিয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় বাড়িয়ে নিজেরাই নিজেদের নমিনেশন বৈধ ঘোষণা করেছেন। আর নির্বাচন কমিশন চেয়ে চেয়ে সংবিধান সমুন্নত রাখার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করছেন (নর্থ কোরিয়ান মডেলও ফেল ) ! সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এর সামান্য নমুনা দেখেই পদত্যাগ করেছেন। এর চেয়ে ভয়ানক ধরণের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা দেখেও নতুন নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য দু’জন সংবিধানের লেখা খোঁজে নাকি কিছুই পান না! পাবলিক ল এবং ল অব ল্যান্ড বলে কিছু বিষয় বোঝেও না বুঝার ভান করলেন। আর করবেন না কেন ? তথাকথিত নির্বাচনে তাদের পছন্দের লোকদের নির্বাচিত হওয়ার ঘোষণাটা যে দিয়ে যেতে হবে।
৪। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭(২) এ পরিষ্কার বলা হয়েছে তিনজন সদস্যের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। কিন্তু বর্তমান কমিটি যারা নিজেদেরকে তথাকথিত সুপ্রীম মনে করেন, সংবিধান লঙ্ঘন করে চারজন সদস্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিউনিটির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র জনাব মোহাম্মদ আব্দুর রাকিব সেন্ট্রাল কমিটি ও বর্তমানে একই পদে প্রার্থীদের অযাচিত প্রভাবের (আনডিউ ইন্টারফেরেন্স) প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন। এর পরেও তিনজন কমিশনার থাকলেও আবারো সংবিধান লঙ্ঘন করে বিতর্কিত পন্থায় একজন চেয়ার পদপ্রার্থী ও অন্যান্য কয়েকজন প্রার্থীর আপত্তি স্বত্তেও বর্তমান চেয়ারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, সাবেক ব্যবসায়িক পার্টনার সর্বোপরি নেক্সট ডোরের নেইবার ব্যারিস্টার আবুল কালামকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয় । এর পরে কমিউনিটির আরেক বিশেষ ব্যক্তিত্ব জনাব জাকির খাঁন পদত্যাগ করেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে ব্যারিস্টার আবুল কালাম বর্তমান চেয়ারের প্রতি উনার সম্পর্কের পুরোটাই উজাড় করে দিয়েছেন বলে বিবৃতিতে বলা হয় । মিডিয়াতে একেক সময় একেক কথা বলা (অনেকে আবার এ ধরণের আচরণ আশা করেছিলেন বলে খুব একটা হতাশ হননি)। শুধু আফসোস করেছেন এই ভেবে যে, কিভাবে উনারা এতটুকু পর্যন্ত যেতে পারেন !
এছাড়া এক পক্ষকে মার্কা দিয়ে অনুনোমোদিত বেলট পেপার দিয়ে নির্বাচন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দুই জন নির্বাচন কমিশনারদের স্থায়ী অনুপস্থিতি, নির্বাচন কমিশন সদস্য প্রার্থীদের অভিযোগ শুনতে অনিহা, আলোচনায় বসতে নারাজ, বা যোগাযোগ করতে ব্যার্থ, প্রার্থীদের সাথে নির্বাচন কমিশনারদের কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট ইত্যাদি কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোট বর্জন করেছেন বলে জানান।
সর্বোপরি নির্বাচন কমিশন এবং বর্তমান দায়িত্বশীলরা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ হয়ে কাজ করায় দায়িত্বশলীদের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিএসসি’র ২৯ জানুয়ারির ২০২৩ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ‘নর্থ কোরিয়া মডেলের’ নির্বাচন বর্জন ও নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন । তারা বলেন, নির্বাচন কমিশনারসহ কলঙ্কজনক ইতিহাস সৃষ্টিকারীদের বিলেতের কমিউনিটি চিরদিন রাখবে স্মরণে, তবে ঘৃণা ও রক্তক্ষরণে । বিবৃতিতে সকল সম্মানিত সদস্য ও ডেলিগেট যারা নির্বাচন বর্জন করেছেন তাদের সবার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।
৫। গ্রেটার সিলেট ডেভোলাপমেন্ট ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল ইউকের বিভিন্ন রিজিয়নের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে গত ৩০ শে জানুয়ারী সেইভ দ্যা জি এস সি শীর্ষক এক জরুরী ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয় । সংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক মুক্তিযুদ্ধা সৈয়দ আব্দুল কাইউম কয়সরের সভাপতিত্বে ও সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ মকিস মনসুর এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে যোগদান করে সংগঠনের পেট্রন ও সাবেক কেন্দ্রীয় চেয়ারপার্সন ডঃ হাসানাত এম হোসেইন এমবিই ও সাবেক চেয়ারপার্সন ও পেট্রন কে এম আবু তাহের চৌধুরী।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক কেন্দ্রীয় চেয়ারপার্সন নুরুল ইসলাম মাহবুব, বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী শাহনূর আহমদ খান, সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ডঃ মুজিবুর রহমান, সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারন সম্পাদক হাবিবুর রহমান রানা, স্পোর্টস মাউথ শাখার সভাপতি মসুদ আহমদ, সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক হেলেন ইসলাম, বিভিন্ন রিজিয়নের নেতৃবৃন্দের মধ্যে হারুনুর রশীদ, মীর গোলাম মোস্তফা, সৈয়দ মুজিবুর রহমান, নুরুল ইসলাম,আসরাফ মিয়া, ফুলজার আহমেদ, মোহাম্মদ কাইয়ুম খান, কদর উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিন, আব্দুর রহিম রনজু, সৈয়দ জিয়াউল ইসলাম, নূর আহমদ কিনু, মাসুম আহমেদ, আফসারুজ্জামান পারভেজ, দেলোয়ার হোসেন, রকিবুর রহমান, এবি রুনেল,জামাল খান নুরুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান, রেজাউল করিম সিপার, জামাল হোসেন, রুহুল আমিন চৌধুরী মামুন, মফিকুল ইসলাম, শিপন আহমেদ, সেবু আহমেদ, মশফিক চৌধুরী, সৈয়দ সাইফুল ইসলাম, শেখ সুমন তরফদার, বদরুল হক, ও নাজমুল ইসলাম সুমন, সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা -বিগত ২৯ জানুয়ারী রবিবার বারমিংহামে অনুষ্ঠিত জিএসসির একতরফা নির্বাচনকে একটি প্রহসন ও তামাশার নির্বাচন এবং এ কমিটিকে একটি অবৈধ কমিটি হিসাবে আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন । বক্তারা বলেন -বিজিএম ও নির্বাচনে ৭৪২ জন ভোটিং ডেলিগেইটসদের মধ্যে তাদের দেখানো মতে ৩১১ জন উপস্থিত হলেও ৪৩১ জন ডেলিগেইটস নির্বাচন বর্জন করেন । যদিও বর্জনকারী ডেলিগেটের প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি বলে দাবি করা হয়েছে । সভা থেকে বক্তারা জিএসসির সকল জেনুইন ডেলিগেট এবং সদস্যদের নির্বাচন বর্জন করায় আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ।
সভায় আগামী ১৩ই ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকেলে সারা দেশের জিএসসি নেতৃবৃন্দকে নিয়ে লন্ডনে সেইভ দ্যা জিএসসি ও আমাদের করণীয় শীর্ষক এক বিশেষ সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ।















