আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালতে নওয়াজ শরিফের প্রধানমন্ত্রিত্বের অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার ঘটনাকে রবিবার (৩০ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপন করতে যাচ্ছেপাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ (পিটিআই)। এদিন দলটির আয়োজনে বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্যারেড গ্রাউন্ডে গণসমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। দিনটিকে ‘থ্যাংকস গিভিং ডে’ হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিটিআই। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন ওই গণসমাবেশ আয়োজনে শর্তসাপেক্ষে অনাপত্তিপত্র দিয়েছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (২৮ জুলাই) সুপ্রিমকোর্ট নওয়াজ শরিফকে অযোগ্য ঘোষণা করার পর পিটিআই নেতা ইমরান খান ‘থ্যাংকসগিভিং ডে’ উদযাপনের ঘোষণা দেন। শনিবার দলটির মিডিয়া অফিস থেকে জানানো হয়, পিটিআই-এর ইসলামাবাদ অংশের প্রেসিডেন্ট রাজা খুররাম নওয়াজ গণজমায়েতের জন্য কেন্দ্রিয় প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে অনুমতি চেয়েছেন। মৌখিক অনুমতি পাওয়ার পর শনিবার সকাল থেকে জমায়েত শুরু হয় প্যারেড গ্রাউন্ডে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমাবেশের জন্য অনাপত্তি পত্র মিললেও যুক্ত করা হয়েছে কিছু শর্ত। অনুমতিপত্রে বলা হয়েছে, ‘রবিবার বিকেল ৪ টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে প্যারেড গ্রাউন্ডে এ জমায়েত অনুষ্ঠিত হতে হবে। রাষ্ট্রবিরোধী, ধর্মবিরোধী/সাম্প্রদায়িক কিংবা পাকিস্তানের মতাদর্শবিরোধী কোনও স্লোগান বা বক্তব্য দেওয়া যাবে না। কোনও রাজনৈতিক বা ধর্মীয় দল কিংবা ব্যক্তির কুশপুত্তলিকা/পতাকা পোড়ানো যাবে না।’
ওই গণসমাবেশের এলাকায় বা আশেপাশে অস্ত্র/আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।ওয়েস্ট পাকিস্তান অ্যামপ্লিফায়ার অর্ডিন্যান্স ১৯৬৫ এর বিধিনিষেধের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে ডেক স্পিকারের শব্দের মাত্রা রাখতে বলা হয়। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা এবং ওই এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গনসমাবেশে যোগ দেওয়া যেকোনও ব্যক্তি ও গাড়িতে নিরাপত্তা পরীক্ষার ক্ষেত্রে পুলিশকে বাধা দেওয়া যাবে না বলেও সতর্ক করা হয়।
এরপর শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় প্রশাসনও পিটিআইকে অনাপত্তি পত্র প্রদান করে।
শুক্রবার (২৮ জুলাই) পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি মামলায় নওয়াজ শরিফকে অযোগ্য ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্টের রায় দেওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করেন। নওয়াজের পদত্যাগের পর ইমরান খান বলেছিলেন, ‘আজ পাকিস্তান জিতেছে। নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে আমার কোনও ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। ৪০ বছর ধরেই তার (নওয়াজ) পরিবারকে চিনি আমি। তিনি আমার কিছু কেড়ে নেননি। কিন্তু তিনি এদেশের মানুষের সঙ্গে অপরাধ করেছেন। ফলে আমরা চেয়েছি তিনি জবাবদিহিতার মধ্যে থাকুন।’















