ওয়ানবাংলানিউজ: পূর্ব লন্ডনের অন্যতম প্রাচীন হজ্জ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান আল-ক্বিবলাহ ট্রাভেলস গৌরবের পথচলার ১৭ বছর উদযাপন করলো। ১৭ বছর পূর্তি ও ২০১৯ সালের হজ্ব পুনর্মিলনী উপলক্ষে ৮ ডিসেম্বর রোববার দুপুরে আয়োজন করা হয় এক প্রাণবন্ত অনুষ্ঠান।
পূর্ব লন্ডনের দ্যা অ্যাট্রিয়াম ব্যানকুয়েটিং হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সাড়ে ৪শত পুরুষ-মহিলা ও বিশিষ্টজনের সমাগম ঘটে। হাজীরা পুরো সময় ছিলেন হজ্জের স্মৃতিচারণে নিমগ্ন। হজ্জ পুনর্মিলনীতে এসে তারা যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন মক্কা মদীনায়। কিছু সময়ের জন্য দুনিয়াবী জঞ্জাল ভুলে গিয়ে বিচরন করেছিলেন মিনা, মুজদালিফা, জামারা ও আরাফায়। হজ্জের স্মৃতিচারণ করে কাটে পুরো দিনটি।
অনুষ্ঠানে আল-ক্বিবলার পরিচালকবৃন্দ হাজীদের সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন । তাঁরা বলেন, আল-ক্বিবলাহ ট্রাভেলস হাজ্বীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে থাকে। হিথ্রো এয়ারপোর্টে যাত্রীদের ফ্লাইট হওয়ার পর থেকে লন্ডনে ফিরে আসা পর্যন্ত হাজ্বীদের সর্বোত্তম সেবা প্রদানের চেষ্টা করা হয়। আল-ক্বিবলাহ ট্রাভেলস ব্যবসার চাইতে সেবাকে প্রধান্য দিয়ে থাকে।
আল-ক্বিবলাহ ট্রাভেলস এর ম্যানেজিং ডাইরেক্টর আনওয়ার আলীর সভাপতিত্বে ও ডাইরেক্টর আলহাজ্ব খান এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সারে ইসলামিক সেন্টার মস্ক এর ইমাম ও খতীব মাওলানা আব্দুর রব এব বিবিসি সেন্টার মসজিদের খতীব মাওলানা শায়খ আবু সাঈদ আনসারী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আল-কিবলাহ ট্রাভেলসের হজ্জ এন্ড উমরা বিভাগের প্রধান মাহবুবুর রহমান চৌধুরী। এতে হজ্জযাত্রীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হাজী মোঃ শফিউল ইসলাম ও হাজী মোঃ সাদিকুর রহমান । শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সোলায়মান আলী। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামদ ও নাত পরিবেশন করে ম্যাসেজ কালচারাল গ্রুপ। অনুষ্ঠানে পাওয়ার প্রজেক্টরের মাধ্যমে ২০১৯ সালে হজের ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ১৭ বছর ধরে আল-ক্বিবলাহ ট্রাভেলস নিয়মিত হজ্ব সেবা প্রদান করে আসছে। এটি হজ্বযাত্রীদের বিচিত্র অভিজ্ঞতা বর্ণনা ও পারস্পারিক মতবিনিময়ের একটি উপযুক্ত মাধ্যম। এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন নিঃসন্দেহে যেকোনও প্রতিষ্ঠানের সেবার মান বৃদ্ধি করে থাকে।
শায়খ আবু সাঈদ আসনারী বলেন, হজ্জ থেকে ফিরে আসার পর আমাদের জীবনধারায় কোনো পরিবর্তন হলো কি-না তা অনুধাবন করা খুবই গুরুত্বপুর্ণ । হজ্জের পর যদি আমরা আমাদের খারাপ অভ্যেসগুলো ত্যাগ করতে পারি। আগে নামাজ পড়তাম না এখন নামাজ পড়ি, আগে দাড়ি ছিলোনা এখন দাড়ি রেখেছি- এমন কোনো সুন্দর পরিবর্তন হয় তাহলে বুঝতে হবে আমাদের হজ্জ আল্লাহ তায়ালার কাছে কবুল হয়েছে।
হজ্বের পরে করনীয়- বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শায়খ মাওলানা আব্দুর রব বলেন, হজ্জ থেকে ফিরে আসার পর হাজীদের জন্য একটি গুরুত্বুপর্ণ বিষয় হলো হজের কর্মকান্ড সবসময় নিজেদের মধ্যে রিফলেক্ট করা। যেমন- হজ্জের এহরাম বাঁধার পর থেকে আমাদের কান সবসময় লাব্বায়েকা আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক ধ্বনি শুনেছে । হজ্জ থেকে ফেরার পর যখন আমাদের কান কোনো নাজায়েজ কাজের ধনি শুনবে তখন লাব্বায়েকার ধনি কানকে বাধা দিবে । আমরা মনে মনে বলবো আমি যে কান দিয়ে লাব্বায়েকা শুনেছি সেই কান দিয়ে আর নাজায়েজ কাজের ধ্বনি শুনতে পারবো না। আমার যে চোখ দিয়ে আল্লাহ তায়ালার ঘর দেখেছি ওই চোখ দিয়ে আমি আর নাজায়েজ জিনিস দেখতে পারবো না । আমি এমন একটি ঘরের চারপাশে পায়ে হেঁটে প্রদক্ষিন করেছি যে জায়গা দিয়ে আদি পিতা আদম (আঃ) থেকে নিয়ে রাসুল (সাঃ) পর্যন্ত পায়ে হেঁটেছেন । সেই পা দিয়ে আমি কীভাবে নাজায়েজ জায়গায় হাঁটবো। এভাবেই হজ্জের কাজগুলো আমাদের প্রতিটি কাজে প্রতিফলিত হতে হবে।
হাজী শফিউল ইসলাম তাঁর হজ্জের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে আল ক্বিবলাহ ট্রাভেলসের হজ্জ-ব্যবস্থাপনার ভুয়শী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আল ক্বিবলাহর মুয়াল্লিমগণ খুব অভিজ্ঞ ও আন্তরিক। তাঁরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি হজ্জের কর্মকান্ডে আমাদের পাশে ছিলেন। অন্যান্য ক্ষেত্রেও সন্তুষ্টজনক সেবা পেয়েছি। তবে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে যে ধরনের সার্ভিস দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এজেন্সিগুলো মানুষকে হজ্জে নিয়ে যায় তার সাথে বাস্তবতার মিল পাওয়া যায়না। অনেক সময় যে হোটেলের কথা বলা হয়, সেখানে গিয়ে সেই হোটেল পাওয়া যায়না। তাই হজ্জ এজেন্সিগুলোকে তাঁদের প্রতিশ্রুত সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে তিনি আহবান জানান।
আল ক্বিবলা ট্রাভেলসের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর আনওয়ার আলী বলেন, হজ্জ একটি বিশাল ধর্মীয় অনুষ্ঠান। বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষ একই সময় একইসাথে হজ্জ পালন করে থাকেন। তাই কারো পক্ষে শতভাগ সন্তুষ্টজনক সেবা প্রদান করা সম্ভব নয়। আমরাও নিজেদেরকে শতভাগ সফল বলে দাবী করবো না। তবে আমরা শতভাগ সেবা দেয়ার চেষ্টা করে থাকি মাত্র। হজ্জের সময় মক্কা মদীনায় হাজীদের সাথী হয়ে পাশে থাকার চেষ্টা করি। তিনি তাঁদের জানার মধ্যে অথবা অজান্তে কোনো ভুল-ক্রুটি হয়ে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান।
ডাইরেক্টর আলহাজ্ব খান বলেন, আল-ক্বিবলাহ ট্রাভেলসের যাত্রা শুরু হয় ২০০২ সালে। কিন্তু আমরা হজ্জ পুনর্মিলনী করে আসছি বিগত ১১ বছর যাবত। এই হজ্জ পুনর্মিলনী আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতি বছরই সেবার মান উন্নত করতে পারছি। কারণ হাজীদের কাছ থেকে আমরা ফিডব্যাক পেয়ে থাকি। সে আলোকেই পরবর্তী বছর সার্ভিস উন্নত করার চেষ্টা করি। তিনি বলেন, আমরা শুধু ব্যবসার কথা চিন্তা করিনা। ধর্মীয় সেবার কথা মাথায় নিয়েই কাজ করি। মানুষ হিসেবে ভুলত্রুটি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তাই আমরা আশাবাদী থাকবো ছোট খাটো ভুলগুলো হাজিরা ক্ষমা-সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেনে যাত্রা শুরু করে সৌদি হজ্ব মন্ত্রণালয় অনুমোদিত হজ্ব অ্যাজেন্সি আল-ক্বিবলাহ ট্রাভেলস। বর্তমানে প্রতি বছর ৫০০ হজ্বযাত্রী নিয়ে যাওয়ার লাইসেসিং ক্ষমতা রয়েছে এই ট্রাভেলস অ্যাজেন্সির। তাছাড়া প্রতি বছর আরো প্রায় ১ হাজার মানুষ ওমরা করে থাকেন।















