ওয়ানবাংলানিউজ: যুক্তরাজ্য প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমানকে চিগওয়েলের ফাইভ অক্স কবরস্থানে চীরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ৮ই আগষ্ট বাদ জোহর পূর্ব লন্ডন মসজিদে নামাজে জানাজা ও রাষ্ট্রিয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সমাহিত করা হয় বীর এই মুক্তিযোদ্ধাকে।
নামাজে জানাজা শেষে জাতীয় পতাকা জড়ানো কফিনে পুস্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রয়াত মতিউর রহমানের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান ব্রিটেনে বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনার মোহাম্মদ জুলকারনাইন। এসময় বীর এই মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনিমের প্রেরিত শোক বাণীর একটি কপি তুলে দেয়া হয় মতিউর রহমানের মেয়ের হাতে। মরদেহ কবর স্থানের পথে রওয়ানা হওয়ার আগে ফয়জুর রহমান খানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি গ্রুপ স্যালুট প্রদান করে তাদের রনাঙ্গনের সহযোদ্ধা প্রয়াত মতিউর রহমানের প্রতি। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, লোকমান হোসেইন, আবু মুসা হাসান, মাহমুদ হাসান এমবিই, আমান উদ্দিন, ইন্জিনিয়ার মিফতা ইসলাম, গৌস সুলতান, আহবাব চৌধুরী ও বদরুদ্দিন চৌধুরী।
মুক্তিযোদ্ধাদের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মতিউর রহমানের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ফাইভ অক্স মুসলিম কবরস্থানে এবং প্রিয়জনদের উপস্থিতিতে শেষ শয্যায় শায়িত করা হয় তাঁকে।
গত ৬ আগস্ট স্থানীয় সময় ৬টা ১৮ মিনিটে বার্মিংহামে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় এই যোদ্ধা মৃত্যুর আগে তিন সপ্তাহ ধরে অসুস্থ অবস্থায় বার্মিংহাম সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
উল্লেখ্য, মতিউর রহমান ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। সেক্টর কমান্ডার মেজর মীর শওকত আলীর নেতৃত্বাধীন মুক্তিবাহিনীর ৫ নং সেক্টরের অধীনে সুনামগঞ্জের ভোলাগঞ্জ এলাকায় কয়েকটি সম্মুখ যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেন তিনি। তাঁর বাড়ী সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা পূর্বপার গ্রামে। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পূর্বে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুক্তরাজ্যে চলে আসেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ সেন্টারের একজন সদস্য।















