ওয়ানবাংলানিউজ: ‘দায়িত্বশীল নাগরিক-সম্মৃদ্ধ দেশ’ শিরোনামে ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সিরিজ ২০১৯ এর সভাপরিচালনা করেন মোসরেকা আফরোজে খাঁন ।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন সেন্টার ফর এনআরবি চেয়ারপার্সন এম এস সেকিল চৌধুরী । সভাপতি তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের শিল্পে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বিশ্বব্যাপী বিশেষ সেমিনার আয়োজন করছে এনআরবি।
দেশের ব্যবসায়ী, শিল্পপতিসহ বিশিষ্ঠজনেরা তাতে অংশ নিচ্ছেন। ইউএসএ সম্মেলনটি এনআরবির ‘বিশ্ব সম্মেলন সিরিজ-২০১৯’-এর একটি অংশ। এদিকে সম্মেলনের শুরুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও কমনওয়েলথ কুইনের সেমিনার উপলক্ষে দেয়া বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। বাংলাদেশের শিল্পক্ষেত্রের নানা অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন সেকিল চৌধুরী। মি. চৌধূরী বলেন, বাংলাদেশ এক সম্প্রীতির দেশ। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এখন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছে। ২০৩০ সালে বিশ্বের ৩০তম বৃহৎ অর্থনৈতিক দেশে পরিণত হবে। বাংলাদেশের বৈদেশিক আয়ের ৬৭ শতাংশই এখন আসছে এই এনআরবির অর্থের মাধ্যমে। এতে প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠানোর আহ্বান জানান । তিনি আরো বলেন, আপনাদের প্রেরিত রেমিটেন্স দিয়ে দেশে বিনিয়োগ করুন। বর্তমান সরকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে উৎসাহ প্রদান করছে। দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ সৃষ্টিতে ব্যাপক কাজ করছে সরকার । তিনি আরো বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে নিরাপদ, সুষ্ঠূ ও নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসন ব্যবস্থা তৈরি করা। যা প্রবাসী বাংলাদেশি অভিবাসীদের কল্যাণ ও অধিকার রক্ষা করবে। আমরা বিদেশে অবস্থানকারী প্রবাসীদের দেশে সংগঠিত হবার জন্য উৎসাহ প্রদান করছি। প্রবাসী বাংলাদেশিদের সার্বিক কল্যাণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। যে কোন উপায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে সর্ব প্রকার সাহায্য সহযোগিতার জন্য সরকার প্রস্তুত রয়েছে। গত বছর প্রবাসীরা নিজ নিজ দেশে ৪২৯ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনের পথে বিশেষ অবদান রেখেছেন। আর এ অর্থের পরিমাণ হচ্ছে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত উন্নয়ন সহায়তার তিনগুণ বেশি। বেসরকারিভাবে অর্থনৈতিক স্থিতি অর্জনের পথে এই রেমিটেন্স প্রক্রিয়ার ভূমিকা অপরিসীম।” টেকসই উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে অভিবাসী ও প্রবাসীদের অবদান: সহায়ক পরিকাঠামো নির্মাণ’। প্রবাসী কমিউনিটির জন্য দেশে বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা এবং তাদের পাঠানো রেমিটেন্সের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবহারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। পাঠানো রেমিটেন্সের নিরাপত্তা বিধান, অভিবাসীদের অধিকার সংরক্ষণ, বৈষম্য দূরীকরণ, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং উন্নয়নের মূলধারায় অভিবাসী ও প্রবাসী কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশের এমন বেহাল দশা দেখে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে একটি “তলাবিহীন ঝুড়ি” বলে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু নিয়তির কী অদ্ভুত বলেন- কিসিঞ্জারের মন্তব্য সম্পূর্ণ ভুল ছিল বরং বাংলাদেশ একটি বহু সম্ভাবনার দেশ এবং শিগগিরই এদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। আবার, ২০১৩ সালে জাতিসংঘের এক রিপোর্টেও বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় অর্থনৈতিক সম্ভবনাময় দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এখন প্রশ্ন হল, এত বড় বড় বাধা-বিপত্তি মোকাবিলা করে বাংলাদেশ কীভাবে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছালো? এমন অভুতপূর্ব অগ্রগতির পেছনে কোন জাদুর কাঠিরই বা স্পর্শ রয়েছে?
প্রবাসী আয়ের প্রবাহের প্রভাব আমাদের অর্থনীতির ব্যাষ্টিক ও সামষ্টিক উভয় ক্ষেত্রেই বৈচিত্র্যময়। ব্যষ্টিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে, প্রবাসী আয় প্রবাহ সরাসরি আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে পারিবারিক বাজেট প্রতিবন্ধকতা হ্রাস করছে। এই প্রবাসী আয় দ্বারা অভিবাসী পরিবার অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভোগ ব্যয় পূরণ করছে। প্রবাসী আয় অর্জন বৃদ্ধি এবং তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা। কারণ, এসডিজি লক্ষ্যসমূহ অর্জনের পাশাপাশি ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে এবং দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে ধারাবাহিক প্রবাসী আয় অর্জনের কোনো বিকল্প নেই।
সম্মেলনে আলোচক হিসেবে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন্নেসা,প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে সম্পৃক্ত রাখা এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে বিদেশীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করে কনসাল জেনারেল বিষয়টির প্রয়োজনীয় সব রকমের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন। কনসাল জেনারেল আরো বলেন, বাংলাদেশী-আমেরিকান নাগরিকদের কল্যাণের জন্য একযোগে কাজ করার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ সব ধরনের চলমান সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
আলোচক হিসেবে ছিলেন-ডিজি এন আইডি ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুল ইসলাম এনডিসি পিএসসি, উপস্থাপন করেন এনআইডি কিভাবে বিতরণ হচ্ছে, স্মার্টকার্ড কিভাবে কাস্টমাইজ হচ্ছে, আগামীতে কী করা হবে সেসব তুলে ধরেন। এ ছাড়া ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা ছাড়াও বিদেশগমনসহ সেবাপ্রাপ্তিতে স্মার্টকার্ডের সুবিধার বর্ণনা দেন তিনি।
এনআইডি উইং-এর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, স্মার্টকার্ড দিয়ে অন্য দেশে ভ্রমণের সুবিধাটি আমরা অবশ্যই বাস্তবায়ন করব। শুরুতে শুধু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় চালু করার বিষয়টি পরিকল্পনায় রেখেছিলাম। কিন্তু এখন আমাদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরেও সারা বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ সুবিধা চালু করার।
তিনি আরও বলেন, আমরা দেখছি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কীভাবে স্মার্ট কার্ডের মধ্যে সংরক্ষিত সার্ভারের তথ্য ব্যবহার করে মানুষকে চিহ্নিত করা যায়, সেই চেষ্টা অব্যাহত আছে। আমরা কাজ শুরু করেছি। পূর্ণ গতিতে এগিয়ে যাচ্ছি। যেহেতু বিভিন্ন দেশের সঙ্গে লিংক করার বিষয় রয়েছে, সেই বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তারা কীভাবে এটি ব্যবহার করবে। একটি নতুন বিষয় শুরু করতে অনেক চ্যালেঞ্জ আসে। আমরা খুব দ্রুত এটি শুরু করব। প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনের কাজ শুরু হওয়ার পর এই বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করব।
প্রসঙ্গত, ইসি প্রবর্তিত স্মার্টকার্ডের মধ্য পাঁচটি স্তরে ২৫টি সিকিউরিটি ফিচার আছে। কার্ডে পাঁচটি লেয়ারে সিকিউরিটি ফিচার রয়েছে। এ ছাড়াও এ কার্ডের মধ্যে সংরক্ষিত আছে নাগরিকের সম্পূর্ণ বায়োডাটা। এর বাইরে কার্ডের ভেতরে একটি অংশে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, জাতীয় সংগীত, বাংলাদেশের মানচিত্র, শাপলা ফুল, আলট্রাভায়োলেট রে, চোখের আইরিশ, বায়োমেট্রিক, ফিঙ্গার প্রিন্টসহ আরও কয়েকটি ফিচার আছে। এছাড়া একজন মানুষের ৩১টি ডাটা আছে। এই ডাটাগুলো বিশেষ মেশিনে কার্ড পাঞ্চ করলেই দেখা যায়।
জানা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি টেকসই কার্যক্রম ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সম্মান বিবেচনায় বাংলাদেশ গত বছরের ২৭ আগস্ট থেকে দেশীয় প্রযুক্তি, নিজস্ব জনবলের মাধ্যমে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র উৎপাদন করছে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি উইং।

এ ছাড়া সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শাহাব উদ্দিন পাটোয়ারী, মিনিস্টার (ইকোনোমিক), বাংলাদেশ দূতাবাস, ওয়াশিংটনডিসি, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, প্রবাসীদের অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে।
দেশকে এগিয়ে নিতে প্রবাসীদের অবদান অপরিসীম। বাংলাদেশিরা সম্মানের জায়গা করে নিয়েছেন।বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব নীতির ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আসতে শুরু করেছে। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার জন্য প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০০টি স্পেশাল ইকোনোমিক জোন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। এগুলোর বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে।
সম্মেলনে প্রবাসীদের সমস্যা ও সম্ভাবনার প্রস্তাব তুলে ধরেন, কমিউনিটি নেতা এ্যানীর মঈন চেীধূরী, মুক্তিযোদ্ধা , মুকিত চৌধুরী, আবু তাহের, প্রমুখ।
এ ছাড়া এসময় নিউইয়র্ক প্রবাসী বিশিষ্ট বাংলাদেশী নাগরিক, বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষবিদ, শিল্পী, সাংস্কৃতিককর্মী, সমাজসেবক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।














