জাতিসংঘের জঙ্গি তালিকায় মাসুদ আজাহার

380

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদ নেতা মাসুদ আজাহারকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেব ঘোষণা করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ একই সঙ্গে তাকে জাতিসংঘের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে চীন তাদের আপত্তি তুলে নেয়ায় পাকিস্তানের এই সন্ত্রাসী নেতাকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেব তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হলো। ফলে জাতিসংঘের এই পদক্ষেপকে বড় ধরনের কূটনৈতিক সফলতা হিসেবে দেখছে ভারত।

গত ফেব্রুয়ারিতে জম্মু কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফের ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ৪০ ভারতীয় জওয়ানকে হত্যা করার নেপথ্যে ছিল মাসুদের দল এই জইশ-ই-মোহাম্মদ। এরপরই তাকে জঙ্গি তালিকাভুক্ত করতে জোর প্রচেষ্টা চালায় ভারত। যদিও ১৯৯৯ সাল থেকেই এই চেষ্টা চালিয়ে আসছিলো ভারত।

কিন্তু এতদিন নিরাপত্তা পরিষদের অন্যতম সদস্য চীনের আপত্তির কারণে তাদের সে চেষ্টা সফল হয়নি। কিন্তু চীনের অবস্থান বদলাতে দেশটির ওপর ভারতের পাশাপাশি চাপ বাড়িয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্স। যার ফলে বেইজিং তাদের দীর্ঘদিনের আপত্তি থেকে সরে আসে এবং অবশেষে ভারতের প্রচেষ্টা সফল হয়। মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে জাতিসংঘ।

বুধবার জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা টুইট করে জানান সেখানে নিযুক্ত ভারতের প্রতিনিধি সৈয়দ আকবরউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘বড় ছোটো সবাই একসঙ্গে। জাতিসংঘের তালিকায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি মাসুদ আজাহার। সমর্থনের জন্য সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’

জাতিসংঘের এই পদক্ষেপের ফলে মাসুদ আজাহারের সমস্ত অর্থ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। তার বিদেশ ভ্রমণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

জাতিসংঘের এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা হবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে পাকিস্তান। যদিও এ নিয়ে তারা জম্মু-কাশ্মীরের ওপর ভারতীয় নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে বলেছে, কেবল জইস-ই- মোহাম্মদ নয়, পৃথিবীর বুক থেকে সব ধরনের সন্ত্রাস উচ্ছেদ করা উচিত। পাকিস্তান সব ধরনের সন্ত্রাসের বিপক্ষে।

এদিকে মাসুদ আজহারকে জঙ্গি তালিকাভুক্ত করায় ভারতের চলমান লোকসভা নির্বাচনে মোদির দল বিজেপি নির্বাচনী প্রচারণায় বড় ধরনের ফায়দা তুলবে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ইতিমধ্যেই এ নিয়ে প্রচার শুরু করেছেন মোদি এবং একে তিনি তার সরকারের বড় সফলতা হিসেবে দাবিও করেছেন।

বুধবার রাজস্থানের এক জনসভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বালাকোট অভিযানের দিনও আমি রাজস্থানে ছিলাম। আজও বড় খবর নিয়ে এসেছি।’

বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ টুইট করেন, ‘এই জন্যেই শক্তিশালী নেতার প্রয়োজন। এটা সন্ত্রাসের প্রতি মোদির ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতির ফসল।’

সূত্র: বিবিসি