মিলন মাহমুদ: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক হঠকারী সিদ্ধান্তে আমেরিকার সংসদে বাজেট বরাদ্দ নিয়ে যখন অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তখনই রাশিয়া তার নতুন প্রজন্মের সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল।
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে অত্যন্ত সফল ও দেশবাসীর জন্য নতুন বছরের উপহার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বর্তমানে শব্দের চেয়ে চার গুণ গতি-সম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র আছে আমেরিকার হাতে কিন্তু রাশিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে 20 গুণ বেশি গতি-সম্পন্ন এবং ঘন্টায় 15 হাজার মাইল পাড়ি দিতে পারে। এই ক্ষেপণাস্ত্র সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হল প্রচলিত যেকোনো রাডার ব্যবস্থা বা ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা দিয়ে এই ক্ষেপণাস্ত্র কে আটকানোর কোন ভাবেই সম্ভব না এবং দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ এর মাধ্যমে এই ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ পরিবর্তন করে যে কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা সম্ভব সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র 2000 ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা সহ্য করার মতো ক্ষমতা থাকায়, অন্য কোনো ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে ও এটি ধ্বংস হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ভয়ংকর এই ক্ষেপণাস্ত্রের মূল শক্তি এর সুপারসনিক গতি যা শব্দের চেয়ে 20 গুণ বেশি।
গত মার্চ মাসে প্রেসিডেন্ট পুতিন এই অস্ত্রের ব্যাপারে ঘোষণা দিয়েছিলেন, কিন্তু পেন্টাগনের বিশ্লেষকরা বিষয়টাকে অতিরঞ্জিত হিসাবেই ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু গতকালকের সফল পরীক্ষায় 6 হাজার কিলোমিটার দূরত্ব পাড়ি দিয়ে যখন ক্ষেপণাস্ত্রটি তার লক্ষ্যবস্তুতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আঘাত করল তখন আর এটাকে ছোট করে দেখার কোন সুযোগ থাকেনা ।পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম অভ্যংগর্ড নামের এই ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে 20 গুণ গতিতে পৃথিবীর যে কোনো স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম ,এবং তা প্রতিরোধের কোন যন্ত্র বা বাবস্থা এখনো আবিষ্কার হয়নি। ধারণা করা হয় আগামী 5 থেকে 10 বছরের মধ্যে আমেরিকাও এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপন্ন করা শুরু করবে কিন্তু তার আগেই রাশিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র আবিষ্কার সামরিক ক্ষেত্রে রাশিয়াকে আমেরিকার থেকে অনেক এগিয়ে দিয়েছে । প্রেসিডেন্ট পুতিন ঘোষণা দিয়েছেন এই অস্ত্র ইতিমধ্যে উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং আগামী বছর থেকে তা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় মোতায়েন করা হবে ।এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঘোষণা তখনই এলো যখন আমেরিকার সবচেয়ে বড় মিত্র ইজরাইল সিরিয়ায় বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে একটি ব্যর্থ হামলা চালায় এবং প্রেসিডেন্ট পুতিন এই হামলাকে সরাসরি উস্কানি হিসাবে চিহ্নিত করে মন্তব্য করেন।উল্লেখ্য গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তান এবং সিরিয়া থেকে সৈন্য প্রত্যাহার ঘোষণা দিলে আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পদত্যাগ করেন এবং তার এই সিদ্ধান্ত নাটোর সদস্য দেশগুলোর কাছে কঠোরভাবে সমালোচিত হয়েছে ।রাশিয়ার বিরুদ্ধে সম্মিলিত সামরিক জোট নর্থ আটলান্টিক ট্রিয়েটি অর্গানাইজেশন সংক্ষেপে যা ন্যাটো নামে পরিচিত রাশিয়ার বিরুদ্ধে সম্মিলিত ভাবে সামরিক প্রাধান্য বিস্তারের জন্য রাশিয়ার সীমান্তবর্তী দেশগুলোতে সমাবেশ প্রশিক্ষণ ও মহড়া দিয়ে আসছে।
অতি সম্প্রতি সময়ে ইউক্রেনের সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক এতটাই খারাপ হয় যে রাশিয়া ইউক্রেনের দুটি যুদ্ধ জাহাজ আটক করে নিয়ে যায় এবং নাটক কঠোরভাবে এই ঘটনার সমালোচনা করে। রাশিয়ার এই সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র আবিষ্কারের এবং পরীক্ষার পরে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ঢেলে সাজাতে হবে। বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যা আয়রন শিল্ড বা আয়রন ডোম নামে পরিচিত তা এখন এই ক্ষেপণাস্ত্র সামনে অকার্যকর ও পুরাতন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসাবে পরিগণিত হবে । রাশিয়ার বিরুদ্ধ শক্তি তথা ন্যাটো ভুক্ত দেশগুলো রাশিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র থেকে তাদেরকে রক্ষা করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হবে। এই ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়া বিশ্বের যে কোন দেশে যে কোন মুহূর্তে হামলা করার ক্ষমতা রাখে এবং কোন দেশি এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করার মত ক্ষমতা রাখে না ।
নানারকম অর্থনৈতিক অবরোধ সত্ত্বেও সামরিক খাতে রাশিয়ার এই বিপুল উল্লেখযোগ্য সাফল্য আমেরিকা ইজরাইল ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর কাছে রীতিমতো আতঙ্কের বিষয়ে পরিণত হয়েছে ।ফলে অন্যান্য দেশও এখন তাদের অস্ত্র গবেষণা ও উন্নয়নের দিকে আরো বেশি অর্থ ও শক্তি বিনিয়োগ করবে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে যদিও রাশিয়া ইতিমধ্যে তাদেরকে পাঁচ থেকে ছয় বছর পিছনে ফেলে দিয়েছে।














