সেই হলি আর্টিজানে সুনসান নীরবতা

708

ঢাকা সংবাদদাতা: গত বছরের ১ জুলাই গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কের শেষ মাথায় হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গিরা যে হামলা চালিয়েছিল, সেই বাড়িটি এখন সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। হলি আর্টিজান নামক বেকারি এরইমধ্যে অন্যত্র সরে গেছে। একই কমপ্লেক্সের বিপরীত দিকে লেকভিউ ক্লিনিক, কিন্তু ক্লিনিকে গত এক বছরে আগের তুলনায় রোগীর সংখ্যা কমে গেছে। পুলিশের ক্রাইম সিন হিসেবে তালাবদ্ধ থাকার পর গত বছরের ১৪ নভেম্বর বাড়িটি মালিক সাদাত মেহেদীর কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সেদিন থেকেই ভবন সংস্কারের কাজ শুরু করেন তিনি। সাদাত মেহেদী জানিয়েছেন, বাড়িটি আবারও বসবাসের উপযোগী করে তুলছেন। সেখানে পরিবার নিয়ে থাকবেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে ৭৯ নম্বর সড়কের শেষ মাথায় হলি আর্টিজানে গিয়ে দেখা গেল, লেকভিউ ক্লিনিক ও হলি আর্টিজান বেকারি মূল কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছেন দু’জন নিরাপত্তাকর্মী। এদের একজন আকতার ও আরেকজন নুরুজ্জামান জানালেন, বাড়ির কাজ এখনও শেষ হয়নি। কাজ চলছে, ভেতরে প্রবেশ নিষেধ। যদিও মাস কয়েক আগে এই প্রতিবেদক ভবনের ভেতরের প্রতিটি কক্ষে ঘুরে দেখেছেন। জঙ্গি হামলার পর অপারেশন থান্ডারবোল্টে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া ভবনটি সংস্কার চলছিল তখনও।

হলি আর্টিজানের সেই বাড়িটিতে চলছে সংস্কারের কাজ
নিরাপত্তারক্ষী নুরুজ্জামান সেদিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘সন্ধ্যা সাতটায় ডিউটি শেষ করে বাসায় যাওয়ার পরপরই তিনি জানতে পারেন তাদের রেস্তোরাঁয় হামলা হয়েছে। খবর পেয়ে ছুটে এসেছিলেন। সহকর্মীদের জন্য রাতভর টেনশনে ছিলেন।’ নুরুজ্জামান বলেন, ‘একসময় বিকা্ল হলেই সবুজঘাসের লন আর বেকারির চেয়ারটেবিল ভর্তি থাকতো। এখন তো রেস্তোরাঁও বন্ধ। সন্ধ্যার পর ওদিকে কেউ যায়ও না।’

উল্লেখ্য, গত বছরের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে নিহত হয় তিন বাংলাদেশি নাগরিকসহ ২০ জন। অন্যদের মধ্যে ৯ জন ইতালির, ৭ জন জাপানের এবং একজন ভারতীয়। এছাড়া জঙ্গিদের হামলার শুরুতেই তাদের আক্রমণে দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। রেঁস্তোরার ভেতরে রাতভর জিম্মি ছিলেন অন্তত ২৪ জন, যাদের প্রায় ১১ ঘণ্টা পর পরদিন সকালে সেনা কমান্ডো পরিচালিত অপারেশন থান্ডারবোল্টের সময় উদ্ধার করা হয়। এছাড়া রাতের বিভিন্ন সময় উদ্ধার করা হয় আরও অন্তত ৭ জনকে। অপারেশন থান্ডারবোল্টের পর রেঁস্তোরা থেকে ৫ জঙ্গিসহ ৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া পালাতে গিয়ে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরেক রেস্তোরাঁকর্মী। এ ঘটনায় গুলশান থানায় দায়ের হওয়া মামলাটি কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট তদন্ত করছে।