ফের নির্বাচন পেছানোর দাবি বিএনপির

316

ঢাকা সংবাদদাতা: ইসি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক সপ্তাহ পেছানোর ঘোষণা দিলেও বিএনপি ভোট এক মাস পেছানোর দাবিতে অনড় রয়েছে। দলটি বলছে, সরকারের কৌশলের অংশ হিসেবেই নির্বাচন কমিশন ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দলের পক্ষ থেকে আবারো একমাস নির্বাচন পেছানোর দাবি জানিয়েছেন।

রিজভী বলেন, ‘২৫ ডিসেম্বর বড়দিন এবং ৩১ ডিসেম্বর থার্টি ফার্স্ট নাইট থাকায় বিদেশি পর্যবেক্ষকরা যাতে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে না আসতে পারে সে কারণেই ৩০ ডিসেম্বরকে নির্বাচনের তারিখ হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সকল রাজনৈতিক দলের জন্য সমতল নির্বাচনী মাঠ তৈরি করতে নির্বাচনের তারিখ ১ মাস পেছানোর দাবি করছি।’

প্রথমে নির্বাচন কমিশন ২৩ ডিসেম্বর ভোটের দিন ধার্য করে। এতে নির্বাচনের তারিখ পেছানোর দাবি জানিয়ে আসছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও যুক্তফ্রন্ট। পরে নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে ৩০ডিসেম্বর করে নির্বাচন কমিশন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এবং বিকল্পধারা বাংলাদেশ পুনঃনির্ধারিত তফসিলকে স্বাগত জানালেও বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের পুনঃতফসিলে সরকারের ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটেছে।

ঐক্যফ্রন্টের দাবিতে অনড় থাকার কথা জানিয়ে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘নির্বাচনের শিডিউল এক মাস পেছাতে হবে। নির্বাচনে সবার জন্য মাঠ সমতল করতে হবে। শুধু নিজের জন্য মাঠ সমতল করবেন আর অন্যদের বের করে দেবেন এটা চলবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে রিজভী অভিযোগ করেন, ‘তফসিল ঘোষণার পরও সারাদেশে তাদের নেতা-কর্মীদের ‘নাশকতার মামলা দিয়ে হয়রানি’ করা হচ্ছে। সোমবারও সারাদেশে তাদের অনেক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

সুষ্ঠু নির্বাচন চাইলে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির দাবি জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘এটা নিজস্ব জমিদারি মনে করে জোর করে ভয় দেখিয়ে, গোয়েন্দাদের পাঠিয়ে আপনারা গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করবেন- এটা চলবে না।’

সিলেটের বিশ্বনাথ, ওসমানী নগর, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ, ভোলা, পাবনা, নড়াইলসহ বিভিন্ন জেলায় গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের একটি তালিকা তুলে ধরে তাদের মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান রিজভী।