ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে ইসরাইলে কনসার্ট বাতিল, নিউজিল্যান্ডের শিল্পীর জরিমানা

611

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের দুজন নারী ইসরাইলের তেল আবিবে একটি কনসার্টে যোগদানের জন্য টিকেট কেটে পরবর্তীতে তা বাতিল করে দেন। এ ঘটনার জের ধরে ইসরাইলের একটি আদালত নিউজিল্যান্ডের ওই নারীদেরকে কনসার্ট কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে।

ইসরাইলের আদালতের দেয়া ক্ষতিপূরণের রায়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে তারা ফিলিস্তিনের গাজায় অবস্থিত একটি মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থাকে সহায়তা করার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অনুদান সংগ্রহ করেছেন। গত সপ্তাহে ইসরাইলের একটি আদালত নিউজিল্যান্ডের দুজন সঙ্গীত শিল্পী জাস্টিন সাচেস এবং নাদিয়া আবু-শানাবকে কনসার্ট আয়োজনকারী ইসরাইলি নাগরিক সোশানা স্টেইবেচ, আয়েলেত ওয়ার্টেজ এবং আহুভা ফ্রোগেলকে অন্তত ১৮,০০০ হাজার নিউজিল্যান্ড মুদ্রার সমমানের অর্থ প্রদান করতে নির্দেশ দেয়।

ইসরাইলের আদালতের মতে নিউজিল্যান্ডের ওই দুই নারী কনসার্টের আয়োজনকারী তিন ইসরাইলির ‘শৈল্পিক মূল্য’ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং একই সাথে তারা ‘ইসরাইল এবং ইহুদিদের সুনাম’ নষ্ট করেছে। তবে সাচেস এবং আবু-শানাব বলেন, ইসরাইলি আদালতের ক্ষতিপূরণের রায় দেয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তাদের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে আর্থিক সাহায্যের প্রস্তাব আসতে থাকে।

কিন্তু সাচেস এবং আবু-শানাব পরবর্তীতে বলেন, ইসরাইলি আদালতের দেয়া রায় অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান করার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই এবং তাদের নিযুক্তিয় আইনজীবীর বরাত দিয়ে তারা জানিয়েছেন যে, যেহেতু তারা ইসরাইলে অবস্থান করছেন না সেহেতু তারা ইসরাইলের আইনগত কার্যক্রমে অংশ নিবেন না। সাচেস এবং আবু-শানাব বরং গাজা মেন্টাল হেল্থ ফাউন্ডেশনের জন্য অর্থ যোগান দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন এবং ইতোমধ্যেই তাদের এই উদ্যোগে ৪০০ জনেরও বেশী দাতা আগ্রহী হয়েছেন।

ইসরাইলি বংশদ্ভূত সাচেস এবং ফিলিস্তিনি বংশদ্ভূত আবু-শানাব এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা আদালতের দেয়া রায় অনুযায়ী অর্থ প্রদান করবো না বরং আমরা ফিলিস্তিনিদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়াতে চাই।’

নিউজিল্যান্ড পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তার দেশের আদালতই নির্ধারণ করবে কথিত ক্ষতিপূরণ আদায় যোগ্য কিনা। দেশটির বিভিন্ন আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন এমনটি আপনা আপনিই হবে না বরং নিউজিল্যান্ডের আদালত কর্তৃক এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য একটি মামলা চালু করতে হবে। প্রসঙ্গত, ইসরাইলের সংস্কৃতিকে বয়কট করার জন্য ২০১৫ সালে Boycott, Divestment and Sanctions (BDS) নামের একটি আন্দোলন চলমান রয়েছে এবং চলতি বছরে তা আরো কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

সূত্রঃ দ্যা গার্ডিয়ান।