ঢাকা সংবাদদাতা: জাতীয় নিবার্চন এলেই জোট-মহাজোট গড়ার তোড়জোড় শুরু হয়। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনকে ঘিরেও সে তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে দুই খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেনসহ কয়েকটি ছোট রাজনৈতিক দলের নেতারা একজোট হয়ে ‘জাতির ক্রান্তিলগ্নে’ কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। দুদিন আগে মঙ্গলবার রাতে যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরামের নেতারা এ নিয়ে বৈঠক করেন। কিন্তু সেই বৈঠকে ছিলেন না কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কোনো প্রতিনিধি। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে মতিঝিলে গণফোরামের কার্যালয়ে দলটির সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সকাল ১১টার দিকে গণফোরাম কার্যালয়ে যান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। সেখানে ঘণ্টাখানেকের এ বৈঠকে কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে ছিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে যা নিযে আলোচনা হতে পারে আমাদের মধ্যেও তাই নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সব কথা তো বলা যাবে না।’
কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা খোলাসা না করলেও আগামী সংসদ নির্বাচনের বিষয়েই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের এ নেতার বক্তব্যে।
বর্তমান পরিস্থিতিকে আপনারা কেন সংকটময় পরিস্থিতি মনে করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আপনি যে এখান থেকে অফিসে যেতে পারবেন তার কোনো গ্যারান্টি আছে? যদি না থাকে তাহলেই তো সংকট। এ রকম অসংখ্য সংকট আছে।’
কী ধরনের নির্বাচন হলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন মনে করবেন জানতে চাইলে বঙ্গবীর বলেন, ‘যে নির্বাচন সকলে মেনে নেবে, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হবে সে ধরনের নির্বাচন হলেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বলে মেনে নেব।’
সম্প্রতি সাবেক রাষ্ট্রপতি বি. চৌধুরীর বিকল্পধারা, ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য ও আ স ম আবদুর রবের জেএসডির সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে সরকারবিরোধী আন্দোলনের হাঁকডাক দেয়া হয়। বস্তুত সেটি বাস্তবতার রূপ দেখেনি।
এরপর গত মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) রাতে এই যুক্তফ্রন্টের নেতারা ও জাতীয় ঐক্যপ্রত্যাশী কয়েকজন মিলে ড. কামাল হোসেনের বাসায় বৈঠকে মিলিত হন। প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘জাতির ক্রান্তিলগ্নে’ তারা একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ লক্ষ্য এবং পরবতীর্ আন্দোলন কমর্সূচির বিষয়ে চার সদস্যের একটি সাব-কমিটি করা হয়েছে।
তাদের এই জোট রাজনৈতিক মহলে আলোচনার খোরাক হয়েছে।














